kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

করোনা প্রতিরোধে বিশ্বের প্রথম প্লাজমিড ডিএনএ টিকা ভারতে

অনুমোদনের অপেক্ষায়

অনলাইন ডেস্ক   

৫ জুলাই, ২০২১ ০৭:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা প্রতিরোধে বিশ্বের প্রথম প্লাজমিড ডিএনএ টিকা ভারতে

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আবিষ্কৃত বিশ্বের প্রথম প্লাজমিড ডিএনএ টিকা 'জাইকভ-ডি' জরুরি ব্যবহারে অনুমোদন চেয়েছে ওষুধ প্রস্তুতকারক ভারতীয় প্রতিষ্ঠান জাইডাস ক্যাডিলা। অনুমোদন পেলে এটি হবে করোনারোধী বিশ্বের প্রথম তিন ডোজের টিকা।

যদিও অন্য সব টিকার মতো জাইডাসের টিকার দুই ডোজে করোনা প্রতিরোধে সাফল্যের হার কতটা, তাও বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে বৃহস্পতিবার (০১ জুলাই) আবেদন করে হায়দরাবাদভিত্তিক বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান জাইডাস ক্যাডিলা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী গবেষণায় টিকাটি করোনা প্রতিরোধে ৬৬ দশমিক ৬ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে।

বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় অন্তর্বর্তী গবেষণার অর্থ হলো, পরীক্ষা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই আপাতত প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।

ভারতজুড়ে ২৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ওপর পরীক্ষা ও অন্তর্বর্তী গবেষণার ভিত্তিতে টিকার কার্যকারিতার হার উপস্থাপন করেছে জাইডাস। স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছিল প্রায় এক হাজার কিশোর-কিশোরী।

জাইডাস ক্যাডিলা বলছে, টিকাটিতে অনুমতি মিললে এটি হবে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের গবেষণালব্ধ করোনা প্রতিরোধী দ্বিতীয় টিকা।

এর আগে ভারত বায়োটেকের উদ্ভাবিত ‘কোভ্যাক্সিন’ টিকায় অনুমোদন দেয় ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে ভারত করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু ও সংক্রমণ দেখলেও মে মাস থেকে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে। যদিও মহামারির তৃতীয় ধাক্কা আসন্ন বলে সতর্ক করেছেন দেশটির স্বাস্থ্যবিদরা। মহামারির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে টিকাই একমাত্র উপায় বলে মনে করছেন তারা।

তথ্য বিশ্লেষণ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্লোবালডাটার ওষুধ শিল্পবিষয়ক বিশ্লেষক প্রশান্ত খাড়ায়াটে বলেন, জাইডাসের টিকা অনুমোদন পেলে এটি হবে ভারতে অনুমোদনপ্রাপ্ত পঞ্চম টিকা। এটি প্রয়োগ শুরু হলে দেশটির সামগ্রিক টিকা কার্যক্রমে গতি আসবে।

এর আগে ভারতে কোভিশিল্ড, কোভ্যাক্সিন, স্পুটনিক ভি এবং মডার্নার টিকা অনুমোদন দেওয়া হয়।

জাইডাস বলছে, টিকাটি তৈরিতে সার্স-কভ-টু ভাইরাসের জেনেটিক কোড অর্থাৎ ডিএনএ অথবা আরএনএর নির্দিষ্ট অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। আমিষের যে বহিঃআবরণ ক্ষতিকর ভাইরাসটিকে মানব কোষে যুক্ত থাকতে সাহায্য করে, সেটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে জেনেটিক কোডের অংশ যোগ করা হয়। টিকাটি অনুমোদন পেলে এটি বিশ্বের প্রথম ডিএনএভিত্তিক টিকা হবে।

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুমোদিত টিকার মধ্যে ফাইজার-মডার্নার টিকাগুলো এমআরএনএ প্রযুক্তিভিত্তিক। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা তৈরি হয়েছে ভাইরাল ভেক্টর প্রযুক্তিতে।

বছরে ১২ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে জাইডাস। চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝি প্রায় ১ কোটি ডোজ টিকা তৈরি হয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে সংস্থার তরফে। তবে বাজারে কবে আসবে তা নির্ভর করছে ছাড়পত্রের উপর।

প্রতিষ্ঠানটির এ টিকা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টসহ রূপ পরিবর্তিত ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সব করোনাভাইরাসের ওপরেও কার্যকর বলে দাবি জাইডাসের। যদিও কতটা কার্যকর, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া



সাতদিনের সেরা