kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

বিধ্বস্ত মারিওপোলে এখনো আটকা সাড়ে তিন লাখ

# বরফ গলিয়ে পান করছে মানুষ # মোট মৃত্যুর আড়াই হাজার মারিওপোলেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ মার্চ, ২০২২ ০১:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিধ্বস্ত মারিওপোলে এখনো আটকা সাড়ে তিন লাখ

ইউক্রেনের মারিওপোলে রাশিয়ার হামলা শুরু হয় গত ১ মার্চ। তবে সেখানকার ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র তখনই মেলেনি। স্যাটেলাইট আর ড্রোনের ছবিতে এখন যা দেখা যাচ্ছে, তাতে উঠে আসছে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ওই শহরের ধ্বংসচিত্র।

ইউক্রেন কর্তৃপক্ষের অনুমান, মানবিক করিডর দিয়ে শহরবাসীকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও তাতে সাফল্য নগণ্য।

বিজ্ঞাপন

অল্প কিছু মানুষ শহর ছাড়তে পেরেছে। এরই মধ্যে সেখানে আড়াই হাজার বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এখনো সেখানে রয়ে গেছে সাড়ে তিন লাখ। তাদের দিন কাটছে বিদ্যুত্, পানি ও আগুন ছাড়া।

ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে মারিওপোলের আঞ্চলিক নিবিড় পরিচর্যা হাসপাতাল এবং বেশ কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন কমপ্লেক্স। এগুলোর বেশ কিছু ছবি গত সোমবার ম্যাক্সার টেকনোলজি প্রকাশ করেছে।

আবাসিক ভবনের উল্লেখযোগ্য অংশের বিধ্বস্ত অবস্থা দৃশ্যমান হওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের দক্ষিণ পাশের দেয়ালে গর্ত দেখা গেছে এবং চারপাশে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, হাসপাতালের এক মাইল দক্ষিণে প্রিমরস্কির চারপাশে রাশিয়ার বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলো থেকে ধোঁয়া উড়ছে।     

গত ১ মার্চ রাশিয়ার বাহিনী শহরটি ঘিরে ফেলার পর এখান থেকে খুব সীমিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু ছবিগুলো দেখে ধ্বংসস্তূপের নমুনা এখন স্পষ্ট হচ্ছে।

গত সোমবার প্রকাশিত ড্রোনের ছবিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত অ্যাপার্টমেন্টের দৃশ্য দেখা যায় এবং শহরের পশ্চিমাঞ্চলে আকাশে দীর্ঘ ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত উগ্র জাতীয়তাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী আজভ ব্যাটালিয়ন টেলিগ্রামে ধ্বংসস্তূপের ভিডিও প্রকাশ করে। মারিওপোলের কর্মকর্তারা গত কয়েক দিন ধরে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে মানবিক করিডর প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। কর্মকর্তারা জানান, মানবিক সহায়তার বড় একটি চালান গত রবিবার আসার কথা থাকলেও সোমবারও তা পৌঁছেনি।

ইউক্রেনের টেলিভিশনে সোমবার মারিওপোলের মেয়রের একজন উপদেষ্টা পেত্রো আন্দ্রুইশচেঙ্কো বলেন, 'বেশির ভাগ মানুষ ভবনের ভূগর্ভস্থ জায়গায় এবং আশ্রয়শিবিরে অমানবিক পরিস্থিতিতে রয়েছে। তাদের কাছে খাবার নেই, পানি নেই, বিদ্যুত নেই এবং আগুন নেই। ' তিনি আরো বলেন, 'অনেকে খাবার পানির জন্য বরফ গলাচ্ছে। '

সিটি কাউন্সিল জানায়, গত সোমবার ১৬০টিরও বেশি প্রাইভেট কার মারিওপোল ছেড়ে যেতে পেরেছে। কিন্তু আন্দ্রুইশচেঙ্কো জানান, এখনো সাড়ে তিন লাখ মানুষ শহরে আটকে আছে। বেসামরিক মানুষ হতাহতের বিষয়ে তিনি বলেন, 'পুলিশ ও চিকিত্সা খাতের তথ্য অনুযায়ী যে সংখ্যা পাওয়া গেছে, সেটার সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা মিলছে না। ওই দুই সূত্রে গত রবিবার পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৮০০ মানুষ প্রাণ হারানোর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। '

অথচ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির দপ্তরের একজন উপদেষ্টা ওলেস্কি আরিস্তোভিচ বলেন, 'মারিওপোলে রাশিয়ার হামলার কারণে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে সংখ্যাটি সংবাদমাধ্যমগুলো যাচাই-বাছাই করতে পারেনি। '

সোমবার জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, মারিওপোল শহর ও এর আশপাশে রাশিয়া যুদ্ধপরাধ করেছে। তিনি বলেন, 'রুশ বাহিনীর যুদ্ধাপরাধের দায় অনিবার্য। ব্যাপক মানবিক বিপর্যয়ের দায়ও রুশ বাহিনীর অনিবার্য। '
সূত্র : সিএনএন।



সাতদিনের সেরা