kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নর্ডিক সব দেশেই সোস্যালিস্ট সরকার ক্ষমতায়

সাব্বির খান, স্ক্যান্ডিনেভিয়া প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৪:২৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নর্ডিক সব দেশেই সোস্যালিস্ট সরকার ক্ষমতায়

উত্তর মেরুর স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলো বর্তমানে বামপন্থী সরকারের শাসনে পরিচালিত হচ্ছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ- জার্মানিতেও একটি সোস্যাল ডেমোক্র্যাট সরকারপ্রধান থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

সুইডিশ সোস্যাল ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যে বলা শুরু করেছেন এই বলে যে, 'সারা ইউরোপে এখন বাম হাওয়া বইছে'। সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করা সোস্যাল ডেমোক্র্যাটের জোনাস গাহর স্টার খুব শিগগিরই যখন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন তখন অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ নরওয়ে একটি ছোট দেশ হলেও ইউরোপের ক্রমবর্ধমান সমাজতান্ত্রিক শাসকগোষ্ঠীর পাল্লাকেই ভারি করবে।

বর্তমানে সুইডেন সরকারের শীর্ষ পদে বহাল রয়েছেন সোস্যাল ডেমোক্র্যাটের স্টিফান লফভেন যিনি খুব শিগগিরই রাজনীতি থেকে অবসরে যাচ্ছেন। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিক্সেন এবং ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সান্না মেরিন, দু’জনেই সোস্যালিস্ট সরকারের প্রধান। রেইক্যাভিক শাসন করছেন ক্যাটরিন জ্যাকোবসডাতিরের, স্পেন শাসন করছেন পেদ্রো সানচেজ এবং পর্তুগাল শাসন করছেন আন্তোনিও কোস্টা। এদের মধ্যে শুধু ক্যাটরিন জ্যাকোবসডাতির বামপন্থী দলের প্রধানমন্ত্রী এবং বাকি সকলেই সোস্যাল ডেমোক্র্যাটস দলের শাসক। এপ্রসঙ্গে ইইউ পার্লামেন্টারিয়ান হেলেন ফ্রিটজন বলেন, ’ইউরোপে বামপন্থী হাওয়া বইছে’।

ফ্রিটজন ছাড়াও ইউরোপের অন্যান্য সোস্যাল ডেমোক্র্যাট নেতারা এক প্রকার নিশ্চিত যে, শুধু নরওয়েই নয়, জার্মান সোস্যাল ডেমোক্রেটরাও খুব শিগগিরই জার্মানির ক্ষমতা দখল করতে যাচ্ছেন। তথ্যসূত্র মতে, জার্মানির নির্বাচনের পূর্বের বিভিন্ন জরিপে সে দেশের সোস্যাল ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তা ১৫ শতাংশ থেকে অতিসাম্প্রতিক জরিপে তা প্রায় ২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা ইউরোপে সোস্যাল ডেমোক্রেটদের জন্য বিগত দশকের রুগ্নাবস্থা থেকে শক্তিশালী অবস্থানের দিকে ধাবিত হওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। 
এ প্রসঙ্গে সুইডেনের ইইউ পার্লামেন্টেরিয়ান এরিক বার্গকভিস্ট বলেন, ’আমি স্মরণ করতে পারি না যে, শেষ কবে স্ক্যান্ডিক দেশগুলোর সরকারে সোস্যাল ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় ছিল। বর্তমানে সোস্যালিস্টদের যে ইতিবাচক তরঙ্গ বইছে, তা নিঃসন্দেহে একটি অভূতপূর্ব পরিবর্তন’। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি হবে ইউরোপের সবচেয়ে বড়, ধনী এবং সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ জার্মানিতে সোস্যাল ডেমোক্র্যাট ওলাফ স্কোলজের নির্বাচনী বিজয়, বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এক দশকেরও বেশি সময় আগে থেকে বৈশ্বিক আর্থিক সংকট, ইউরো সংকট এবং দেশ শাসনের কঠোর নীতিগুলোর কারণে অনেক ইউরোপীয়, বিশেষ করে শ্রমিক ভোটাররা পুরানো বামপন্থী দলগুলোর প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল। ফ্রান্সে, যেখানে সমাজতান্ত্রিক দল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ক্ষমতার জন্য সেদেশের পুরোনো গলিস্ট পার্টির সঙ্গে সমঝোতা করেছে, ভোটাররা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওই দুই দলকেই পরিহার করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের মতো মধ্য-উদারপন্থী বা উগ্র ডানপন্থী মেরিন লে পেনের ওপর তাঁদের আস্থা অর্পণ করেছে। গ্রিসে পাপান্ড্রেউ পরিবারের ক্লাসিক রাজনৈতিক দল, পাসোক পার্টি ২০১৭ সালে বিলুপ্ত হয়েছিল। একই বছর নেদারল্যান্ডসের পিভিডিএ লেবার পার্টি ২৫ শতাংশ ভোটার সমর্থন থেকে নেমে মাত্র ছয় শতাংশে নেমে এসেছিল, যা ছিল দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ নির্বাচনী ফলাফল।

এছাড়াও ২০১৭ সালে অস্ট্রিয়ার সোস্যাল ডেমোক্র্যাট অ্যান্টাস হ্যারিবিলিস, এবং চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্য-বাম দল ক্ষমতা হারিয়েছিল। ইতালিতে শ্রমিক ভোটারদের একটি জোয়ার উঠেছিল মধ্য-বাম থেকে সরে গিয়ে ফাইভ স্টার মুভমেন্টের মতো পপুলিস্ট পার্টির দিকে এবং রাজনৈতিক আন্দোলনগুলোও মোড় নিয়েছিল ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে।

আগামী সপ্তাহের নির্বাচনে যদি জার্মানির সোস্যাল ডেমোক্রেটিক চ্যান্সেলর ক্ষমতায় যায়, তাহলে ইউরোপের ডান এবং উগ্র ডানপন্থী অভিশাপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। তবে, ইউরোপের সোস্যাল ডেমোক্র্যাটদের প্রকৃত ভোটের ক্ষেত্রে এখনো অনেক দূর যেতে হবে। সম্প্রতি শেষ হওয়া নির্বাচনে নরওয়ের লেবার পার্টি গত ২০১৭ সালের নির্বাচনের তুলনায় প্রকৃত ভোটের এক শতাংশ ভোট কম পেয়েও এবার নির্বাচনে জয়লাভ করে।



সাতদিনের সেরা