kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

বিয়ের জন্য ঘরে ঘরে মেয়ে খুঁজছে তালেবান : পালিয়ে আসা সাংবাদিক

অনলাইন ডেস্ক   

২৯ আগস্ট, ২০২১ ১৬:৩৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিয়ের জন্য ঘরে ঘরে মেয়ে খুঁজছে তালেবান : পালিয়ে আসা সাংবাদিক

পালিয়ে আসা সাংবাদিক হলি ম্যাককে

আফগানিস্তানের পতনের পর দেশটির নারীদের জীবন কীভাবে ১৮০ ডিগ্রি মোড় নিয়েছে তা বর্ণনা করেছেন আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে আসা এক সাংবাদিক। হলি ম্যাককে নামের ওই সাংবাদিক দ্য ডালাস মর্নিং নিউজে লিখেছেন, গত সপ্তাহে কাবুল দখল করার পর, তালেবান সেখানকার ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, বিয়ের জন্য ১৫ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের খুঁজছে তারা। ম্যাককে আরো বলেন, যদিও তিনি মাজার-ই-শরিফ ত্যাগ করতে পেরেছিলেন, তবে তার আফগান বন্ধুরা বের হতে পারেননি। তাদের জন্য অপেক্ষা করছে অজানা ভয়।

ম্যাককে লিখেছেন, 'আমি ভাবছিলাম যে এই দেশের নারীরা তাদের স্বাধীনতার জন্য কতটা লড়াই করেছে! কেবলমাত্র আঙুলের একটি চাপেই তাদের বিদ্রোহের ইতি টানা হলো!' ম্যাককে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর কথা লিখেছেন, মেয়েটির সঙ্গে কাবুলের একটি শরণার্থীকেন্দ্রে দেখা হয়েছিল তার। মেয়েটি কুন্দুজের যুদ্ধ থেকে জীবন নিয়ে পালিয়ে এসেছিল। মেয়েটি কেবল শিক্ষিত হতে চেয়েছিল। একদিন ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখত সে।

ম্যাককে আরো একজন আফগান মহিলা ফারিহা ইজারের কথা লিখেছেন, যার সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল কয়েক বছর আগে। ফারিহা, যিনি আফগান নারীদের কণ্ঠস্বর ছিলেন এবং আফগান নারীদের দুর্ভোগ আলোচনায় আনতে এবং পরিবর্তনের জন্য একটি শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। তবে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর তার প্রচেষ্টা ধ্বংস হয়ে যায়। ফারিহা বলেন, 'বাইরের দেশে থাকা আমার বন্ধুরা আমাকে আমার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছে। কিন্তু কিভাবে, যখন আমার বোনেরা কষ্ট পাচ্ছে?'

'আঘাত এবং অদৃশ্যতা এই সব অবিশ্বাস্য সাহসী মানবাধিকরকর্মীর ভয় নয়। তিনি (ফারিহা) আমাকে (ম্যাককে) বলেছিলেন যে, তালোবান ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, বিয়ের জন্য ১৫ বছর বয়সী নারী ও মেয়েদের খুঁজছে তারা। এক মাস আগে, বিদ্রোহী সদস্যরা বাদাখশানে তার এক বন্ধুর বাড়িতে হানা দেয়, তরুণ বধূ খুঁজছিল তারা। ফারিহা আমাকে তার বন্ধুর কাছ থেকে শোনা গল্পটি বলেছিল,' ম্যাককে বলেন।

'তারা বলছিল যে তারাই পরিত্রাতা, ইসলামের রক্ষক, পাশ্চাত্যের মুক্তিদাতা,' ফারিহা ক্ষুদ্র কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলল। 'তারা একজন বাবাকে তার মেয়েদের স্ত্রী হিসেবে দিতে বলেছিল। তারা বলেছিল যে তালেবানদের একজন মোল্লা তাকে বিয়ে করবেন, এবং তাদের অবশ্যই তার জন্য বাগদান করতে হবে।' ফরিহা জানায়, অনুরোধটি ছিল কেবল নামেমাত্র অনুরোধ। কোনো উপায় ছিল না। অবিবাহিত ২১ বছর বয়সী মেয়েটিকে শেষ রাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

'বিয়ের পর, তারা ওই তরুণীকে নিয়ে যায়। কিন্তু তার বাবা তিন দিন পর জানতে পারেন যে কেবল ওই তালেবানই তাকে বিয়ে করেছেন এবং তার সাথে যৌনসম্পর্ক করেছিলেন তা নয়, তিনি প্রতিরাতে আরো চারজনকে দিয়ে ধর্ষণ করাতেন। মেয়েটির বাবা জেলা শাসকের কাছে গিয়েছিলেন এবং তাকে বলা হয়েছিল যে তিনি কিছুই করতে পারেন না। যা কিছু করা যায়, তাকে নিজে করতে হবে।' এই মারাত্মক ট্র্যাজেডির পর ওই বাবা তার সব মেয়েদের নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। ম্যাককে জানান। তালেবানের সঙ্গে জোরপূর্বক বিবাহ হওয়ার সম্ভাবনা এখন লাখো আফগান মেয়ে ও নারীদের আতঙ্কের কারণ। ন্যাটোর উপস্থিতিতে তাদের দেওয়া নিরাপত্তাবলয় ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।

'কিছুই পরিবর্তন হয়নি। তারা (তালেবান) বলার চেষ্টা করছে যে তারা তাদের আচরণ পরিবর্তন করেছে, কিন্তু তারা তা করেনি,' ফারিহা তার মৃদু কণ্ঠে কাঁপুনি দিয়ে বলল। 'তারা বদলায়নি, এবং তারা বদলাবেও না। তাদের পরিচয় দেওয়া হয় সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড, মানবাধিকারের ক্রমাগত লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত হিসাবে।' এবং এটিই তাদের পরিচয় থাকবে, বলেন ফারিহা।

ম্যাককে আরো লিখেছেন, 'উত্তরের শহর মাজার-ই-শরিফের ভেতরে থাকার সময় আমার নিজের অভিজ্ঞতার মধ্যে, গত শনিবার যখন তালেবান এটির দখল নেয়, আমি দেখেছিলাম যে নারীদের অবাধ বিচরণে ঝলমলে শহরটি তাত্ক্ষণিকভাবে একটি ভূতের শহরে পরিণত হয়ে গেল। যে কজন মহিলা অবশেষে সেদিন সূর্যের আলোতে পা রেখেছিল তারা নীল রঙের বোরকা পরেছিল।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া



সাতদিনের সেরা