kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

বাকি সন্তানদের মুখে খাবার দিতে এক সন্তান বিক্রি করে দিলেন ৫০০ ডলারে

অনলাইন ডেস্ক   

২৬ অক্টোবর, ২০২১ ১৯:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাকি সন্তানদের মুখে খাবার দিতে এক সন্তান বিক্রি করে দিলেন ৫০০ ডলারে

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বিদেশি অর্থসহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে যা তাদের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সাহায্য করেছিল। যার ফলে আফগান অর্থনীতি এসে দাঁড়িয়েছে পতনের দ্বারপ্রান্তে। দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক ধস, মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে প্রচণ্ড খাদ্যাভাব। আর এরই ফলে ক্ষুধার্ত আফগান পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দিচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদক যোগিতা লিমায়ে দেশের পশ্চিমে হেরাতের বাইরের একটি গ্রামে ভ্রমণ করেন এবং একজন মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। যিনি তার শিশুকন্যাকে তার অন্য সন্তানদের খাবার জোগাড়ের জন্য ৫০০ ডলারে বিক্রি করেছেন।

শিশুটির ক্রেতা তাঁর নাম বলেননি। তিনি দাবি করেন, তিনি মেয়েটিকে বড় করতে চান এবং পরে তাঁর ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে চান। যদিও তাঁর এ উদ্দেশ্যের কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। তিনি আড়াই শ ডলার অগ্রিম প্রদান করেন, যা কয়েক মাসের জন্য ওই পরিবারটিকে খাওয়ানোর জন্য যথেষ্ট। এর পর যখন শিশুটি হাঁটতে শিখবে তখন ওই ব্যক্তি ফিরে এসে তাকে নিয়ে যাবেন এবং বাকি অর্থ পরিশোধ করবেন।

'আমার অন্য বাচ্চারা খাওয়ার অভাবে মারা যাচ্ছিল। তাই আমাদের মেয়েকে বিক্রি করতে হয়েছিল,' বিবিসিকে বলেন শিশুটির মা। 'আমি কি দুঃখ পাব না? সে তো আমার সন্তান। আহা! যদি আমার মেয়েকে বিক্রি করতে না হতো।'

আবর্জনা সংগ্রহ করে অর্থ উপার্জন করতেন শিশুটির বাবা। এখন অর্থ উপার্জন কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারকে ব্যাখ্যা করেছেন যে তাদের অন্য কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, 'আমরা ক্ষুধার্ত। এই মুহূর্তে আমাদের ঘরে আটা নেই, তেল নেই। আমাদের কিছুই নেই। আমার মেয়ে তার ভবিষ্যত কি হবে কোনো ধারণা নেই। কিন্তু আমাকে এটা করতে হয়েছিল।'

আফগানিস্তান; কয়েক দশকের সংঘাত এবং ব্যাপক দুর্নীতির দ্বারা বিধ্বস্ত একটি দরিদ্র দেশ। তার জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশের জন্য বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হতো। দেশটি পশ্চিমাদের মদদপুষ্ট একটি সরকার দ্বারা শাসিত ছিল।

কিন্তু কভিড মহামারি, খরা এবং তিন মাস আগে তার সরকারের প্রায় রাতারাতি পতন এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। দেশ এখন অর্থনৈতিক মন্দার দ্বারপ্রান্তে। এর মুদ্রার মূল্য হ্রাস পেয়েছে, খাদ্যের দাম বেড়েছে। বিদেশি সাহায্য বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকরা বেতন পাচ্ছে না। ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে এবং পরিবারগুলো তাদের নিজস্ব সবকিছু- এমনকি নিজেদের সন্তানও বিক্রি করে দিচ্ছে।

আফগানিস্তানে বহুকাল ধরে বাল্যবিবাহের প্রচলন রয়েছে, কিন্তু দেশটির ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনেক পরিবারকে শিশুদের বাল্যবিবাহের দিকে ঠেলে দিতে বাধ্য করেছে।
সূত্র : মেইল অনলাইন



সাতদিনের সেরা