kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

নিজের শপিং সেন্টারের পাশে যুদ্ধ বিরোধী প্রতিবাদ জানালেন এক রুশ

অনলাইন ডেস্ক   

২০ মে, ২০২২ ১১:৩৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নিজের শপিং সেন্টারের পাশে যুদ্ধ বিরোধী প্রতিবাদ জানালেন এক রুশ

রাশিয়ার রাজধানী থেকে গাড়িতে আট ঘণ্টার দূরত্বে রুশকো-ভিসোটস্কি নামক ছোট্ট শহর অবস্থিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শহরটিতে মুরগির খামার এবং গির্জা ছাড়া দেখার মতো খুব বেশি কিছু নেই।

তবে চোখ আটকে যাওয়ার মতো একটি শপিং সেন্টার রয়েছে শহরটিতে। সেই শপিং সেন্টারের মালিক দিমিত্রি সুরিখিন।

বিজ্ঞাপন

শপিং সেন্টারের সামনেই তিনি যা করেছেন, তা দেখে বিস্মিত না হওয়ার উপায় নেই।

বিশাল অক্ষরে তিনি এঁকেছেন, 'ইউক্রেনে শান্তি, রাশিয়ার স্বাধীনতা!' রুশ সেনারা ইউক্রেনের যেসব শহরে আক্রমণ চালিয়েছে, সেসব শহরের নাম উজ্জ্বল-লাল রঙে তিনি লিখে রেখেছেন। মারিওপোল, বুচা, খারসন, চেরনিহিভ এবং আরো বেশ কয়েকটি নাম রয়েছে সেই তালিকায়।

দিমিত্রি বলেছেন, আমার মনে হয়েছে- তথ্য পাওয়ার ভালো উপায় হবে এটি। কারণ, যুদ্ধের প্রথম কয়েক সপ্তাহে আমাদের জনগণ জানতোই না যে, কী ঘটছে। তারা ভেবেছিল যে, ইউক্রেন সরকারের পক্ষ থেকে মাদকাসক্তদের অপসারণের জন্য এক ধরনের বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। ইউক্রেনের শহরে যে রাশিয়ার গোলা নিক্ষেপ করছে, এটা তারা জানতো না।

দিমিত্রি তার শপিং সেন্টারের ছাদকে বিশালাকার হলুদ এবং নীল ইউক্রেনীয় পতাকায় পরিণত করেছেন।

দিমিত্রি জানেন, তিনি যা করেছেন তাতে বেশ ঝুঁকি রয়েছে। রাশিয়ার জনগণের প্রতিবাদ বেশিরভাগ সময়ই বিচার কিংবা হুমকির কারণে শেষ হয়ে যায়। কখনো উভয়ই ঘটে। ইতোমধ্যেই দিমিত্রির দরজায় কেউ লিখে দিয়েছেন- 'বিশ্বাসঘাতক'। পুলিশও বেশ কয়েকবার সেখানে গেছে।   রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর অবমাননা করার অভিযোগে তাকে জরিমানাও করা হয়েছে।

দিমিত্রি বলেছেন, আমি কিছু না করে বসে থাকতে পারিনি। ঘটনাটি (ইউক্রেনে রুশ হামলা) আমাকে ভেতর থেকে যন্ত্রণা দিত। কিন্তু আমি যা করছি তা হতাশা থেকে করা কাজ।

তিনি আরো বলেন, আপনি যদি এখানকার লোকদের জিজ্ঞাসা করেন, ইউক্রেনের শহরগুলোতে গোলাবর্ষণের কারণে লোকজন দারিদ্র্য এবং ক্ষুধার যন্ত্রণা পোহাচ্ছে; তারা কি রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের পক্ষে? তারা বলবে- 'আপনি কি পাগল!'

তিনি আরো বলেন, রুশরা ভুল তথ্যের মুখোমুখি হচ্ছে।  
সূত্র: বিবিসি।



সাতদিনের সেরা