kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

তালেবান সরকারের নেতৃত্বে বারাদার

► নতুন সরকার ঘোষণা আজ!
► পানশিরে তীব্র লড়াই
► কাবুল থেকে দূতাবাস সরাবে না চীন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক    

৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৩:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তালেবান সরকারের নেতৃত্বে বারাদার

ছবি: ইন্টারনেট

তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল গনি বারাদারের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন হতে যাচ্ছে আফগানিস্তানে। আজ শনিবার দুপুরের পর নতুন সরকারের ঘোষণা আসার কথা। তালেবানের একাধিক কর্মকর্তা গতকাল শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জানিয়েছে, কয়েকটি শর্তে তারা তালেবান সরকারের সঙ্গে কাজ করতে রাজি আছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশ্বাস, এবারের তালেবান ‘সভ্য’ হবে। আর কাবুল থেকে নিজেদের দূতাবাস না সরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।

এদিকে আফগানিস্তানের পানশির উপত্যকায় তালেবান ও ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের (এনআরএফ) লড়াই অব্যাহত আছে। লড়াইয়ে উভয় পক্ষই নিজেদের অগ্রগতি দাবি করেছে।

গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখল করে নেয় তালেবান যোদ্ধারা। এর মধ্যে গত ৩১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তান ছাড়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী। মূলত এর পর থেকেই আফগানিস্তানের সম্ভাব্য নতুন সরকার নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। গত বৃহস্পতিবার একাধিক তালেবান নেতা জানিয়েছিলেন, শুক্রবার (গতকাল) আসর নামাজের পরেই নতুন সরকার  ঘোষণা করা হবে। কিন্তু গতকাল দুপুরে তালেবানের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, সরকার গঠনের কাজ প্রায় শেষ। কিন্তু শনিবার (আজ) সকালের আগে নতুন সরকার ঘোষণা করা সম্ভব হবে না।

একাধিক তালেবান নেতার বরাত দিয়ে গতকাল রয়টার্সের খবরে বলা হয়, নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে থাকবেন সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল গনি বারাদার। তাঁর সঙ্গে শীর্ষস্থানীয় পদে দেখা যাবে তালেবান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব এবং শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাইকেও। এরই মধ্যে শীর্ষস্থানীয় নেতারা কাবুলে পৌঁছেছেন।

এর আগে সরকারের নেতৃত্বে সংগঠনটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হায়বাতুল্লাহ আখুনজাদার নাম শোনা গিয়েছিল। কিন্তু গতকালের খবর অনুযায়ী, আখুনজাদা এখন থেকে ইসলামের কাঠামোর মধ্যে ধর্মীয় বিষয়াদি ও শাসনব্যবস্থা তদারকি করবেন।

তালেবানের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন সরকারে ১২ সদস্যের একটি শুরা কাউন্সিল থাকবে। থাকবে ২৫টি মন্ত্রণালয়। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে লয়া জিরগা বা জাতীয় পরিষদের সভা করারও পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেখানে আফগান সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধি ও বয়সীদের নিয়ে নতুন সংবিধান ও ভবিষ্যৎ সরকার কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে।

সরকার গঠনের পর তালেবানকে সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি আদায়ের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা তাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন হবে। চীন, রাশিয়া, ইরান কিংবা পাকিস্তানের মতো কয়েকটি দেশ হয়তো সহজেই তালেবানকে স্বীকৃতি দিয়ে দেবে। গতকাল ইইউয়ের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল বলেন, ‘আফগানিস্তানের সরকারের সঙ্গে আমরা কাজ করব। কিন্তু এর মানে এই নয় যে তাদের আমরা স্বীকৃতি দিয়ে দিলাম। আর তালেবানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়বে কি না, সেটা নির্ভর করবে তাদের আচরণের ওপর।’

তালেবানের এক মুখপাত্র গতকাল জানান, চীন তাদের কাবুল দূতাবাস খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান পুনর্গঠনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে বেইজিং।

রাজধানী কাবুল থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত পানশির উপত্যকা এখনো দখল করতে পারেনি তালেবান। সেখানে এনআরএফ যোদ্ধাদের সঙ্গে তাদের তীব্র লড়াই চলছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ গতকাল দাবি করেন, ‘তাদের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর আমরা অভিযান শুরু করেছি। অভিযানে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’ কিন্তু এনআরএফএর মুখপাত্র দাবি করেছেন, পানশিরের সব গিরিপথ ও প্রবেশপথ এখনো তাঁদের নিয়ন্ত্রণে আছে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।



সাতদিনের সেরা