kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

থুতনিতে বন্দুক ঠেকিয়ে সেলফি, ক্যামেরার বদলে ‌ট্রিগারে চাপ!

অনলাইন ডেস্ক   

২৫ জুলাই, ২০২১ ১৬:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



থুতনিতে বন্দুক ঠেকিয়ে সেলফি, ক্যামেরার বদলে ‌ট্রিগারে চাপ!

সাহসী কিছু করে দেখানোর শখ ছিল। এমন সাহস দেখানোই কাল হলো ভারতের উত্তর প্রদেশের এক গৃহবধূর। গুলিভর্তি বন্দুক নিয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে 'খুলি উড়িয়ে' ফেললেন তিনি! যোগীরাজ্যের হারদুই অঞ্চলে এ ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে।

কিন্তু, কীভাবে চলল বন্দুকের গুলি? জানা গেছে, থুতনিতে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে সেলফি তুলছিলেন উত্তর প্রদেশ লখনউয়ের হরদই অঞ্চলের বাসিন্দা রাধিকা গুপ্তা। একটা হাত মোবাইলের কিপ্যাডে থাকলেও ছবি তোলার সময় তরুণীর অপর হাত ছিল বন্দুকের ট্রিগারে। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। অসাবধানতাবশত চাপ পড়ে যায় ট্রিগারে। ব্যাস! গুলি বেরিয়ে সোজা গৃহবধূর মাথায়। 

শ্বশুরের বন্দুক নিয়ে এই সেলফি স্টান্ট করছিলেন রাধিকা। ২৬ বছর বয়সী এই তরুণী প্রায়ই নানা পোজে সেলফি তুলতে পছন্দ করতেন বলে জানা গেছে। সেলফি তোলার সময় সাহসী কিছু করতে গিয়েই দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু হলো তার। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে বেরোনো গুলি তার গলা ও ঘাড় ফুঁড়ে সোজা মাথা এফোঁড়-ওফোঁড় করে বেরিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

রাধিকার শ্বশুর রাজেশ গুপ্তা জানান, তার ছেলে আকাশ গুপ্তার সঙ্গে রাধিকার বিয়ে হয় চলতি বছরের মে মাসে। এই বন্দুকটি তাদের লাইসেন্সপ্রাপ্ত। তবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য ১২-বোর একনলা বন্দুকটি থানায় জমা রাখতে হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার আকাশ সেটি বাড়িতে ফেরত আনেন। বাড়ির দোতলায় সেটি রাখা ছিল। ওই দিনই বিকাল ৪টার দিকে বাড়ির সদস্যরা গুলির শব্দ শুনতে পান। রাধিকার ঘরে পৌঁছে দেখেন, তিনি রক্তে ভাসছেন। হাতে রয়েছে সেই একনলা বন্দুক। সামনে তার মোবাইলটি পড়ে থাকতে দেখেন সকলেই। সেখানেই বন্দুকসহ রাধিকার সেলফি দেখা যায়। বুঝতে কোনো অসুবিধা হয়নি, সেলফি তোলার কারসাজি করতে গিয়েই এই মর্মান্তিক পরিণতি।

পুলিশ বন্দুক ও মোবাইল ফোনটি জব্দ করেছে। এর মধ্যে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সেগুলো পাঠানো হয়েছে। রাধিকার ফোন থেকে পাওয়া ছবি মৃত্যুর কয়েক সেকেন্ড আগে তোলা হয়েছিল বলে জানায় পুলিশ। 

এ ঘটনায় রাধিকার স্বামী আকাশকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আকাশ জানান, তার স্ত্রী বন্দুক দেখার পর থেকেই ব্যাপক উৎসাহিত ছিলেন। সে বন্দুক পাশে রেখে বেশ কয়েকটি ছবিও তুলেছিলেন। যদিও রাধিকার বাবা মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করে জানিয়েছেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনই যৌতুকের জন্য রাধিকাকে খুন করেছে।
সূত্র : এইসময়



সাতদিনের সেরা