kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

এপির সাংবাদিকের বর্ণনা

'চোখের সামনে ধুলোয় মিশে গেল আমার অফিস!'

অনলাইন ডেস্ক   

১৬ মে, ২০২১ ১৮:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'চোখের সামনে ধুলোয় মিশে গেল আমার অফিস!'

ধসে পড়ছে এপির অফিস। ছবি : এএফপি

২০০৬ সাল থেকে আল জারা বহুতল ভবনে দুটি ফ্লোর নিয়ে এপির অফিস সাজানো হয়েছে। শনিবার ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৫৫। গাজা শহরে তখন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) অফিসে ঘুমে ঢুলছিলেন একজন সাংবাদিক। ইসরায়েল-হামাসের সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে দুপুরের এসময়টায় তিনি নিউজ ব্যুরোর অফিসে ঘুমান। তারপর সারারাত জেগে কাজ করেন। রাতের দিকেই দুই পক্ষের সংঘর্ষ তীব্র হয়। তখন খবর দ্রুত আপডেট করতে হয়। কিন্তু শনিবার দুপুরে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল!

গতকাল শনিবার হামাসের ঘাঁটি সন্দেহে গাজা শহরে ওই বহুতলটি গুঁড়িয়ে দেয় ইসরায়েলি সেনা। সেই বহুতলে এপি এবং আলজাজিরা সংবাদ সংস্থার অফিস ছিল। গতকালের সেই ভয়াবহতা বর্ণনা করেছেন এপির এক সাংবাদিক। তিনি বলেছেন, গত শুক্রবার উত্তর গাজায় তার পরিবারের খামার নষ্ট করে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনা। আর এবার তার অফিসও ধ্বংস হয়ে গেল। সোমবার থেকে এই সংঘর্ষে ১৪৯ জন নিহত হয়েছেন। হামাস যখন পাল্টা ইসরায়েল লক্ষ্য করে রকেট ছুড়তে শুরু করার পর থেকে অবিরাম লড়াই চলছে। ইসরায়েলে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সেই সাংবাদিক বলেন, 'হঠাৎ আমার সহকর্মী আমাকে ধাক্কা দিয়ে উঠিয়ে বলল, পালাও পালাও, বিল্ডিংয়ে হামলা হবে। দেখলাম, মাথায় হেলমেট পরে সে ছুটে পালিয়ে গেল। কিছু বুঝতে পারছিলাম না। পরে জানলাম, ইসরায়েলি সেনা আমাদের বহুতলে হামলা চালাবে। তাই আগে আগে অফিসকে সতর্ক করেছে। অফিস খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে আমার ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন নিয়ে দ্রুত বেরোতে গিয়ে নিজের কাজের জায়গাটা একবার দেখলাম। কত বছর ধরে এখানে বসে কাজ করেছি। সামনে রয়েছে পরিবারের ছবি। আমার মেয়ের দেওয়া কফি মগ, অফিসে ৫ বছর কাজ করার সার্টিফিকেট। এসব কিছু ছেড়ে চলে যেতে হবে! আমার দ্বিতীয় বাড়ি। ঘড়িতে তখন ২টা বাজে। এতদিনের পরিশ্রমের, ভালো লাগার জায়গা ছেড়ে, পালিয়ে গেলাম। কিছুক্ষণ পর এয়ার স্ট্রাইকে গুঁড়িয়ে গেল সেই বিল্ডিং। চোখের সামনে তখন শুধু ধ্বংসস্তূপ। সব শেষ! ধুলোয় মিশে গেল আমার অফিস'।

ওই সাংবাদিক বলছেন, তার মতো আরো অনেক সাংবাদিক দৌড়ে বহুতলের নিচে এসে পড়েন। তারপর ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে পরপর তিনটি মিসাইল ছুটে আসে বিল্ডিংয়ের দিকে। তার আগে ড্রোন থেকে এয়ারস্ট্রাইক করা হয়। আট মিনিটের মধ্যে বিমান হানার পর দেখলেন, তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ১১তলা বিল্ডিং! তারপর পুরো এলাকা ধুলোয় ঢেকে যায়। আশপাশের মানুষদের ঘরেও ধুলো জমে। চোখের পলকে এতদিনের কর্মক্ষেত্রকে ধ্বংস হতে দেখে হতবাক হয়ে পড়েন সেই সাংবাদিক।

মার্কিন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপি এবং কাতারের আলজাজিরা সংবাদ সংস্থার অফিসে হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। দুই সংবাদ সংস্থাও নিন্দা জানিয়েছে। কিন্তু রবিবার সকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, 'সংঘর্ষ শুরুর জন্য দায়ী হামাস। যদি ওরা হামলা করতে থাকে, তাহলে ইসরায়েলেও অপারেশন চালিয়ে যাবে। আমরা এখনও একটা অপারেশনের মধ্যে রয়েছি। এটা এখনও শেষ হয়নি। যতদিন প্রয়োজন হবে এই অপারেশন চলবে'।



সাতদিনের সেরা