kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

দুর্বল হতে শুরু করেছে ইয়াস

অনলাইন ডেস্ক   

২৬ মে, ২০২১ ১৯:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্বল হতে শুরু করেছে ইয়াস

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস দুর্বল হতে শুরু করেছে। এটি অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে দুর্বল হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের বরাত দিয়ে এতথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ওড়িশা উপকূলে আচড়ে পড়ে ইয়াস। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি অতিপ্রবল থেকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এটি আরো উত্তর-উত্তরপশ্চিমে সরে যাবে এবং ক্রমশ দুর্বল হবে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম বঙ্গের উপকূলীয় দিঘার বিস্তৃত একালা প্লাবিত হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় বুক সমান পানি উঠেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে এক কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। 

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে এক কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সবাইকে ত্রাণ সহযোগিতা পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পশ্চিম বঙ্গে এখন পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ১৫ লাখ মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় গতকাল মঙ্গলবার সারারাত রাজ্যের সচিবালয় নবান্নেই ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতভর কন্ট্রোলরুম থেকে নজর রেখেছেন পরিস্থিতির ওপর। বুধবার সকালেও একাধিকবার সাংবাদিক বৈঠক করে পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন রাজ্যবাসীকে। ইয়াসের বড় আঘাত শেষ হতেই নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি।

মমতা বলেন, ১৫ লাখ চার হাজার ৫০৬ জনকে সরানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও প্রায় এক কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিন লাখ বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। ১৩৪টি বাঁধ ভেঙেছে। নোনা পানির কারণে কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাছেরও ক্ষতি হয়েছে। ত্রাণ শিবিরগুলোতে ১০ লাখ ত্রিপল পাঠানো হয়েছে এর মধ্যেই। এছাড়া ১০ কোটি চাল ও শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরো বলেন, ত্রাণশিবিরে ওঠার পরও এক ব্যক্তি মাছের জন্য জাল ফেলতে গিয়েছিলেন। পানিতে ডুবে গেছেন তিনি। সন্দেশখালি, নামখানা, পাথরপ্রতিমা, বাসন্তী, ক্যানিং ১ ও ২ নম্বর ব্লক, বজবজ, দিঘা, শংকরপুর, তাজপুর, রামনগর, কাঁথি, নন্দীগ্রাম, সুতাহাটা, দেশপ্রাণ, কোলাঘাট, শ্যামপুর, এদিকে কালীঘাট, চেতলা, রাসবিহারীসহ গঙ্গার সামনের বহু এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামীকালও দুর্যোগ থাকবে। তাই প্রত্যেককে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। যারা নদী বা সমুদ্রের পাশে থাকেন, তাদের সতর্ক থাকতে বলেছেন। এদিকে ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ইয়াস স্থলে আছড়ে পড়েছে। যার কারণে আগামীকাল পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। আগামীকাল পর্যন্ত সমুদ্রের অবস্থা উত্তাল থাকবে।
সূত্র : বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড



সাতদিনের সেরা