kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ বৈশাখ ১৪২৮। ৬ মে ২০২১। ২৩ রমজান ১৪৪২

টিএলপির বিক্ষোভ সামলাতে ব্যর্থ পাকিস্তান, কোণঠাসা ইমরান

অনলাইন ডেস্ক   

২০ এপ্রিল, ২০২১ ১৬:০২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



টিএলপির বিক্ষোভ সামলাতে ব্যর্থ পাকিস্তান, কোণঠাসা ইমরান

আবারও কোণঠাসা ইমরান খান। এক সপ্তাহ ধরে টানা বিক্ষোভ চলছে পাকিস্তানে। কট্টর ইসলামপন্থী দল ‘তেহরিক-ই-লাবায়েক পাকিস্তান’-এর (টিএলপি) নেতার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া প্রতিবাদে ইসলামাবাদে আগুন জ্বলছে। আর এসবের জন্য ইমরান সরকারের ‘ব্যর্থতা’-কেই দায়ী করছেন বিরোধীরা। হিংসার বিরুদ্ধে হিংসা দিয়ে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয় বলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন বিরোধী নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। 

‘পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান বিলাওয়ালের অভিযোগ, সমস্যার মূলে না পৌঁছে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে চাইছে প্রশাসন। কিন্তু পরিস্থিতির সমাধান তো হচ্ছেই না, বরং রক্তপাত ও মৃত্যুর মতো অপ্রত্যাশিত সব ঘটনা ঘটছে। তিনি প্রশ্ন করেন, কেন দেশের নির্বাচিত সরকার জাতীয় অ্যাকশন প্ল্যান কার্যকর করল না কিংবা সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করল না?

গত রবিবার সারা দিন পুলিশের সঙ্গে টিএলপির সমর্থকদের সংঘর্ষ চলতে থাকে। নিষিদ্ধ ওই সংগঠনের দাবি, তাদের চারজন সমর্থক মারা গেছে পুলিশের গুলিতে। সেই সঙ্গে আহত হয়েছেন বহু বিক্ষোভকারী। সংঘর্ষে  আহত হন বহু পুলিশ সদস্যও। জারদারির অভিযোগ, এসব রক্তপাতের জন্য ইমরান সরকারই দায়ী। একই বক্তব্য অন্য বিরোধী নেতাদেরও। 

ঠিক কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ? ফ্রান্সের ‘শার্লি এবদো’-তে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র আঁকাকে কেন্দ্র করেই টিএলপির বিক্ষোভ। তাদের দাবি, ফ্রান্সের সঙ্গে সব রকম সম্পর্ক বন্ধ করতে হবে। ফরাসি রাষ্ট্রদূতসহ পাকিস্তানে থাকা সব ফরাসি নাগরিক ও সংস্থাগুলোকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দিতে হবে। গত নভেম্বরেই ইমরান খানের ‘তেহরিক-ই-ইনসাফ’ সরকার টিএলপির সঙ্গে চুক্তি করেছিল ফরাসি রাষ্ট্রদূতের বহিষ্কারের ব্যাপারে সম্মতি জানিয়ে। 

তখন জানা গিয়েছিল, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করবে সরকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। সেই চুক্তির মেয়াদই শেষ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল। কয়েক দিন আগে গ্রেপ্তার করা হয় দলের প্রধান সাদ হুসেন রিজভিকে। এরপর পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল টিএলপির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। ঘটনার পর তাদের নিষিদ্ধ করে পাক সরকার। যাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তাপ বাড়ে বিক্ষোভের। যা চরম আকার নেয় গত রবিবার। 

আজই পাকিস্তানের সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে ঠিক হবে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের ভবিষ্যৎ। তাঁকে পাকিস্তান থেকে বহিষ্কার করা হবে কি না তা ঠিক হবে ভোটের মাধ্যমে। 

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন।



সাতদিনের সেরা