kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন

নিন্দা ও আহ্বানেই শেষ ওআইসির জরুরি বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক   

১৭ মে, ২০২১ ১১:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিন্দা ও আহ্বানেই শেষ ওআইসির জরুরি বৈঠক

বিধ্বস্ত বাড়ির সামনে ক্রন্দনরত এক ফিলিস্তিনি নারী।

ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান লড়াই যে রকম তীব্র হয়ে উঠেছে, তাতে খুব শিগগিরই এই সংঘাত একটি 'পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে' রূপ নিতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গাজায় মুহুর্মুহু বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে চলেছ ইসরায়েল। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠকে বসেছিল মুসলিম ৫৭ জাতির সংস্থা ওআইসি (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন)।

রবিবার (১৬ মে) সৌদি আরবের বিশেষ অনুরোধে ওআইসির দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ওই ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বৈঠকে ফিলিস্তিনকে ইসরাইলের বর্বর হামলা থেকে রক্ষা করার কোনো পদক্ষেপ বা কার্যকরী সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।

তবে ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রস্তাবে ইসরায়েলের নৃশংস আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা এবং একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইসরায়েলকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও দখলদারিত্বের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ফিলিস্তিনি জনগণ, তাদের ভূমি ও পবিত্র স্থানের ওপর দখলদার ইসরায়েলের বর্বর হামলার কড়া নিন্দা জানাচ্ছে ওআইসি। একইসঙ্গে নিরাপরাধ বেসামরিক নাগরিক ও তাদের সম্পত্তির ওপর চালানো হামলা দ্রুত ও পুরোপুরি বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে জাতিসংঘের প্রস্তাবের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।

এতে আরো বলা হয়েছে, ওআইসি সতর্ক করছে যে, ‘এই হামলা ও উস্কানির ধারাবাহিকতা নিরীহ বেসামরিক মানুষের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ, যা তাদের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি করে অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে এবং এই অঞ্চলে ও এর বাইরে নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।’

বিবৃতিতে আল-আকসা মসজিদসহ সব পবিত্র এলাকাগুলো অবমাননা বন্ধসহ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বন্ধের দাবিও জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা না হলেও বৈঠকে সৌদি আরব ও তুরস্ক ইসরায়েলকে থামাতে আন্তর্জাতিক সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান ও ফিলিস্তিনে আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, জাতিসংঘের উচিত ছিল ইসরাইলি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু ইহুদিবাদী দেশটির মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধের কোনো পদক্ষেপই নিতে পারেনি।

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের বর্বর হামলার বিষয়ে একটি বিবৃতি পর্যন্ত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সমালোচনা করেছেন বক্তারা। দখলদার দেশটি ৫৫ শিশু, ৩৪ নারীসহ দুই শতাধিক বেসামরিক ফিলিস্তিনি নাগরিককে বোমা মেরে হত্যা করেছে। অথচ আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি ফিলিস্তিনিদের এ চরম দুর্দিনে মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে।

ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়ে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেন, এ সময় কয়েকটি আরব দেশ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে নিন্দনীয় কাজ করেছে।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্ণবাদী নীতি অনুসরণ করার কারণে ইসরাইলের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন হ্রাস পাচ্ছে বলে আমরা দেখছি। তবে এ সময়ে ইসরাইলের সঙ্গে কয়েকটি মুসলিম দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কারণে আমাদের প্রতিবাদ কতটুকু গুরুত্ব পাবে?

ওআইসির বৈঠকে ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব পদক্ষেপে নেতৃত্ব অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক।

বৈঠক শেষে এক টুইটবার্তায় তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনের জন্য আমাদের ঐক্য ও দৃঢ়তা দেখানোর সময় এসেছে। ইসলামি উম্মাহ আমাদের নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষা করছে। প্রয়োজনীয় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে তুরস্ক প্রস্তুত রয়েছে।

ওআইসির নির্বাহী কমিটির জরুরি বৈঠকে ফিলিস্তিনে চলমান নৃশংসতার জন্য এককভাবে ইসরাইলকে দায়ী করেছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ওআইসির নেতারা।

সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, আনাদুলু এজেন্সি।



সাতদিনের সেরা