kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ফিলিস্তিনি কিশোরকে গুলি করে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক   

২৫ জুলাই, ২০২১ ১৬:৫১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ফিলিস্তিনি কিশোরকে গুলি করে হত্যা

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সৈন্যদের গুলিতে এক ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গতকাল শনিবার এই খবর সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়। এর আগে গত শুক্রবার পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরের কাছে নবী সালেহ গ্রামে ফিলিস্তিনিদের এক বিক্ষোভে ইসরায়েলি সৈন্যরা গুলি চালালে পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে ওই কিশোর আহত হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। নিহত কিশোরের নাম মোহাম্মদ মুনির(১৭)। সে আল-তামিমি নবী সালেহ গ্রামের বাসিন্দা।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের কাছে এক ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, এক সন্দেহভাজন পাথর নিক্ষেপ করে 'এক সৈন্যের জীবন হুমকির মুখে ফেললে' তাকে আইন অনুসারে গুলি করা হয়। অপরদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে মোহাম্মদের মা বলেন, 'আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ বুলেট ব্যবহার করে তাকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে।'

তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও চিত্রে দেখা যাচ্ছে যে, ইসরায়েলি এক সৈন্য দরজা খুলে মোহাম্মদকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি করে শান্তভাবে স্থান ত্যাগ করে। পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছাকাছি বাইতা গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১৪৬ ফিলিস্তিনি আহত হওয়ার একদিন পরেই এই কিশোরের নিহত হওয়ার খবর এল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়, গতকাল শনিবার ওই কিশোরের জানাজায় শত শত ফিলিস্তিনি অংশ নিয়েছেন।

১৯৬৭ সালে ছয় দিনের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীর দখল করে ইসরায়েল। ওই সময় থেকে ইসরায়েলি নাগরিকরা পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন শুরু করে। দখলকৃত ভূমিতে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ অবৈধ হলেও এখনও পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ করে আসছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

১৯৯৩ সালে অসলো শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম তীর থেকে ধীরে ধীরে ইহুদি বসতি সরিয়ে নিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে তার নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের কথা থাকলেও ইসরায়েল এই বিষয়ে এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ধারণা অনুসারে, বর্তমানে পশ্চিম তীরে ১৬৪ বসতি ও ১১৬ উপনিবেশে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ইহদি বসতি স্থাপনকারী বাস করছেন।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই।



সাতদিনের সেরা