kalerkantho

শনিবার । ৭ কার্তিক ১৪২৮। ২৩ অক্টোবর ২০২১। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কুয়েতে রাষ্ট্রহীন 'বিদুন' সম্প্রদায়ের শত শত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট জব্দ

অনলাইন ডেস্ক   

১৪ অক্টোবর, ২০২১ ১৭:২১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কুয়েতে রাষ্ট্রহীন 'বিদুন' সম্প্রদায়ের শত শত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট জব্দ

কুয়েতের রাষ্ট্রহীন সম্প্রদায়ের সদস্য ফ্রন্টলাইন কর্মী আহমদ আল-এনেজি। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করা হয়। এরপর আমলাতান্ত্রিক গোলকধাঁধায় কাটিয়েছেন গত ১৪ মাস। কভিড -১৯ মহামারীর মধ্যে তিনি তার বেতন ও সঞ্চয়ের কোন টাকাই তুলতে পারেননি। আল-এনেজির এ সমস্যা মূলত অধিবাসীদের মর্যাদা নির্ধারণের জন্য উপসাগরীয় দেশ কর্তৃক অগ্রাহ্যতা ও অবহেলার ফল। এটিকে অনেকে মানবাধিকারের অপব্যবহার বলে মনে করেন। 

আল-এনেজি এবং তার পরিবার হাজার হাজার আরবদের মধ্যে বেদুইন নামে পরিচিত। আরবি "বিদুন জিনসিয়া" অর্থ "জাতীয়তা ছাড়া"- যারা কুয়েতের নাগরিকত্ব লাভের জন্য কয়েক দশক ধরে লড়াই করে আসছে। কিছু অন্যান্য উপসাগরীয় রাজ্যেও এমন সম্প্রদায় রয়েছে, যেগুলিও কুয়েতের মতো নাগরিকদের জন্য একটি উদার ‘দোলনা থেকে কবরের’ সুব্যবস্থা প্রদান করে। তবে এ সুবিধাগুলি রাষ্ট্রহীন বলে বিবেচিত মানুষের জন্য নয়।

কুয়েত দাবি করে যে, দেশের বেশিরভাগ রাষ্ট্রহীন মানুষ অন্য দেশ থেকে আসা অভিবাসী যারা তাদের জাতীয়তা গোপন করে। তাই দেশটি তাদের অবৈধ বাসিন্দা হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষেবাগুলির তদন্তের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ তাদের মূল দেশ প্রকাশ করবে। তারা "নির্ধারিত নাগরিকত্ব" গ্রহণের জন্য গত দুই বছরে এ সম্প্রদায়ের উপর চাপ বাড়িয়েছে। তবে কভিড -১৯ মহামারীর কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা ও তেলের কম দাম কমার পর রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে ক্রমবর্ধমান চাপের সঙ্গে এই প্রচারণা আর হচ্ছে না।

আল-এনেজির ব্যাংক বৈধতা শনাক্তকরণের দাবি করছে। আবার কুয়েত কর্তৃপক্ষ তার আবাসিক কার্ড নবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তবে যদি ২৬ বছর বয়সী আল-এনেজী নিজেকে একজন ইরাকি নাগরিক হিসেবে স্বিকার করেন তবে তারা কার্ড দেবে। সুলাইবিয়া হাসপাতালের একজন সরকারি কর্মচারী আল-এনেজি কুয়েতে রাষ্ট্রহীন মানুষের কম অধিকার উল্লেখ করে বলেন, "আমি দোয়াকরি আমি যেন ইরাকি হতাম! তবে অন্তত কুয়েতে প্রবাসী হিসাবে গণ্য হতাম। এখানে প্রবাসীদের জীবন আমাদের চেয়ে ভালো হয়।" "কেউ তাদের বেতন ছাড়া ১৪ মাস বাঁচতে পারে না," "তারা আমার কার্ড নবায়ন করবে না কারণ তারা বলে আমি একজন ইরাকি নাগরিক," আল-এনেজি বলেন। তার বাবা কামেল বলেন, তিনি নিজে কুয়েতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং আল-এনজির পিতামহ ১৯৩৪ সালে উপস্থিত ছিলেন, ১৯৬১ সালে কুয়েত আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা লাভের আগে থেকেই।

বিদুনরা যাযাবর বেদুইন উপজাতির বংশধর। এরা শত শত বছর ধরে তাদের পালের সঙ্গে অবাধে ঘুরে বেড়াত। তবে আধুনিক উপসাগরীয় রাজ্যগুলি গঠিত হওয়ার সময় ফাটলের মধ্যে পড়ে তারা। সরকারি তথ্য বলছে, কুয়েতে কমপক্ষে ৮৫,০০০ বিদুন মানুষ বাস করে কিন্তু কর্মীরা বলছেন যে সংখ্যাটি ২,০০,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। ১৯৬০-এর দশকে অনেকেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেননি কারণ তারা নিরক্ষর ছিলেন। বা দলিল তৈরি করতে পারেননি, অথবা নাগরিকত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তা তারা জানেতেন না।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী বলছে, সরকার তাদের নাগরিক নথিপত্র ও সামাজিক সেবা পেতে বাধা সৃষ্টি করে এবং স্বাস্থ্য, বিবাহ, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অধিকার নষ্ট করে। বিদুনের সঠিক সংখ্যার কোন সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায় না। যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলি শনাক্তকরণের কারণ দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের মধ্যে সরকারি কর্মচারী, সামরিক কর্মী এবং বেসরকারি খাতের কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ইবতিহাল আল-খতিব বলেন, অনেক বিদুন সরকার কর্তৃক নির্ধারিত জাতীয়তার সঙ্গে নতুন পরিচয়পত্র গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। খতিব বলেন, "সরকার ‘বিদুন’ ইস্যুকে একটি অবৈধ বাসিন্দাদের সমস্যাতে পরিবর্তন করতে চায়। এবং এর ফল হল এই ধরনের ব্ল্যাকমেইল যা তাদের জীবনকে সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করে"।

বিদুনের কাছে কীভাবে জাতীয়তা হস্তান্তর করা হচ্ছে তা জানতে চাইলে তারা জোর দিয়ে বলেন, তারা কুয়েতী। আলবাইজান বলেন, এটি গোয়েন্দা পরিষেবা সহ কর্তৃপক্ষের তদন্তের ভিত্তিতে তৈরি। তিনি আরো বলেন, এই ফলাফলগুলি সরকারী নথীতে প্রবেশ করানো হয় এবং এটি পৃথক মামলা মোকাবেলার জন্য একটি ভিত্তি স্থাপন করে।

দরিদ্র আল-সুলাইবিয়া পাড়ায় যেখানে আল-এনেজি থাকেন, কুয়েতের পতাকাগুলো ছোট ছোট বাড়ির উপরে উড়ছে যেখানে গত কয়েক দশক ধরে শত শত বিদুন পরিবার বসবাস করে। কয়েক ডজন আমেরিকান এসইউভি রাস্তায় পার্ক করা ছিল। এলাকার আরেকজন বিদুন আবু জাবের বলেন, তিনিও তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস হারিয়েছেন।

সূত্র: দ্য নিউ আরব।



সাতদিনের সেরা