kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৫ কার্তিক ১৪২৮। ২১ অক্টোবর ২০২১। ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

‘চীন-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’ : এরিক জুয়েস

‘চীনকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উস্কানিতে সাড়া দিতে হবে’

অনলাইন ডেস্ক   

১৩ অক্টোবর, ২০২১ ১৭:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘চীন-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’ : এরিক জুয়েস

চীন প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে, যদি মার্কিন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে চীনের তাইওয়ান প্রদেশ থেকে তাদের সামরিক বাহিনীকে সরিয়ে না নেয়, তবে চীন শীঘ্রই সেখানে সামরিক বাহিনী পাঠাবে কারণ, শুধু যুক্তরাষ্ট্রই গোপনে ‘বিশেষ অভিযান দল’ পাঠায়নি। যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেনামী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেছে সেহেতু এটি চীনের মূল ভূখণ্ডের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের শর্ত গোপন থেকে আধা-গোপনে এনে দুর্বল করার দিকে একধাপ এগিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দেওয়া এই বিবৃতিটি এসেছে অক্টোবরে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয় থেকে। এর সম্পাদকীয়গুলি চীনা সরকারের পক্ষে কথা বলে, আবার মার্কিন হোয়াইট হাউসের বিবৃতিগুলি মার্কিন সরকারের পক্ষে কথা বলে।

চীনা সম্পাদকীয় ব্যাখ্যা করেছে যে

ওয়াশিংটন এবং তাইওয়ান দ্বীপ উভয়কেই তাদের সংঘর্ষের পরিনতি পুরোপুরি উপলব্ধি করাতে চীনকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উস্কানিতে সাড়া দিতে হবে। অন্যথায়, পরবর্তী ধাপে, মার্কিন সামরিক কর্মীরা তাইওয়ান দ্বীপে প্রকাশ্যে ইউনিফর্ম পরে উপস্থিত হতে পারে। দ্বীপে একটি ডি -ফ্যাক্টো ইউএস গ্যারিসন গঠনের জন্য তাদের সংখ্যা কয়েক ডজন থেকে শত বা আরো বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অন্য কথায়, আমেরিকার "বিশেষ অপারেশন বাহিনী" নিহত হতে পারে যখন চীন তাইওয়ানে তার সামরিক বাহিনী পাঠাবে। এই প্রদেশে এখন যে বিদ্রোহ চলছে তা মোকাবেলা করতে চীন এ বাহিনি পাঠাবে বলে উল্লেখ করেছে। চীন বলছে, আমেরিকা প্রকাশ্যে দ্বীপে আক্রমণের আগে তারা প্রস্তুত রাখা সৈন্য এবং বিমানগুলিকে তাইওয়ান দ্বীপে পাঠাবে, যাতে মার্কিন আক্রমণ যখন ঘটে তখন মোকাবেলা করার জন্য তারা আরো ভাল অবস্থানে থাকতে পারে। চীন এখানে স্পষ্টভাবে লক্ষ্য রাখছে যাতে দ্বীপে মার্কিন গ্যারিসন তৈরি এড়ানো যায়। চীন যদি ওই দ্বীপে মার্কিন সৈন্যদের হত্যা করতে যায় তবে কেবলমাত্র সেই "বিশেষ অপারেশন বাহিনী" কর্মীদেরই হত্যা করবে। তারা কোন "গ্যারিসনে" হামলা করবে না কারণ চীন ক্ষয়ক্ষতির কথাও মাথায় রাখছে।

মার্কিন সরকার ও  চীনা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে যে, তাইওয়ান চীনের একটি প্রদেশ, একটি পৃথক জাতি নয়। তবে বাইডেন প্রশাসন এখন যা করছে তা আসলে এই বিষয়ে মার্কিন সরকারের দীর্ঘদিনের নীতির লঙ্ঘণ। “যেমন আমি গত ১৪ সেপ্টেম্বর রিপোর্ট করেছি, "চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে" শিরোনামে।”

এই মুহূর্তে, বাইডেনকে যেসব নিওকন ঘিরে রেখেছেন তারা হুমকি দিচ্ছেন। তিনি যদি চীনকে হুমকি  না দেন তাহলে তাকে 'তাইওয়ান হারানোর' অভিযোগে অভিযুক্ত করা হবে। তবে তাকে এটাও ভাবতে হবে যে, মার্কিন সরকার আমেরিকার "এক চীন" নীতিকে লঙ্ঘণ করবে। এ চুক্তি চলছে, ১৯৭২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি “সাংহাই কমিউনিক” -এর পর থেকে। তখন মার্কিন সরকার চীনের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছিল যে, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করে, তাইওয়ান প্রণালীর উভয় পাশে সব চীনারা আছেন। সুতরাং একটাই চীন এবং তাইওয়ান চীনের একটি অংশ। মার্কিন সরকার সেই অবস্থানকে কখনোই চ্যালেঞ্জ করে না। এ চুক্তি চীনের নিজেরাই তাইওয়ান প্রশ্নের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির ব্যাপারে আমেরিকার আগ্রহের কথা প্রমাণ করে।

মডার্ণ ডিপ্লোমেসি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত অনুসন্ধানী ঐতিহাসিক ও লেখক এরিক জুয়েসের কলামের কিছু অংশ।

সূত্র: মডার্ণ ডিপ্লোমেসি।



সাতদিনের সেরা