kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

মুনাকে ছেড়ে দিল ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক   

৭ জুন, ২০২১ ১৩:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুনাকে ছেড়ে দিল ইসরায়েল

আবার অগ্নিগর্ভ ইসরায়েল। এবার দুই মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে। ওই দুই কর্মী পূর্ব জেরুজালেমের বাসিন্দা। জেরুজালেম থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে ইসরায়েল সরকার, এই মানবাধিকারকর্মীরা প্রথম থেকেই তার বিরোধিতা করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুইজনেই দাঙ্গায় অংশ নিয়েছিলেন। বিক্ষোভের মুখে একজনকে অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার। পূর্ব জেরুসালেমের বাসিন্দা মুনা এবং মোহাম্মেদ এল কুর্দ। সম্প্রতি ইসরায়েল সরকার ঘোষণা করেছিল, পূর্ব জেরুজালেম থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়া হবে। ফিলিস্তিনিরা তার তীব্র প্রতিবাদ করেন। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এবং তারপরেই শুরু হয় হাঙ্গামা। হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের তীব্র সংঘাত শুরু হয়। জেরুসালেমে ইসরায়েলিদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষ শুরু হয়। গোড়া থেকেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মুনা এবং মোহাম্মেদ। মোহাম্মেদ সম্পর্কে মুনার ভাই।

পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ বসতি থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদ করায় ফিলিস্তিনের মানবাধিকার কর্মী মুনাকে প্রথমে আটক করে ইসরাইলি পুলিশ। এ সময় তার ভাইকেও খোঁজ করতে থাকে পুলিশ।  বোনকে ইসরাইলি সেনারা আটক করেছে, এ খবর পেয়ে মোহাম্মদ আল কুর্দ ইসরাইলি পুলিশের কাছে ধরা দিলে কয়েক ঘণ্টা পর মুনা আল-কুর্দকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এর আগে শেখ জারাহতে প্রতিবাদ কর্মসূচির নিউজ সংগ্রহের সময় আলজাজিরার সাংবাদিক জিভারা বুদেইরিকে গ্রেপ্তার করে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সেনা সদস্যরা। অবশ্য কয়েক ঘণ্টা পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। রবিবার নিজ বাসভবন থেকে ফিলিস্তিনের মানবাধিকার কর্মী মুনাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তাদের বাবা নাবিল আল কুর্দ বলেন, পুলিশ শেখ জারাহতে তাদের বাড়িতে হানা দেয়। তারা মুনা আল কুর্দকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় এবং মোহাম্মদ আল কুর্দকে থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।

তাদের আইনজীবী নাসের ওদেহ জানান, রোনের গ্রেপ্তারের খবরে মোহাম্মদ আল কুর্দ ইসরাইলি পুলিশের কাছে ধরা দেন। সন্তানদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে এপিকে নাবিল আল কুর্দ বলেন, তাদের গ্রেপ্তারের কারণ হলো-নিজ বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে না চাওয়া।

ইসরাইলি পুলিশ কাউকে মত প্রকাশ করতে দিতে চায় না অভিযোগ করে দুই সন্তানের বাবা বলেন, তারা আমাদেরকে চুপ করিয়ে দিতে চায়। ফিলিস্তিনের প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী মুনা আল-কুর্দ অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ বসতিতে ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

রবিবার পুলিশ আচমকাই ২৩ বছরের মুনার বাড়িতে তল্লাশি চালায়। অভিযোগ, গোটা বাড়ি তছনছ করে দিয়েছে পুলিশ। তারপরেই মুনার হাতে হাতকড়া লাগিয়ে রাস্তায় নিয়ে আসা হয়। স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা এর তীব্র প্রতিবাদ করতে শুরু করেন। মুনাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলে, ফিলিস্তিনিরা থানার বাইরে প্রতিবাদ দেখাতে থাকেন। পুলিশ গ্রেনেড ছোড়ে। পরে মুনাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ভাই মোহাম্মেদের নামে সমন জারি করা হয়। পরে মোহাম্মেদ নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পন করে।

এই এলাকায় গত তিন মাস ধরে ইসরাইলি বাহিনী বলপ্রয়োগ করে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি থেকে উৎখাতের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগে ‘সেইভ শেখ জারাহ’ ক্যাম্পেইন চালিয়ে আসছিলেন দুই ভাই-বোন। তাদের এই আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বের নজর কাড়ে। গত মাসে ইসরাইলি পুলিশ জেরুজালেমের শেখ জারাহ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের চলে যাওয়ার নির্দেশের পর মুনা ও তার ভাইয়ের নেতৃত্বে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ শুরু করেন যা এখনও চলমান রয়েছে।



সাতদিনের সেরা