kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

তাইওয়ানে হামলা হলে অস্ত্রে জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র : বাইডেন

অনলাইন ডেস্ক   

২৩ মে, ২০২২ ২১:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাইওয়ানে হামলা হলে অস্ত্রে জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র : বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ছবি : এএফপি

তাইওয়ানে চীন হামলা চালালে সামরিকভাবেই এর জবাব দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে বর্তমানে জাপানের রাজধানী টোকিওতে অবস্থান করছেন বাইডেন। এর আগে তিনি আরেক মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেন।

জাপানি নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে মঙ্গলবার বাইডেনের চার দেশীয় কোয়াড জোটের বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা।

বিজ্ঞাপন

এ বৈঠক উপলক্ষে এরই মধ্যে টোকিও পৌঁছেছেন জোটের আরেক সদস্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজি টোকিওর পথে ছিলেন।

মূলত চীনকে ঠেকাতে ২০১৮ সালে কোয়াড জোট গঠন করা হয়। জোটের মঙ্গলবারের বৈঠকের আগে সেই চীনকে উদ্দেশ করেই কড়া বার্তা দিলেন বাইডেন।

ওই চার জাতি বৈঠকের আগের দিন সোমবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সঙ্গে বৈঠকে এবং বৈঠক-পরবর্তী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বারবার আসে চীন প্রসঙ্গ। টোকিও-ওয়াশিংটন উভয় পক্ষই জানায়, জলভাগে চীনের তৎপরতা এবং চীন-রাশিয়া যৌথ মহড়ার ওপর নজর রাখবে তারা। এরপর বাইডেন আরেক ধাপ এগিয়ে কথা বলেন। তাইওয়ানকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাইডেন বলেন, ‘হ্যাঁ, সেই অঙ্গীকারই আমরা করেছি। ’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এক চীন নীতিতে সম্মতি দিয়েছি। কিন্তু জোর করে (তাইওয়ানকে) নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনাটা একেবারে জুতসই নয়। এতে গোটা অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং ইউক্রেনের মতো একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। ’

তাইওয়ান ইস্যুকে সরাসরি ইউক্রেনের সঙ্গে তুলনা করে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রসঙ্গ টেনে বাইডেন বলেন, ‘রাশিয়া যেন দীর্ঘ মেয়াদে মূল্য চোকায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে, তা না হলে চীন কী করে বুঝবে, তাইওয়ানের ওপর বলপ্রয়োগের জেরে কতটা মূল্য দিতে হবে!’

তাইওয়ানের আকাশে প্রায়ই চীনা যুদ্ধবিমানের প্রবেশ এবং তাইওয়ান প্রণালিতে চীনে নৌবাহিনীর মহড়াসহ নানাভাবে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের বিষয়েও কথা বলেন বাইডেন। তাঁর মতে, তাইওয়ানের আকাশের কাছে বিমান ওড়ানোসহ অন্যান্য তৎপরতার মধ্য দিয়ে চীন ‘বিপদ নিয়ে খেলছে’।  

বাইডেনের এসব সতর্কবার্তার জবাব দিতে দেরি করেনি বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীনের জনগণের দৃঢ় সংকল্প, প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি ও জোরালো সামর্থ্যকে খাটো করে দেখা কারো উচিত হবে না। চীনের কাছে সমঝোতা করা বা ছাড় দেওয়ার কোনো জায়গা নেই। ’

এদিকে চীন-তাইওয়ান দ্বন্দ্বের ব্যাপারে বাইডেন কড়া অবস্থান জানান দিলেও তাঁর কার্যালয় থেকে মিলছে বরাবরের কৌশলী বার্তাই।

চীন-তাইওয়ান ইস্যুতে কয়েক দশক ধরে কৌশলী অবস্থান রক্ষা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিমা দেশটি চীনকে কূটনৈতিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে এলেও তাইওয়ানের সঙ্গেও রেখেছে আলাদা কূটনৈতিক সম্পর্ক। বিষয়টি ওয়াশিংটন এমনভাবে সামাল দিয়ে আসছে, যেন চীন যুদ্ধ ঘোষণা না করে এবং তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা না করে। বাইডেনের গতকালের মন্তব্যের পর হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সেই অবস্থানে পরিবর্তন আসেনি।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি



সাতদিনের সেরা