kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী : 'লাড়কি হুঁ, লড় সাকতি হুঁ' –অনুভূতি নিজেরই হয়েছিল

অনলাইন ডেস্ক   

১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ১২:৩৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রিয়াঙ্কা গান্ধী : 'লাড়কি হুঁ, লড় সাকতি হুঁ' –অনুভূতি নিজেরই হয়েছিল

ফেসবুক লাইভে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র

ভারতের বিশিষ্ট রাজনীতিক এবং নেহরু-গান্ধী পরিবারের অন্যতম উত্তরাধিকারী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী স্লোগান তুলেছেন, 'লাড়কি হুঁ, লড় সাকতি হুঁ। ' দেশের সমাজ ও রাজনীতি তাঁকে এ স্লোগান বেছে নিতে উৎসাহিত করেছে। এক ফেসবুক লাইভে প্রিয়াঙ্কা জানালেন, সম্প্রতি লখিমপুর খেরিতে পুলিশের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানোর সময় তার মাথায় এসেছিল কথাটা।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে জনসভা বন্ধ থাকায় উত্তর প্রদেশের ভোটের প্রচারে ফেসবুকের শরণাপন্ন হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার করেছেন এই লাইভ।

লাইভে প্রিয়াঙ্কা আরো জানিয়েছেন, সেই ছোটবেলায়ও ভাই রাহুলের সঙ্গে খুনসুটির সময়ও বিনা লড়াইয়ে নাকি হার মানতেন না। আলাপে ‘লৌহ মানবী’ ইন্দিরা গান্ধীর নাতনি জানিয়েছেন পরিবার, ব্যক্তিজীবন ও রাজনীতি নিয়ে এমনই নানা অন্তরঙ্গ আর ভাবনা উসকে দেওয়ার কথা।  

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সম্প্রতি কৃষক আন্দোলনের সময় লখিমপুর খেরির তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'লখিমপুর খেরি যাওয়ার সময় লখনৌ থেকে বের হতেই পুলিশ রাস্তা আটকায়। আমার গাড়ি নজর এড়িয়ে বেরিয়ে যেতেই পুলিশের গাড়ি পিছু নেয়। তখন রাত দেড়টা। ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছিল। আমি মহাসড়ক থেকে গাড়ি গ্রামের রাস্তায় নামিয়ে নিতে বলি। ' 

প্রিয়াঙ্কা জানান, পুলিশের গাড়ি তার পেছনে ধাওয়া করছিল। গাড়িতে আরও পুরুষ থাকলেও দেড় ঘণ্টা গ্রামের রাস্তা ধরে চলার পরে ভয় পেয়ে যান।  

প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমি স্টিয়ারিংয়ে না থাকলেও পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নিলাম। বললাম, খেতের রাস্তায় গাড়ি ঢুকিয়ে, আলো নিভিয়ে, ইঞ্জিন বন্ধ করে বসে থাকব। পুলিশ অন্ধকারে আমাদের দেখতে না পেয়ে বেরিয়ে গেল। তার পর আমরা আবার লখিমপুর খেরি রওনা হই। তখনই মনে হয়েছিল, লাড়কি হুঁ, লড় সাকতি হুঁ। '
 
ছোটবেলায় ভাই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে লড়াই হলে কে জিততেন সে ব্যাপারে প্রিয়াঙ্কা বলেন, 'রাহুলই জিতত। ছোটবেলায় দাদির হত্যাকাণ্ডের পর আমাদের বাইরে বের হওয়া, স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ১২ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বাড়িতেই পড়াশোনা, পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। বাবা সারা ভারতে ঘুরতেন। মা-ও প্রায়ই তার সঙ্গে যেতেন। ঘরবন্দি দুই ভাই-বোনের মধ্যে বন্ধুত্বও গভীর হয়েছে, লড়াইও চলত। অনেক সময় বাবাকে জোর করে মারপিট থামাতে হতো। '

তবে বাইরে থেকে কেউ লড়তে এলে দুজনের ‘টিম তৈরি করে’ হামলা করতেন প্রিয়াঙ্কারা। এখনো নাকি সেই টিম রয়েছে।  

হস্তিনাপুরের কংগ্রেস প্রার্থী, মডেল-অভিনেত্রী অর্চনা গৌতমকে পোশাক, বিয়ের দিনক্ষণ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রিয়াঙ্কা বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা কোনো পুরুষ নেতাকে কেন এসব প্রশ্ন করা হয় না? কেন শুধু নারীদেরই পোশাক, বিয়ে নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়?'
 
উন্নাওয়ের নির্যাতিতার মায়ের মতো নারীদের উত্তরপ্রদেশে প্রার্থী করেছেন প্রিয়াঙ্কা। অর্থবলে কিংবা পেশিশক্তিতে তারা অন্য দলের তুলনায় দুর্বল প্রার্থী কি না, সে ব্যাপারে প্রিয়াঙ্কা বলেন, 'কথাটা কিছুটা ঠিক। কিন্তু তা-ও মনে হয়েছে, এই নারীদের রাজনৈতিক শক্তি দেওয়া দরকার। আর আমাদের দল তো রয়েছেই। ' 

নির্বাচনে কোন একটি বিষয় বদলাতে চান, সে ব্যাপারে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, 'শুধু ইতিবাচক বিষয়ে কথা হবে। সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। বিভাজনের রাজনীতি হবে না। ' 

নিজের বাড়ির সিদ্ধান্ত সম্পর্কেও কথা বলেছেন রাজীবকন্যা। তিনি বলেন, 'বাড়িতে ব্যাপক গণতন্ত্র। সবার মতামত নেওয়া হয়। সন্ধ্যায় কী খাওয়া হবে, তাতেও সবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বোধ হয় সব পরিবারেই এমন হয়। ' 

প্রিয়াঙ্কা বলেন, 'আজ সকালেও মেয়ের একটা কাজ দেখে দিতে হয়েছে। শুধু ছেলে-মেয়ের নয়, তাদের বন্ধুদের হোমওয়ার্ক, অ্যাসাইনমেন্টও করতে হয়েছে। আমি সেই আন্টি, যার কাছে সব বাচ্চাই এসে অ্যাসাইনমেন্ট করে দিতে বলে। কখনো তো সারা দিন প্রচার সেরে ফিরেও রাত ৩-৪টা পর্যন্ত বাচ্চাদের, তাদের বন্ধুদের হোমওয়ার্ক, অ্যাসাইনমেন্ট করেছি। '
 
মা সোনিয়া গান্ধী তাকে কী বলে ডাকেন লাইভে জানতে চাওয়া হয়েছিল তা-ও। প্রিয়াঙ্কা আরো বলে, "আদর করে ‘প্রি’ আর রেগে গেলে 'প্রি-য়া-ঙ্কা'। " 
সূত্র : আনন্দবাজার।



সাতদিনের সেরা