kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

সেভেরোদনেৎস্ক থেকে সরে যাচ্ছে ইউক্রেনের সেনা

অনলাইন ডেস্ক   

২৪ জুন, ২০২২ ২৩:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেভেরোদনেৎস্ক থেকে সরে যাচ্ছে ইউক্রেনের সেনা

কয়েক সপ্তাহ ধরে বোমাবর্ষণের শিকার হয়েছে পূর্ব ইউক্রেনে থাকা ইউক্রেনীয় সেনারা। ছবি: বিবিসি/গেটি ইমেজেস

সেভেরোদনেৎস্ক থেকে ইউক্রেনের বাহিনীকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন লুহানস্কের আঞ্চলিক গভর্নর সেরহি হাইদাই। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ওই শহরটি কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রবল গোলাবর্ষণের মুখে রয়েছে। রাশিয়ার বাহিনী মরিয়া হয়ে শহরটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার চেষ্টা করছে।

শহরের প্রতিরক্ষা ছেড়ে দিয়ে ইউক্রেনের সেনাদের সরে যাওয়া প্রসঙ্গে গভর্নর সেরহি হাইদাই বলেন, ‘মাসের পর মাস ধরে অবিরাম গোলাবর্ষণ চলছে এমন অবস্থানে থাকার কোনো মানে হয় না।

বিজ্ঞাপন

...তাদের (ইউক্রেনের সেনা) পিছু হটে নতুন অবস্থানে সরে যাওয়ার...এবং সেখান থেকে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ’ 

বতর্মান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের বাহিনী সরে এলে তা রাশিয়ার বাহিনীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। শুধু লিসচানস্ক শহর বাদে পুরো লুহানস্কের নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে তাদের হাতে।

লুহানস্ক মূলত পূর্ব ইউক্রেনের রুশ ভাষাভাষী অঞ্চল। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধবিষয়ক মূল অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে এটি। ২০১৪ সাল থেকেই রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয় রয়েছে অঞ্চলটিতে। এটি বৃহত্তর দনবাসের অংশ।

এর আগে পুতিন দাবি করেছিলেন, দনবাসের রুশ ভাষাভাষীরা গণহত্যার শিকার হচ্ছে। এ দাবির মধ্য দিয়েই ইউক্রেন আগ্রাসনের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর এ দাবির কোনো ভিত্তি নেই, বিশেষ করে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম সেটা বলে আসছে।  

অন্যদিকে মস্কোর প্রতিই গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে ইউক্রেন। দেশটির দাবি, তাদের নাগরিকদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে বোমা ও গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর সেভেরোদনেৎস্ককে প্রায় ঘিরে ফেলেছিল রাশিয়ার সেনারা। পাশাপাশি আক্রমণ চালিয়েছিল এটির জোড়া শহর লিসচানস্কেও।

গতকাল সেভেরোদনেৎস্কের জেলা প্রধান রোমান ভ্লাসেঙ্কো জানান, ইউক্রেনের সেনারা এখনো শহরের মধ্যে রয়েছে। সে কারণে তাদের প্রত্যাহারে কিছুটা সময় লাগবে।

যুদ্ধের আগে সেভেরোদনেৎস্কের জনসংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ। ধারণা করা হচ্ছে, এখনো হাজারো বেসামরিক নাগরিক রয়ে গেছে শহরটিতে। আশ্রয় নিয়েছে আজত রাসায়নিক কারখানায়।

ইইউর প্রার্থীর মর্যাদা লাভ
এদিকে ইউক্রেন ও মলদোভা ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রার্থীর মর্যাদা পেয়েছে। ইউরোপীয় কাউন্সিল প্রধান চার্লস মিশেল এক ঘোষণায় এ কথা জানান। সিদ্ধান্তটিকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ আখ্যা দিয়ে মিশেল বলেন, ‘আজ ইইউর দিকে আপনাদের পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো। ’ 

ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার অনেক দিন পর সদস্য হওয়ার আবেদন করে ইউক্রেন। এরপর প্রক্রিয়াটি রেকর্ড গতিতে এগিয়েছে। জোটটির গত বৃহস্পতিবারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি।

ইইউ সদস্য পদ পাওয়ার প্রথম আনুষ্ঠানিক ধাপ হলো প্রার্থীর স্বীকৃতি পাওয়া। এরপর যোগ দিতে বেশ কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। আবার শেষ পর্যন্ত কিছু না-ও হতে পারে। সফলতার কোনো নিশ্চয়তা নেই এই ধাপে। সূত্র : বিবিসি



সাতদিনের সেরা