kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

তিন দেশের নিরাপত্তা চুক্তি দায়িত্বজ্ঞানহীন: চীন

অনলাইন ডেস্ক   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৬:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিন দেশের নিরাপত্তা চুক্তি দায়িত্বজ্ঞানহীন: চীন

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার ত্রিপক্ষীয় চুক্তিকে 'চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন' ও 'সংকীর্ণ মানসিকতা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে চীন। বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে এ চুক্তি করেছে তিন দেশ। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাঁও লিজিয়ান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য অস্ট্রেলিয়ার জোট আঞ্চলিক শান্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে জোরদার করছে। এই স্নায়ু যুদ্ধ মানসিকতায় এই তিন দেশের স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্থ হবে।’

বলা হয়েছে, ওই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য অস্ট্রেলিয়াকে পরমাণুচালিত সাবমেরিন নির্মাণের প্রযুক্তি দিয়ে সহযোগিতা করবে। এ চুক্তির মানে হল, অস্ট্রেলিয়া এখন পরমাণু চালিত সাবমেরিন তৈরি করতে পারবে, যা প্রচলিত সাবমেরিনের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুতগতির এবং একে চিহ্নিত করা আরো কঠিন। এ ধরণের সাবমেরিন কয়েক মাস পানিতে ডুবে থাকতে পারে এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম। যদিও অস্ট্রেলিয়া বলছে, সাবমেরিনে পরমাণু অস্ত্র বহনের কোন পরিকল্পনা দেশটির নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ‘অকাস’ প্রযুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। ক্ষমতাধর তিন দেশের নেতারা বলছেন, দক্ষিণ চীন সাগরে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে ও ক্রমাগত বাড়ছে। তিন দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও উন্নতি নিশ্চিত করা ও মূল্যবোধ সুরক্ষার জন্য সম মানসিকতার জোট আর অংশীদার হিসেবে এটা তিন দেশের জন্য ঐতিহাসিক সুযোগ। 

বিশ্লেষকরা বলছেন অকাস নামের নতুন চুক্তিটি সম্ভব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা। এর অর্থ হল, অস্ট্রেলিয়া হবে পরমাণু সাবমেরিন সমৃদ্ধ সপ্তম দেশ। এর পাশাপাশি দেশটি সাইবার সক্ষমতা এবং সাগরতলে কাজ করার নানা প্রযুক্তিও পাবে। বরিস জনসন পরে বলেছেন, চুক্তিটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ চীন সাগরে বিরোধপূর্ণ জায়গাগুলোতে উত্তেজনা ছড়ানোর জন্য বেইজিংকে দায়ী করে আসছিলো পশ্চিমারা। চীন ওই অঞ্চলে তার শতবর্ষ পুরাতন অধিকার আছে বলে দাবি করছে এবং এর পক্ষে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছিলো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রও তার মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের স্বার্থ সুরক্ষায় সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় সাবমেরিন স্টেশন থাকা মানে ওই অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা। 

চীন অস্ট্রেলিয়ার বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং অতীতেও দু দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দু'দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষ করে চীনের উইঘুরদের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান, টেলিকম কোম্পানি হুয়াওয়ের কিছু প্রযুক্তি নিষিদ্ধ করা এবং করোনাভাইরাস মহামারি তদন্তে সমর্থন দেওয়া নিয়ে তাদের রাজনৈতিক সম্পর্কে ভাঙ্গন ধরেছে।

তাছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাপক বাড়ানো নিয়েও পশ্চিমারা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছিল। তারা চীনের কিছু ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষুব্ধ ছিল। যেমন গত বছরই চীন অস্ট্রেলিয়ার ওয়াইনের ওপর কর বাড়িয়েছিল দুশো ভাগ পর্যন্ত। গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, চীনের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার নিজেকে সুরক্ষার পক্ষে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্র: সাউথ চাইনা মর্ং পোস্ট।



সাতদিনের সেরা