kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

টিউশন মাস্টার এখন বিধায়ক, ছাড়তে চায় না শিক্ষার্থীরা

অনলাইন ডেস্ক   

২০ জুন, ২০২১ ১৩:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টিউশন মাস্টার এখন বিধায়ক, ছাড়তে চায় না শিক্ষার্থীরা

প্রাইভেট পড়িয়ে টেনেটুনে সংসার চলছিল। সম্পত্তির পরিমাণ সব মিলিয়ে ১৭০০ টাকা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের মনোনয়নে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় এমনটা জানিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী নির্মল ধাড়া। 

হিসাবমতো নির্মলই ছিলেন বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে গরিব প্রার্থী। তিনিই এখন ইন্দাসের বিধায়ক। বিধায়ক হওয়ার পরেও তাকে প্রাইভেট পড়িয়ে যেতে হচ্ছে। 

শিক্ষার্থী থেকে অভিভাবক— সবারই বক্তব্য- কোনো ভালো শিক্ষক ঠিক না হওয়া পর্যন্ত নির্মলকে তারা ছাড়বেন না। আর বাঁকুড়ার অখ্যাত কুশমুড়ি গ্রামে প্রাইভেট শিক্ষক পাওয়া একেবারেই সোজা নয়। 

বিধায়ক নির্মল সে কারণে ঠিক করেছেন, বিধানসভার বেতন শুরু হয়ে গেলে নিজের গ্রামে একটা অবৈতনিক টিউশন সেন্টার খুলবেন। 

তিনি জানান, ভেবেছি, ওই টিউশন সেন্টারে বেতন দিয়ে গ্রামের শিক্ষিত ছেলেদের শিক্ষক হিসেবে রাখব। কিন্তু যারা পড়বে তাদের কোনো বেতন দিতে হবে না। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে। অনেকের রোজগার হবে, বাকিদের লেখাপড়া।

প্রাইভেট পড়াতে পড়াতে বিধায়ক হওয়া নির্মল জানান, বরাবরই ভাগচাষি বাবা নয়ন ধাড়ার নয়নের মণি ছিলাম। কিন্তু আমি যে একদিন বিধায়ক হয়ে উঠবো, অপরের জমিতে চাষ করতে করতে সে স্বপ্ন কখনওই দেখেননি বাবা। 

তবে তার বাবা চেয়েছিলেন, একমাত্র ছেলেটা লেখাপড়া করুক। অনেক বেশি লেখাপড়া। যে সুযোগ তিনি নিজে পাননি, তা ছেলে যেন পায়। 

শুধু নয়ন কেন, বাঁকুড়া জেলার কুশমুড়ি গ্রামের কেউই ভাবতে পারেনি ‘এমএ পাস নির্মল’ এক দিন ‘এমএলএ নির্মল’ হয়ে উঠবেন।

নির্মল বলেন, মোদিজিকে আমার আগে থেকেই খুব ভালো লাগত। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে তাকে প্রধানমন্ত্রী করতে হবে বলেই বিজেপি করতে শুরু করি। তার পরে এখন বিধায়ক হয়ে গেলাম।

ইংরেজির ছাত্র হলেও নির্মল বাংলা, ইতিহাস, ভূগোলও দেখিয়ে দেন ছাত্র-ছাত্রীদের। তারা এমন শিক্ষককে ছাড়তে রাজি নন। দশম শ্রেণির ছাত্রী সুলেখা বড়া বলেন, সেই ক্লাস ফাইভ থেকে স্যারের কাছে পড়ছি। খুব ভালোবেসে পড়ান। স্যার এমএলএ হয়ে গেছেন বলে ভালো লাগছে। কিন্তু তার কাছে আর পড়ার সুযোগ পাব না ভাবলেই মন খারাপ লাগছে।

ছাত্রী পারমিতার বাবা অসিত মাঝি বলেন, নির্মল আমাদের গর্ব। আমার মেয়েকে তার হাতে দিয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম। এখন উনি যদি টিউটোরিয়াল সেন্টার তৈরি করেন, তার পাশে থাকব। এতে তো আমাদের ছেলে-মেয়েদেরই মঙ্গল হবে।
সূত্র : আনন্দবাজার।



সাতদিনের সেরা