kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পেটে সন্তান, তালেবানের ভয়ে পাহাড় ভেঙে পালাচ্ছে ফাতিমারা

অনলাইন ডেস্ক   

১৪ আগস্ট, ২০২১ ১৯:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পেটে সন্তান, তালেবানের ভয়ে পাহাড় ভেঙে পালাচ্ছে ফাতিমারা

মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অবশ্য তাদের সবশেষ মূল্যায়নে বলছে, তালেবান আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কাবুলের দিকে এগুনোর চেষ্টা করতে পারে। কাবুল প্রদেশের কাছাকাছি এলাকায় তালেবান অবস্থানগুলোতে মার্কিন বাহিনী সম্প্রতি বিমান হামলাও চালিয়েছে। কিন্তু সেই অনুমান ভুল প্রমাণিত হতে চলেছে। কারণ স্থানীয় এক আইনপ্রণেতা বলেন, বর্তমানে কাবুল থেকে ১১ কিলোমিটার দূরের চার আসিয়াব জেলায় পৌঁছেছে তালেবানরা।

এর মাসখানেক আগের কথা। প্রচণ্ড অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙেছিল আফগানিস্তানের মালিস্তান জেলার বাসিন্দাদের। অস্বস্তি আরো বেড়ে গিয়েছিল ‘তালেবান এলাকার দখল নিচ্ছে’ খবরটি শুনে। গত ১৩ জুলাই দুপুরের মধ্যেই রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল ওই জেলার কোল এ আদম গ্রাম। আফগান সৈন্য বনাম তালিবান, গুলির লড়াইয়ে কান ঢেকে বসেছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরুণী ফাতিমা। বুলেটের লড়াইয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল অন্য দুশ্চিন্তা। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর কী হবে! কোন দেশ দেখবে সে? এমনই চিন্তাই আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরেছিল তাঁকে। গ্রামের দখল নিয়ে নিতে পারলে তো তাঁকেও অন্য নারীদের মতো আটক করা হবে! এই চিন্তাও ঘুরপাক খাচ্ছিল ফাতিমার মাথায়। এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২২ বছরের তরুণী বলেন, ‘তালেবান পুরুষদের হত্যা করে এবং মহিলাদের কুক্ষিগত করে রাখত এই ধরনের গল্প আমরা ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছি। ভয় কাকে বলে সেটা বুঝেছিলাম ওইদিন’।

তিনি আরো বলেন, আগে যখন ওঁরা (তালেবান) আমাদের গ্রামে এসেছিল, তখন একটি মেয়েকে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু তার আগে মেয়েটি আত্মহত্যা করে’। অতীতের ওই ঘটনার স্মৃতি যেন ফিরছিল ফাতিমার চোখে! তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর কট্টরপন্থী সংগঠনের যোদ্ধারা গ্রামবাসীদের বাড়িতে গিয়ে নারী দিয়ে কাজ করাতেন, খাবার বানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতে শুরু করেন। এর ঠিক তিনদিন পর মালিস্তানের দখল নেয় তালিবান। ফাতিমা অবশ্য তার আগেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে এসেছিলেন। ফাতিমার কথায়, ‘আমি নিজের পরিবারের সঙ্গে হাঁটতে শুরু করি। পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে ২৪ ঘণ্টা হেঁটে গজনী শহরে পৌঁছেছিলাম। সেখানে এক গাড়ির চালককে তিনগুণ টাকা দিয়ে কাবুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম’।

তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মতো প্রায় ৫০-৬০টি পরিবার ওই জেলা থেকে পালিয়ে আসে। শুধুমাত্র বয়স্করা চোদ্দ পুরুষের ভিটের মায়া ত্যাগ করতে না পেরে সেখানেই রয়ে যান। দেশের বেশিরভাগের দখল তালিবানের হাতে চলে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন ফাতিমার মতো বহু আফগানবাসী। যাঁদের সন্তান এখনও ভূমিষ্ঠ হয়নি, তাঁরা ফাতিমার মতোই ভাবছেন, 'এ কোন দেশ দেখবে সন্তান! আদৌ দেখবে তো'?

বর্তমানে কাবুলের পথে ঘাটে ক্যাম্প করে থাকতে শুরু করেছেন তালিবান অধিকৃত এলাকার বাসিন্দারা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্বাস্তুদের ৭০ শতাংশ নারী এবং শিশু।

আফগানিস্তানের রাজধানী থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে যখন তালেবান, তখন কাবুল দখলও যে অবশ্যম্ভাবী সেই আশঙ্কায় বুক কাঁপছে আফগান নারীদের। ‘তাহলে কী পাহাড় পর্বত পেরিয়েও সন্তানকে সুদিন দেখাতে পারব না’, প্রশ্ন তুলছেন ফাতিমারা।



সাতদিনের সেরা