kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

পাকিস্তানের রাজধানী অভিমুখে যাত্রা করেছে পশতুন বিক্ষোভকারীরা

অনলাইন ডেস্ক   

৯ মে, ২০২১ ১৩:৪২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাকিস্তানের রাজধানী অভিমুখে যাত্রা করেছে পশতুন বিক্ষোভকারীরা

পাকিস্তানের পশতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ খাইবার পাখতুনখাওয়া রাজ্যের বান্নু বিভাগের জানি খিল শহরে বাড়ি লতিফ উল্লাহর। গত ২০ মার্চ লতিফ তার বাড়িতে দীর্ঘ মেয়াদে মেরামতের কাজ শুরু করতে যাচ্ছিলেন। সেদিন ছিল শনিবার। গোসলের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি।

জানা গেছে, পেশোয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে গত বছর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন লতিফ উল্লাহ। গত বছরের অক্টোবরে বাড়ি ফিরে যান তিনি। তারপর থেকে উন্নয়নশীল আদিবাসী এলাকায় সামাজিক কাজকর্ম করতেন। সেসব কাজের ফাঁকে বাড়ির কাজ করতেন।

বাড়ি মেরামতের কাজ শুরু করতেই তার মোবাইল বেজে ওঠে। এক বন্ধু তাকে জানান, পাঁচ কিলোমিটার দূরে চারজনের দেহ পাওয়া গেছে। এর আগে ৪ মার্চ থেকে চার শিশু নিখোঁজ ছিল।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান লতিফ। জানা গেছে, নিহত শিশুরা হলো আতিফুল্লাহ, রাজিমুল্লাহ, মুহাম্মদ রহিম এবং আহমাদ। তারা সবাই নিখোঁজ ছিল।

লতিফ তার প্রতিবেশীদের সহায়তায় দেহগুলো উদ্ধার করে বান্নুর একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক জানান, শিশুদের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। নির্যাতনের পর তাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত শিশুদের পরিবারের লোকদের সম্মতি নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে করে বিক্ষোভ শুরু করেন লতিফ। লতিফ বলেন, ওই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বহু মানুষ বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন। আমরা দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, স্থানীয় কর্নেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হোক। কারণ, মরদেহগুলো পাওয়া গেছে সেনা চেকপোস্টের কয়েক শ মিটার দূরেই।

এক সপ্তাহ ধরে জানি খেল এলাকায় বিক্ষোভ করেও সরকারি কোনো সাড়া পাননি লতিফ। পরে বিক্ষোভকারীরা সিদ্ধান্ত নেন, নিজেদের দাবি আদায়ে ইসলামাবাদ অভিমুখে যাত্রা করবেন।

বান্নুর টোসি ব্রিজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা মুখোমুখি হয়। সামরিক বাহিনী তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। বর্তমানে ওই বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।

চাপে পড়ে মৃত শিশুদের পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
সূত্র : জিঙ্গার



সাতদিনের সেরা