kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

২৭ ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার বর্ণনা দিলেন টোঙ্গার বাসিন্দা

অনলাইন ডেস্ক   

২২ জানুয়ারি, ২০২২ ১২:৫৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



২৭ ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার বর্ণনা দিলেন টোঙ্গার বাসিন্দা

সাগরতলের আগ্নেয়গিরির প্রচণ্ড অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ টোঙ্গা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সেখানকার এক ব্যক্তি বলেছেন, এক দিনেরও বেশি সময় ধরে সাগরে ভেসেছিলেন।  

গত শনিবার আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং সুনামি টোঙ্গায় আঘাত হানে। টোঙ্গার আতাতা দ্বীপের বাসিন্দা লিসালা ফোলাউ ওই সময় সাগরে ভেসে যান।

বিজ্ঞাপন

লিসালা ফোলাউ বিবিসিকে বলেছেন, ২৭ ঘণ্টা ধরে গাছের গুঁড়ি ধরে সাগরে ভেসেছিলেন। তীরে ফিরে আসার আগপর্যন্ত এভাবেই প্রাণে বেঁচেছিলেন তিনি।

টোঙ্গায় এখন পর্যন্ত তিনজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। তবে সেখানকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো অজানা।

৫৭ বছর বয়সী ফোলাউ বলেছেন, 'ঢেউয়ের পর ঢেউ আসতে দেখে ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার ওপর আমার দৃঢ় বিশ্বাস রেখেছি যে, তিনিই আমাকে রক্ষা করবেন। '

তিনি আরো বলেন, 'আমি যখন পানিতে ছিলাম, মনে আছে আটবার পানিতে ডুবে গিয়েছিলাম। আমার পা অসাড় হয়ে গিয়েছিল এবং ঠিক মতো নাড়াতে পারছিলাম না। সমুদ্র আমাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে পানির নিচে নিয়ে যাচ্ছিল।

ওই সময় তিনি গাছের একটি গুঁড়ি পান। ফোলাউ বলেন, 'তীর থেকে আমার ছেলের ডাক শুনতে পেয়েছিলাম এবং আমি তার উত্তর দিতে চাইনি। কারণ, আমি চাইনি যে, সে আমাকে খোঁজার জন্য সাতার কাটুক। '

তিনি আরো বলেন, 'আমার মনে হয় সমুদ্রে জীবন ও মৃত্যু আছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি তীরে পৌঁছাতে না পারছেন, ততক্ষণ আপনি জানেন না যে, বেঁচে থাকবেন নাকি মারা যাবেন। '

টোঙ্গার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে আছে। সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে যাওয়া একমাত্র কেবল লাইন টোঙ্গাকে বহির্বিশ্বের সাথে সংযুক্ত করেছে; সেটারও দুই জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে।

বিদেশি সাহায্যকারী প্রথম জাহাজ হিসেবে টোঙ্গায় নিউজিল্যান্ডের একটি জাহাজ শুক্রবার পৌঁছায়। দুই লাখ ৫০ হাজার লিটার  বিশুদ্ধ পানি নিয়ে যাওয়া হয়েছে ওই জাহাজে। এছাড়া নিয়ে যাওয়া হয়েছে দৈনিক ৭০ হাজার লিটার পানি পরিশোধন করার মেশিন।

জাতিসংঘ বলেছে, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা প্রথম অগ্রাধিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটির জন্য।
সূত্র: বিবিসি।



সাতদিনের সেরা