kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

ইরানের হুমকির বিষয়ে 'জেগে উঠুন' - সহযোগী দেশগুলোকে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক   

২১ জুন, ২০২১ ২০:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইরানের হুমকির বিষয়ে 'জেগে উঠুন' - সহযোগী দেশগুলোকে ইসরায়েল

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত

ইরানের পরমাণু চুক্তি পুনরায় সক্রিয় করা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সহযোগী দেশগুলোকে ইরানের হুমকির বিষয়ে 'জেগে ওঠার' আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত। তিনি বলেছেন, ইরানের ক্ষমতাসীনরা পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে চায়, যে অভিযোগ ইরান সব সময়েই অস্বীকার করে আসছে।

কূটনীতিকরা বলছেন, চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে, যদিও এখনো বেশ কিছু দূরত্ব রয়ে গেছে। মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। ইরানের সাম্প্রতিক নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন কট্টরপন্থী এব্রাহিম রাইসি, যিনি দেশটির শীর্ষ বিচারপতি ছিলেন। আগস্ট মাসে তিনি শপথ নিতে যাচ্ছেন, যদিও তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সাবেক রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া এবং জার্মানি- এই ছয় পরাশক্তির সঙ্গে ইরানের আলোচনা গত এপ্রিল মাসে শুরু হয়েছে। চুক্তি কার্যকর করে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বদলে পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করবে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানও চুক্তি আর মানেনি। রবিবার দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অস্ট্রিয়ার ভিনেয়ায় ষষ্ঠবারের মতো আলোচনায় বসেছিলেন। এরপর প্রতিনিধিরা তাদের রাজধানীতে ফিরে যাওয়ার জন্য আলোচনা স্থগিত করা হয়।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন যে, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে তারা এখন চুক্তি কার্যকরের কাছাকাছি পৌঁছেছেন। তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেছেন যে, দেশগুলোর মধ্যে এখন যে দূরত্ব রয়েছে, তা দূর করা সহজ হবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি এনরিক মোরা বলেছেন, কারিগরি বিষয়ে অগ্রগতি হওয়ায় আলোচনা অনেক পরিষ্কার হয়েছে, তারা এখন বুঝতে পারছেন রাজনৈতিক সমস্যাগুলো কোথায়।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান বলেছেন, 'এখনো অনেক দূর যেতে হবে'- বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে। অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন ইরান সবচেয়ে বেশি পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে, যদিও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার জন্য তাদের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।

ইসরায়েল কেন চুক্তির বিরোধিতা করছে?
ইরান এবং ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ছায়া যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। দুই দেশই 'ইটের বদলে পাটকেল' নীতি অবলম্বন করেছে। যদিও তারা উভয়েই সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে আসছে। ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনি অনেকবার ইসরায়েল রাষ্ট্র বিলুপ্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৮ সালে একটি বক্তৃতায় তিনি ইসরায়েলকে 'ক্যান্সার টিউমারের' সঙ্গে তুলনা করে বলেন, একে ওই অঞ্চল থেকে সরিয়ে দেওয়া দরকার।

ইরানকে বড় হুমকি হিসাবে মনে করে ইসরায়েল এবং বারবার বলে আসছে যে, দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনেত তার মন্ত্রিসভাকে বলেছেন, 'এটাই হচ্ছে বিশ্ব শক্তির জেগে ওঠার শেষ সুযোগ...এবং উপলব্ধি করা যে, তারা কার সঙ্গে আলোচনা করছে। নিষ্ঠুরভাবে মানুষ হত্যাকারীদের একটি সরকারকে কখনোই ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া ঠিক হবে না।' তিনি বলন।

সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে শত্রুতা আরও বেড়েছে। ইরানি শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীকে গত বছর হত্যা করা এবং পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলার জন্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে দেশটি।
সূত্র : বিবিসি বাংলা



সাতদিনের সেরা