kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

যুক্তরাষ্ট্রের বিদায় উদযাপন করল তালেবান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৩:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রের বিদায় উদযাপন করল তালেবান

ছবি: ইন্টারনেট

পুরো আফগানিস্তান দখল এবং বিদেশি সেনাদের বিদায়—দুই অর্জন একসঙ্গে উদযাপন করলেন তালেবান সদস্যরা। গত সোমবার মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ ফ্লাইটটি কাবুল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরেই উল্লাসে মেতে ওঠেন তাঁরা।

গত সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে মার্কিন সেনাদের বহনকারী শেষ বিমানটি কাবুল বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। আর এর মধ্য দিয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের দুই দশকের অভিযানের ইতি ঘটে আফগানিস্তানে। এই যুদ্ধে প্রতিদিন গড়ে ৩০ কোটি ডলার খরচ করতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। এ ছাড়া সামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে ২০ বছরের যুদ্ধে প্রাণ গেছে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের।

তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, যে মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ বিমানটি উড্ডয়ন করেছে, ওই মুহূর্তে আফগানিস্তান ‘সম্পূর্ণ স্বাধীনতা’ অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে আমি গর্বিত। আফগানিস্তানকে অভিনন্দন। এই জয় আমাদের সবার। আমরা যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাই।’

গতকাল মঙ্গলবার ভোরে বিমানবন্দর এলাকায় তালেবান যোদ্ধাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের আত্মত্যাগের জন্য গর্বিত। আপনারা ও আমাদের নেতারা যে কষ্ট করেছেন, তার বিনিময়েই এই অর্জন। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের এই দেশ আর কখনো দখল হবে না। আমরা শান্তি, সমৃদ্ধি ও সত্যিকার ইসলামী পদ্ধতি চাই।’ আফগানদের সঙ্গে ভদ্র আচরণের আহ্বান জানিয়ে তালেবান যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই জাতিকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ভালোবাসা ও সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ আফগান জনগণের প্রাপ্য।’

মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার পরও কাবুল বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের ৭৩টি যুদ্ধবিমান, ৭০টি সাঁজোয়া যান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ২৭টি হামভি গাড়ি রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিশন কমান্ডার জেনারেল কেনেথ ম্যাকেনজি গতকাল এক ব্রিফিংয়ে জানান, তালেবান যাতে ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য এসব সামরিক সরঞ্জাম অকার্যকর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিমানগুলো আর ওড়ানোই যাবে না।’ ম্যাকেনজি অভিযোগ করেন, তালেবানের বাধার কারণে শতাধিক মার্কিনকে আফগানিস্তান থেকে আনা যায়নি। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সব সেনা আফগানিস্তান ছেড়েছে তা আমি শতাভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারি। তবে এই প্রস্থানের সঙ্গে অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনাও যুক্ত আছে। যাদের সরিয়ে আনতে চেয়েছিলাম, তাদের সবাইকে আনতে পারিনি। হাতে যদি আরো ১০ দিনও সময় থাকত, এর পরও আমরা তাদের আনতে পারতাম না।’

বিদেশি সেনারা চলে যাওয়ার পর কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের আফগান শাখার (আইএস-কে) জঙ্গিরা। তুরস্ক তালেবানকে প্রস্তাব দিয়েছে যে তারা বিমানবন্দরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে চায়। এ ছাড়া তালেবান জানিয়েছে, বিদেশি সেনারা চলে যাওয়ার পর এমনিতেই জঙ্গি হামলা বন্ধ হয়ে যাবে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।



সাতদিনের সেরা