kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নরওয়েতে ওমিক্রন, পুনরায় বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত

সাব্বির খান, স্ক্যান্ডিনেভিয়া প্রতিনিধি   

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৭:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নরওয়েতে ওমিক্রন, পুনরায় বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত

নরওয়েতে সংক্রমণের বিস্তার বাড়ছে এবং ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের আরো কেস ধরা পড়ছে। গত মঙ্গলবার নতুন বিধিনিষেধ উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছিল নরওয়ের সরকার। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নাগালের বাইরে যাওয়ার আগেই সরকার বিভিন্ন ব্যাবস্থা নিতে চায় বলে জানায় নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক হেলথের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক পরিচালক ফ্রোড ফোরল্যান্ড। গত এক সপ্তাহে নরওয়েতে কভিড ১৯-এ নিবন্ধিত সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা সর্বোচ্চ স্তরে পৌছেছে, যার সংখ্যা প্রায় ৪০০০ জন।

বিজ্ঞাপন

ফ্রোড ফোরল্যান্ড বলেন, গত সপ্তাহান্তে এই সর্বোচ্চ সংখ্যাটি লক্ষ্য করা গেছে, যখন সংক্রমণের হার সাধারণত কমে যাওয়ার কথা ছিলো।

কভিড-১৯ নিয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যাও বাড়ছে। গত ৬ ডিসেম্বের ২৯৫ জন কভিড সংক্রমিতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, যা সর্বশেষ আপডেটের তুলনায় ৩৩ জন বেশি। গত সোমবার ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৮২ জনকে আইসিইউতে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে নরওয়েতে কভিড-১৯ এ ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০২০ সালের মার্চ মাসের মতই সর্বোচ্চ। স্বভাবতই নরওয়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে বলে জানান ফ্রোড ফোরল্যান্ড।  

দেশটিতে শিশু এবং তরুণদের মধ্যে সংক্রমণের বিস্তার সবচেয়ে বেশি। এটি মূলত ডেল্টা ভেরিয়েন্টের প্রাদুর্ভাবের কারণেই হচ্ছে বলে জানায় নরওয়েজিয়ান স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রধানত নরওয়ের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সংক্রমণের বিস্তার সবচেয়ে বেশি, যেখানে শিশুদের এখনো ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি। কভিড-১৯ এ সংক্রমিত শিশুরা সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়ার পরে আবার সুস্থ্য হয়ে উঠছে ঠিকই, কিন্তু তাঁরা মূলত সংক্রমনে বাহক হয়ে সমাজ ও পরিবারগুলোতে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। নরওয়ের মত সুইডেন এবং ডেনমার্কেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

সংক্রমন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৃতের সংখ্যাও দিন দিন বেড়েই চলেছে। সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে এবং মৃত্যুর সংখ্যার মধ্যে সম্ভবত একটি সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছে নরওয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যদিও ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর হার সাধারণত সংক্রমণের বিস্তার থেকে কিছুটা কম থাকে যা নরওয়ের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বর্তমানে কভিড-১৯ এ মৃত্যুর সংখ্যা প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪০ জন। নরওয়েতে সংক্রমণের বিস্তারে মূলত ডেল্টা ভেরিয়েন্টই ছিলো সর্বাগ্রে। তবে, অতিসম্প্রতি আবিষ্কৃত ওমিক্রন ভেরিয়েন্ট দ্বারা আরও সংক্রামিত হচ্ছে।  

গত সপ্তাহে রাজধানী অসলোতে এক ক্রিসমাস ডিনারের পরে ১২০ জন করোনাভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত হয়েছিল যার মধ্যে ১৩টি ছিলো ওমিক্রন ভেরিয়েন্ট দ্বারা সংক্রমিত। তবে এই সংখ্যাটি আরো বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। নরওয়ের মত সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক ও আইসল্যান্ডেও প্রায় প্রতিদিন ওমিক্রমে সংক্রমিতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফ্রোড ফোরল্যান্ড জানায় যে, নরওয়েতে যারা ওমিক্রন দ্বারা সংক্রামিত হলেও তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েনি। তবে সংক্রমিতদের অনেকেই ইতোপূর্বে পূর্ণটিকা গ্রহণ করেছেন যা উদ্বেগজনক।

নরওয়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইঙ্গভিল্ড কেজেরকোল সোমবার নরওয়ের সংবাদ মাধ্যম এনটিবিকে বলেছেন যে, এটি উদ্বেগজনক যে নরওয়েতে ওমিক্রন ভেরিয়েন্টে সংক্রমিতের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে এবং এজন্য তাঁর সরকার উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ডেল্টার রেশ নরওয়েতে এখনও প্রবাহমান এবং এর সঙ্গে ওমিক্রন যুক্ত হওয়ায় একটি বড় ধরণের অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বিশ্ব যখন জানেন না যে এটির তীব্রতা ও সংক্রামকতা প্রতিরোধে বিদ্যমান ভ্যাকসিনগুলো কার্যকর কিনা। এজন্য সরকার অনিরাপদ হওয়ার আগেই নিরাপদ ব্যবস্থাগুলোকে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং শুধুমাত্র স্থানীয় ও আঞ্চলিক ব্যবস্থাই নয়, জাতীয় পর্যায়েও প্রয়োজনে সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।  

উল্লেখ্য, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার অন্যান্য দেশগুলোও একই ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে আলোচনা করছে বলে জানা যায়।



সাতদিনের সেরা