kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

বিভিন্ন দেশে দেখা দেওয়া মাঙ্কিপক্স রোগ কী?

অনলাইন ডেস্ক   

২১ মে, ২০২২ ০১:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিভিন্ন দেশে দেখা দেওয়া মাঙ্কিপক্স রোগ কী?

মাঙ্কিপক্সের ভাইরাসের অংশ- ছবি সৌজন্য: সায়েন্স ফটো লাইব্রেরি/বিবিসি

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং কিছু ইউরোপীয় দেশে বিরল, স্বল্প পরিচিত রোগ মাঙ্কিপক্সের কিছু ঘটনা ধরা পড়েছে। চিকিৎসাবিদরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

শুক্রবার যুক্তরাজ্য নিশ্চিত করেছে, দেশটিতে সংক্রমিত লোকের সংখ্যা দ্বিগুণেরও কিছু বেড়ে মোট ২০-এ উঠেছে।  

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ বলেছেন, শুক্রবার ১১টি নতুন সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষণ হালকা।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্য সরকার মাঙ্কিপক্সের বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য গুটিবসন্তের টিকা কিনে রেখেছে। মাঙ্কিপক্স অসুখটি হয় মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের কারণে, যা গুটিবসন্তের মতো একই ভাইরাস পরিবারের সদস্য। তবে এটি অনেক কম গুরুতর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সংক্রমণের সম্ভাবনা কম।

মধ্য এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইনফরেস্টের কাছাকাছি বেশির ভাগ মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ ঘটে। এ ভাইরাসের দুটি প্রধান ধরন রয়েছে - পশ্চিম আফ্রিকান এবং মধ্য আফ্রিকান।
যুক্তরাজ্যে সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে দুজন নাইজেরিয়া ভ্রমণ করেছিলেন। তাই সম্ভবত তারা পশ্চিম আফ্রিকান ধরনে ভুগছেন। এটি সাধারণত হালকা।

আরেকটি ঘটনায় একজন স্বাস্থ্যসেবাকর্মী সংক্রমিত হয়েছেন। তিনি একজন রোগীর মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন।

আরো বেশি সাম্প্রতিক সংক্রমণগুলোর ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ বা ভ্রমণের ঘটনা নেই। দৃশ্যত তারা যুক্তরাজ্যের স্থানীয় জনবসতি থেকেই সংক্রমিত হয়েছে।

লক্ষণগুলো কী কী?

প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথা ব্যথা, ফুলে যাওয়া, পিঠে ব্যথা, পেশিতে ব্যথা এবং সাধারণ ক্লান্তি।

জ্বর সারা শুরু হলে ফুসকুড়ি তৈরি হতে পারে, প্রায়শই তা মুখমণ্ডল থেকে শুরু হয়। তারপর শরীরের অন্যান্য অংশে, সাধারণত হাতের তালু এবং পায়ের তলায় ছড়িয়ে পড়ে।

ফুসকুড়িগুলোতে খুব চুলকানি হতে পারে। বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যায়ে খোসা গঠিত হতে পারে। খোসাটি পরে ঝরে যায়। এর ক্ষতের দাগ থেকে যেতে পারে।

সংক্রমণটি সাধারণত নিজে থেকেই চলে যায়। এটি ১৪ থেকে ২১ দিন স্থায়ী হয়।
মানুষ কিভাবে সংক্রমিত হতে পারে?

কেউ সংক্রমিত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এলে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হতে পারে। ভাইরাসটি ত্বকের ক্ষত, শ্বাসতন্ত্র বা চোখ, নাক বা মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

এটিকে আগে যৌনবাহিত সংক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি, তবে যৌনতার সময় সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়াতে পারে।

সংক্রমিত প্রাণী যেমন- বানর, ইঁদুর এবং কাঠবিড়ালির সংস্পর্শ থেকে বা ভাইরাস লেগে থাকা বস্তুর মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে- যেমন বিছানা এবং পোশাক।

প্রতিরোধ বা চিকিৎসা কী?

মাঙ্কিপক্সের কোনো চিকিৎসা নেই। তবে সংক্রমণ প্রতিরোধের কৌশল নিলে এর বিস্তার ঠেকানো সম্ভব।
মাঙ্কিপক্স প্রতিরোধে গুটিবসন্তের বিরুদ্ধে টিকা ৮৫% কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। অ্যান্টিভাইরাল ওষুধও সাহায্য করতে পারে।

এটা কতটা বিপজ্জনক?

এ ভাইরাসের প্রভাব বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হালকা। কখনো কখনো চিকেনপক্সের মতো হয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিজেই সেরে যায়। তবে মাঙ্কিপক্স কখনো কখনো গুরুতর হতে পারে। পশ্চিম আফ্রিকায় এতে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা