kalerkantho

সোমবার । ২ কার্তিক ১৪২৮। ১৮ অক্টোবর ২০২১। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ইউটিউবারদের আয়ের ওপর করের প্রস্তাব, মিসরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

অনলাইন ডেস্ক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৮:০৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইউটিউবারদের আয়ের ওপর করের প্রস্তাব, মিসরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

১০ লাখ সাবস্ক্রাইবার হওয়ার পর ২০১৬ সালে মিশরের এই ইউটিউবার গোল্ডেন বাটন পান

ইউটিউবার এবং ব্লগারদের বার্ষিক আয় নিবন্ধন ও এর ওপর কর বসানোর পরিকল্পনা করেছে মিসরের সরকার। বার্ষিক আয় ৫ লাখ মিসরীয় পাউন্ড বা ৩২ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি আয়ের ইউটিউবারদের এই কর দিতে হবে বলে জানিয়েছে দেশটির কর কর্তৃপক্ষ। খবর এএফপির।

কর কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আল-গায়ের এএফপিকে বলেন, কারো কর্মক্ষেত্র যাই হোক না কেন, সে যদি মিসরে ব্যবসা করে মুনাফা অর্জন করে তাকে অবশ্যই ন্যায্যভাবে কর দিতে হবে।

নতুন করের হিসাব চলতি বছরের জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

আরেক কর কর্মকর্তা, মুহাম্মদ কেশখ জানিয়েছেন, নতুন সিদ্ধান্ত মানতে ব্যর্থ হলে কর ফাঁকি আইন লঙ্ঘনের অপরাধে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

অনলাইনে কন্টেন্ট নির্মাতাদের ওপর কর ধার্যের এই পরিকল্পনা দেশটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন এই কর আরোপকে সমর্থন জানিয়েছেন।

মিশরীয় এক নাগরিক টুইটারে বলেন, দরিদ্র সবজি বিক্রেতাকে যদি কর দিতে হয়, তাহলে আমরা ধনীদের ওপরও কর আরোপ করতে পারি।

আরেকটি টুইটে বলা হয়, আমি যদি ইউটিউব বা টিকটকে, কিংবা অন্য কোনো সাইট থেকে ৫ লাখ পাউন্ড আয় করতাম, তাহলে কর দিতে আমার কোনো সমস্যা হতো না। এ নিয়ে এত শোরগোল করার কী আছে!

হাসান হেইকাল নামে আরেক ব্যবহারকারী টুইট করেন, 'গুগল, ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদিতে কর আরোপ করা সঠিক কেন? কারণ তারা কর না দিয়েই মিসরের ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে বিজ্ঞাপন ও তথ্য বাবদ অনেক অর্থ উপার্জন করে।'

অপরদিকে অন্যরা দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ইন্টারনেট ব্যক্তিত্বের ওপর কর চাপানোর কোনো অধিকার মিসরীয় সরকারের নেই।

ইন্টারনেটের উচ্চমূল্যের দিকে ইঙ্গিত করে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এক টুইটে বলা হয়, 'সরকার যদি ইউটিউবারদের কাছ থেকে কর নিতে চায় তাহলে অন্তত আমাদের উন্নত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং সীমিত গিগাবাইট প্যাকেজগুলো বাতিল করতে হবে।'

এ ছাড়া আরো একজন করের কোনো যৌক্তিকতা নেই দাবি করে বলেন, ইউটিউব চ্যানেলে কর আরোপ এবং ইন্টারনেট থেকে লাভের বিষয়টি খুবই বিরক্তিকর। আমি কেন এমন কিছুর জন্য কর দেব যেখানে রাষ্ট্র সে ব্যাপারে কোনো পৃষ্ঠপোষকতা করে না? হঠাৎ যদি আমার ইউটিউব চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আমাকে কে সাহায্য করবে? এমন অনেক লোক আছে যারা লাখো টাকা উপার্জন করে, সরকার তাদের কাছ থেকে কর নিক। কিন্তু এই চ্যানেলের কোনো জমি নেই, জায়গা নেই, এমনকি এটি রাষ্ট্রের কোনো ভূমিও দখল করছে না।

যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ভিডিও-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবের ওপর কর আরোপ করেছে। যা প্রকারান্তরে ইউটিউবারদের কাছ থেকেই নেওয়া হয়। কেউ কেউ এদিকে ইঙ্গিত করে মিসরের কর আরোপের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে দাবি করেছেন। 

আহমেদ আবদেল ফাতাহ নামে এক ব্যবহারকারী বলেন, এই বিষয়টি একটি আইনি সমস্যা তৈরি করবে, কেননা ইউটিউব এরই মধ্যে ইউটিউবারদের কাছ থেকে কর নিয়েছে। তাহলে তারা কেন আলাদা করে মিসরের জন্য কর দেবে?

অনেকে আবার করের অর্থ যেন জনগণের উপকারে ব্যবহার করা হয় সেদিকে দৃষ্টিপাত করেছেন। তারা বলেন, 'যদি সরকার ইউটিউবার এবং ইন্টারনেট ব্যক্তিত্বদের ওপর কর আরোপ করে, তাহলে ইন্টারনেটের মান উন্নত করা তাদের ন্যূনতম কর্তব্য।'

উল্লেখ্য, মিমরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কোনো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে ৫ হাজারের বেশি অনুসারী থাকলে দেশটির আইন সেটি পর্যবেক্ষণে রাখার অনুমতি দেয়। সাইবার অপরাধ আইন ব্যবহার করে দেশটির কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অনলাইনে 'অনুপযুক্ত' কনটেন্ট নির্মাণের দায়ে অনেককেই জেল ও জরিমানার শাস্তি দিয়েছে।
সূত্র : দ্য স্টার, মিডলইস্ট মনিটর



সাতদিনের সেরা