kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আগস্ট ২০২২ । ৪ ভাদ্র ১৪২৯ । ২০ মহররম ১৪৪৪

জি৭ : রাশিয়ার সোনা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক   

২৬ জুন, ২০২২ ২১:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জি৭ : রাশিয়ার সোনা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ

সম্মেলনস্থলে সমবেত জি-৭ নেতারা কোনো এক হালকা মুহূর্তে। ছবি : এএফপি

রাশিয়া থেকে সোনা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে একমত হয়েছেন বিশ্বের উন্নত সাতটি দেশের নেতারা। জার্মানির ব্যাভারিয়ায় জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন এই নেতারা। তাঁদের নজর রয়েছে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান সমর্থক চীনের গতিবিধির দিকেও।

আল্পস পার্বত্যাঞ্চলে ব্যাভারিয়ার এলমাউ ক্যাসেলে একত্র হয়েছেন বিশ্বের সাতটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের নেতৃস্থানীয় নেতারা।

বিজ্ঞাপন

সেখানে রাশিয়ার হামলা প্রশ্নে ইউক্রেনের কাছাকাছি অবস্থান নিতে এবং একই সময়ে যুদ্ধের কারণে বিশ্বে যে সমস্যাগুলো দেখা দিয়েছে সেগুলো নিরসনের চেষ্টা করবেন তাঁরা।

তিন দিনের এই সম্মেলনের আয়োজক জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ সময় বলেন, 'আমাদের জোটবদ্ধ থাকতে হবে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কোনোভাবে ন্যাটো ও জি৭ ভাগ হয়ে যাবে বলে আশা করছেন। কিন্তু আমরা তা হইনি এবং হবও না। '

অন্যদিকে ইউক্রেন প্রশ্নে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর একাত্মতার প্রশংসা করেন শোলজ। তিনি বলেন, পুতিন এটি কখনো প্রত্যাশাই করেননি।

জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা জলবায়ু পরিবর্তনসহ সম্ভাব্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।

মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতেই তাদের সোনা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোনা রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এটি পুতিন ও তাঁর মিত্রদের জন্য আয়ের উল্লেখযোগ্য একটি উৎস।

হোয়াইট হাউসের তথ্যানুসারে, ২০২০ সালে সারা বিশ্বের মোট সোনা রপ্তানির ৫ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে। অন্যদিকে রাশিয়ার ৯০ শতাংশ উৎপাদিত সোনা গেছে জি৭ দেশগুলোতে, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে।

বিশ্বনেতারা নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাপের মুখে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করলেও পুতিনের বাহিনী মরিয়া হয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশ্চাত্যের প্রত্যাশা, নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার অর্থের ভাণ্ডারে টান পড়লে তার যুদ্ধ তৎপরতা হ্রাস পাবে। এ পর্যন্ত যদিও তার কোনো লক্ষণ নেই। তবে জি৭ সম্মেলনের প্রাক্কালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানিয়েছেন, তাঁরা 'স্রোতের প্রবাহ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো সুযোগ' দেখছেন। তবে বরিস জনসন ম্যাখোঁকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, 'এখন দ্বন্দ্ব নিরসনের প্রচেষ্টা নিলে তা শুধু স্থায়ী অস্থিরতা সৃষ্টি করবে' এবং 'পুতিনকে সার্বভৌম দেশ ও আন্তর্জাতিক বাজার দুটিই স্থায়ীভাবে নিজ স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ' দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।

পুতিনের ওপর চাপ বাড়াতে ম্যাখোঁ উৎপাদক দেশগুলোকে তেলের দাম নির্ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এটি জ্বালানি শক্তি থেকে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান মুনাফা অর্জনকে সীমিত করবে। পাশাপাশি ম্যাখোঁর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্যারিস সর্বোচ্চ তেলের দামের মার্কিন প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে।

জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার পাশাপাশি চীনকে নিয়েও কথা হচ্ছে। শীর্ষস্থানীয় সাত নেতা দেশটিকে পদ্ধতিগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই দেখছেন। হোয়াইট হাউসের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল মুখপাত্র জন কারবি বলেছেন, 'চীনের জবরদস্তিমূলক আর্থিক অনুশীলন, বাধ্যতামূলক শ্রমের ব্যবহার, মেধাস্বত্ব চুরি—সব কিছুই জি৭-এর সামনে ও কেন্দ্রে রয়েছে। আমার মনে হয়, আপনারা জি৭ সম্মেলন এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে চীনকে অনেকটাই সামনে দেখতে পাবেন। '

সূত্র : এএফপি



সাতদিনের সেরা