kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

'দুই টিকা এবং এন্টিবডি'- ডেল্টা থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে না!

সাব্বির খান, স্ক্যান্ডিনেভিয়া প্রতিনিধি   

২৬ জুলাই, ২০২১ ২২:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'দুই টিকা এবং এন্টিবডি'- ডেল্টা থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে না!

গত সপ্তাহের এক জরিপে দেয়া যায়, সুইডেনে যারা ইতিমধ্যে ভ্যাকসিনের দু’টি ডোজই পেয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩৫০০ জন পুনরায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন যা সুইডেনে পূর্ণডোজ গ্রহণকারীদের ০.১৫ শতাংশ। ইউরোপের প্রায় ২০টি দেশসহ সুইডেনের বড় ছয়টি জেলায় কভিড-১৯ এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ইতিমধ্যে করোনার চতুর্থ তরঙ্গ হিসেবে অভিহত করেছে সুইডেনের স্বাস্থ্য সংস্থা।

ভ্যাকসিনের পূর্ণডোজ নিয়েছেন এমন লোকদের মধ্যে সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়টি সুইডেনসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোকে বিশেষভাবে চিন্তিত করে তুলেছে। সম্প্রতি ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ বলেন, তিনি অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ পাওয়ার পরেও কভিড-১৯-এ পুনরায় আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও তার লক্ষণগুলি হালকা ছিল। সুইডেনে সংক্রমণের হার কয়েক সপ্তাহ ধরে ফিনল্যান্ডের চেয়ে কম হলেও তা এখন ক্রমেই বাড়ছে।

বিষয়টিকে ’প্রত্যাশিত’ বলে সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আলী মীরাজিমি বলেন, কোনো ভ্যাকসিনই সম্পূর্ণ সুরক্ষা সরবরাহ করতে পারছে না। সাধারণত একটি ভ্যাকসিন রোগের গুরুতর অবস্থা থেকে রক্ষা করে। সম্পূর্ণরূপে টিকা প্রাপ্তদের অনেকের সংক্রমিত হওয়ার পরেও কভিড-১৯ এর কোনো লক্ষণই ছিল না বলে জানিয়েছে সুইডিশ জনস্বাস্থ্য সংস্থা। এর মধ্যেও ব্যতিক্রম রয়েছে। জুনের মাঝামাঝি সময়ে, টিকার দুটি ডোজ দেওয়া সত্ত্বেও সুইডেনে কভিড-১৯ এ মারা গিয়েছিল ১৮০ জন যাদের গড় বয়স ছিল ৮৭ বছর এবং সর্বকনিষ্ঠের বয়স ছিল ৪৩ বছর। সুইডিশ জনস্বাস্থ্য সংস্থা তাদের ওয়েব সাইটে জানিয়েছে, পূর্ণটিকা প্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিজেরাও করোনায় অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন এবং অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে, যদিও তাদের লক্ষণগুলো চোখে পড়ে না।

স্টকহোম অঞ্চলীয় সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে জানা যায়, সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে সংক্রমণের বৃদ্ধির হার ভয়াবহ এবং ১৮-২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। ভারতীয় ডেল্টা ভেরিয়েন্টের ভাইরাসটি জুলাই মাসে সুইডেনে অধিক হারে ছড়াতে শুরু করে এবং সুইডেনের সরকারি হিসেবে প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ ডেল্টা দ্বারা সংক্রামিত হয়।

সমীক্ষায় দেখা যায়, ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজটি অন্যান্য ভেরিয়েন্টের মতো ডেল্টার বিরুদ্ধেও ততটা সুরক্ষা দেয় না। ইসরায়েলের এক গবেষণায় দাবি করা হয়, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরেও ডেল্টা ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধে যথেষ্ঠ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে ভ্যাকসিন।

সুইডেনের ভ্যাকসিন সমন্বয়কারী রিচার্ড বার্গস্ট্রোম জানিয়েছেন, সুইডেন ডিসেম্বরের মধ্যেই আপডেট হওয়া ভ্যাকসিনগুলো হাতে পেতে পারি যা করোনার নতুন ভেরিয়েন্টগুলোর বিরুদ্ধে আরো ভালো সুরক্ষা দিতে পারবে।

তবে, অনেক নেতিবাচক সংবাদের মধ্যেও সুইডেনের জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সুইডেনের প্রতি দ্বিতীয় ব্যক্তির দেহে, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের চেয়ে বেশি ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ’অ্যান্টিবডি’ তৈরি হয়েছে যা স্বস্তিদায়ক।

সুইডেনের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত কয়েক হাজার ব্যক্তির রক্তের নমুনার সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় সব বয়সী সুইডিশদের দেহেই কভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে। এ বছরের মে থেকে জুনের মধ্যে করা এই সমীক্ষায় দেখা যায়, ৬৫ থেকে ৯৫ বছর বয়সের লোকদের মধ্যে ৮৫ শতাংশের দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তবে, টিকাপ্রাপ্ত তরুণদের মধ্যে অ্যান্টিবডির অনুপাত সময়ের সাথে কমতে থাকে বলে দেখা যায়। ২০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের দেহে এন্টিবডির উপস্থিতির হার প্রায় ৫২ শতাংশ যা স্বস্তিদায়ক নয় বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে শিশু এবং তরুণদের মধ্যে টিকা দেওয়ার হার কম থাকা সত্ত্বেও এক চতুর্থাংশেরও বেশি অর্থাৎ ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩০ শতাংশের দেহে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে।



সাতদিনের সেরা