kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

ইউক্রেনের বন্দর দিয়ে শস্য রপ্তানি শুরু রাশিয়ার

অনলাইন ডেস্ক   

৩০ জুন, ২০২২ ২২:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউক্রেনের বন্দর দিয়ে শস্য রপ্তানি শুরু রাশিয়ার

বারদিয়ানস্ক বন্দরে এক রুশ সেনা- ছবি: এএফপি

যুদ্ধের জেরে ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রচণ্ড উদ্বেগের মধ্যে রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় বন্দর দিয়ে শস্য রপ্তানি শুরু করেছে তারা।  

ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চলে রুশপন্থী প্রশাসনের প্রধান ইভজেনি বালিতস্কি জানান, ইউক্রেনের বারদিয়ানস্ক বন্দর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সাত হাজার টন খাদ্যশস্য রপ্তানি করেছে রাশিয়া। তিনি বলেন, ‘অনেক মাস বন্ধ থাকার পর প্রথম বাণিজ্যিক জাহাজটি সাত হাজার টন শস্য নিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর উদ্দেশে বারদিয়ানস্ক বন্দর ছেড়ে গেছে। ’ তবে জাহাজটির গন্তব্য কোথায় সে বিষয়ে কিছুু জানানটি বালিতস্কি।

বিজ্ঞাপন

কয়েক সপ্তাহ ধরে রাশিয়া ও এর মিত্রদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় শস্য চুরির অভিযোগ করছে কিয়েভ। ইউক্রেন সরকারের দাবি, এত দিন স্থলপথে শস্য পরিবহন করা হচ্ছিল।

পর্যবেক্ষকদের মতে, গতকাল থেকে জাহাজের মাধ্যমে শস্য পরিবহনের অর্থ হলো গম রপ্তানির জন্য সমুদ্রপথ খুলছে।

বিশ্বব্যাপী খাদ্যঘাটতি সৃষ্টির পেছনে ইউক্রেনের বন্দরগুলো থেকে শস্য রপ্তানি বন্ধ থাকা অন্যতম কারণ। কারণ ওই দেশ থেকে বৈশ্বিক গম সরবরাহের বেশির ভাগ আসে ইউক্রেন থেকে। দেশটিকে ইউরোপের রুটির ঝুড়িও বলা হয়।

বারদিয়ানস্ক দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের একটি বন্দর। মস্কোর সামরিক হস্তক্ষেপের প্রথম সপ্তাহ থেকে জাপোরিঝিয়া ও খেরসন শহর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে ছিল।

এ দুটি শহরের রাশিয়াপন্থী কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাঁরা সেখানে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো এবং সম্পত্তি জাতীয়করণ করেছেন এবং স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কিনে নিয়েছেন।

এদিকে ইউক্রেনের স্নেক দ্বীপ থেকে সেনা সরিয়ে নিয়েছে রাশিয়া, যে দ্বীপ দিয়ে কিয়েভ কৃষিপণ্য রপ্তানির সুযোগ পাবে। সেনা সরানোকে রাশিয়া ‘বন্ধুত্বের মনোভাব’ আখ্যা দিয়েছে। তবে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারকে রাশিয়ার এক ধরনের পরাজয় হিসেবে দেখছে ইউক্রেনপন্থীরা। পশ্চিমা দেশগুলো থেকে ইউক্রেন ক্ষেপণাস্ত্রসহ ভারী যুদ্ধসরঞ্জাম পাওয়ায় রাশিয়ার পক্ষে দ্বীপটি দখলে রাখা সম্ভব নয় বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান এভ্রিল হেইনিস বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্ল্লাদিমির পুতিন এখনো ইউক্রেনের বেশির ভাগ অঞ্চল দখলের লক্ষ্যে অটল। তবে শিগগির রাশিয়ার এই লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা কম।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া রুশ সেনারা এখন শুধু কিছু ছোট ছোট এলাকা দখলের সামর্থ্য রাখে, তা-ও ধীরগতিতে। এ কারণে যুদ্ধ আরো দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে বলে মন্তব্য করেন হেইন্স।

কিয়েভ দখলের প্রাথমিক লক্ষ্য ব্যর্থ হওয়ার পর রাশিয়া এখন ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল দখলের চেষ্টা করে অনেকটা সাফল্য পেয়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেনকে নতুন করে ১০০ কোটি পাউন্ডের সামরিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য, যা কিয়েভকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের দেওয়া সহায়তার প্রায় দ্বিগুণ।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য তাঁর দেশের প্রতি মাসে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। সূত্র : এএফপি ও বিবিসি।

 



সাতদিনের সেরা