kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এক মিনিটেই স্বেচ্ছামৃত্যু! অনুমোদন পেল 'ডক্টর ডেথ'-এর যন্ত্র

অনলাইন ডেস্ক   

৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৮:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক মিনিটেই স্বেচ্ছামৃত্যু! অনুমোদন পেল 'ডক্টর ডেথ'-এর যন্ত্র

একটি 'স্বেচ্ছামৃত্যু যন্ত্র'কে বৈধতা দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। তারা তার নাম দিয়েছে- সারকো। যন্ত্রটি এর ব্যবহারকারীকে ব্যথাহীন মৃত্যু দান করবে। এই আশ্চর্য ইচ্ছামৃত্যুতে ব্যবহার করা হবে হাইপোক্সিয়া এবং হাইপোক্যানিয়া (এর ব্যবহারে  টিস্যু স্তরে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয় এবং রক্তে কার্বন-ডাই-অক্সাইড হ্রাস পায়, যা ক্রমশ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়)।

যন্ত্রটির আকৃতি অনেকটা কফিনের মতো। কাচের ক্যাপসুলের অভ্যন্তরে ইউথানেশিয়া ডিভাইসটি এর ভেতরে অবস্থানকারীর অক্সিজেন স্তরকে চোখের পলকে জটিল স্তরে নামিয়ে আনে। একটি প্রকাশিত প্রতিবেদন মেশিনটির নির্মাতাদের উদ্ধৃত করে এমনটি জানায়।

প্রতিবেদন অনুসারে, পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে সময় লাগবে এক মিনিটেরও কম। তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ও ব্যথাহীন মৃত্যু পাবেন আত্মহত্যাকারী। যন্ত্রণাহীন মৃত্যুযন্ত্রের সর্বশেষ সংস্করণ এটি। যেটি এমন ডিভাইস যা বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণকারী ন্যূনতম ব্যথাসহ দ্রুত মারা যায়। এটি সেই সব দেশগুলোর জন্য যেখানে স্বেচ্ছায় মৃত্যু বা আত্মহত্যা করা আইনিভাবে বৈধ।

যদিও ইচ্ছামৃত্যুর নৈতিকতা এবং এমন ডিভাইসের ব্যবহার সম্পর্কে একটি বিতর্ক চলমান। তবে এমন কিছু দেশ রয়েছে যারা অস্থায়ীভাবে অসুস্থ রোগীদের কথা মাথায় রেখে স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধ করেছে। যেখানে একজন চিকিৎসক বা স্বেচ্ছামৃত্যুতে ইচ্ছুক ব্যক্তির দ্বারা এটির জন্য সুপারিশ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, সুইজারল্যান্ডে সহায়তাকৃত আত্মহত্যা আইনিভাবে স্বীকৃত এবং গত বছর প্রায় ১৩০০ জন ডিগনিটাস বা এক্সিট-এর মতো স্বেচ্ছামৃত্যু সংস্থার পরিষেবা ব্যবহার করে বলে জানা যায়। এ দুটি সংস্থা গভীর কোমা এবং মৃত্যুকে নিশ্চিত করার জন্য বারবিটুরেট ব্যবহার করে।

'সারকো, দ্য সুইসাইড মেশিন'টি তৈরি করেছেন 'ডক্টর ডেথ' খ্যাত ডা. ফিলিপ নিটশে। এর সংক্ষিপ্ত রূপ 'সারকোফ্যাগাস'। এটি এর নামের মতো সত্য। ডিভাইসটি আক্ষরিক অর্থেই তার 'বাসিন্দা'র জন্য একটি সমাধি ব্যতীত অন্য কিছু নয়। কারণ বায়োডিগ্রেডেবল ক্যাপসুলটি কফিন হিসাবে পরিবেশন করার জন্য মেশিনের গোড়া থেকে নিজেকে আলাদা করতে সক্ষম।

ডিভাইসটি এর মধ্যেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষত এর বৈশিষ্টের কারণে। এটিতে নাইট্রোজেন ক্যাপসুলে প্রবাহিত হয়, যা অক্সিজেনকে স্থানচ্যুত করে; যার ফলে মৃত্যু হয়। কেউ কেউ এটিকে একটি 'গ্যাস চেম্বার'-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। অনেকে আবার এর ভবিষ্যৎ নকশার সমালোচনা করেছেন, বলেছেন এটি আত্মহত্যাকে "মহিমান্বিত' করবে।

যাই হোক, প্রতিবেদন অনুসারে, সারকো মেশিনটি সুইজারল্যান্ডে আইনি যাচাই-বাছাইয়ে পাস করার সাথে সাথেই এর নির্মাতারা এটিকে স্থাপন করবেন এবং আগামী বছর থেকে এটি সে দেশে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হবে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস



সাতদিনের সেরা