kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ বৈশাখ ১৪২৮। ১০ মে ২০২১। ২৭ রমজান ১৪৪২

উইঘুর নির্যাতনের প্রতিবাদকারী জার্মান গবেষকের বিরুদ্ধে চীনা আদালতে মামলা

অনলাইন ডেস্ক   

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ১১:৪৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



উইঘুর নির্যাতনের প্রতিবাদকারী জার্মান গবেষকের বিরুদ্ধে চীনা আদালতে মামলা

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের একটি আদালত বেইজিংয়ে উইঘুরদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগকারী এক জার্মান গবেষকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার শুনানি করবে। জিনজিয়াং সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সংবাদমাধ্যম টিএসসিএন গত শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানায়। দক্ষিণ জিনজিয়াংয়ের বৃহত্তম শহর কাশগরের একটি আদালত 'শ্যাচে জিয়ানজিং টেক্সটাইল লিমিটেড'-এর দায়ের করা দেওয়ানি মামলাটি গত ২ এপ্রিল গ্রহণ করে।

শ্যাচের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সংস্থাটি অ্যাড্রিয়ান জেনজের 'বিকৃত' মন্তব্যের কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মামলাটি আদালতকে জেনজকে তার গবেষণা বন্ধ করার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সংস্থার কাছে ক্ষমা চাওয়ার আদেশ দেওয়ার জন্য বলেছে, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই গবেষকের চীনে প্রবেশ বা ব্যবসা করার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তবে আদালত তার বিরুদ্ধে রায় দিলে কিভাবে এ ধরনের আদেশ কার্যকর করা যেতে পারে তা স্পষ্ট নয়।

জিনজ, চীনের এক প্রবীণ সহযোগী। ওয়াশিংটন ডিসির ভিকটিম্টস অব কমিউনিজম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনে পড়াশোনা করেছেন জিনজ। জিনজিয়াংয়ে আটক শিবির নির্মাণ এবং উপগ্রহের চিত্র ব্যবহার করে লাখো উইঘুর ও কাজাখের মুসলমানদের গণবন্দীকরণের খবর প্রকাশের প্রধান কারিগর ছিলেন তিনিই। কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না (সিসিপি) এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ তিনি কিছু সরকারি নথিও প্রকাশ করেন। এ ছাড়া তিনি জিনজিয়াংয়ের উইঘুর নারীদের ওপর জনসংখ্যা হ্রাস করার জন্য জোর করে সিসিপির দ্বারা বন্ধ্যাকরণের বিষয়টিও প্রকাশ করেছিলেন।

দেশটিতে গবেষকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মামলাটি সর্বশেষতম। তবে তিনি তার প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছেন যে এ অঞ্চলের প্রধানত উইঘুর মুসলমানদের গণবন্দি করা, জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ এবং জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা কয়েকটি সরকার এখন বেইজিংয়ের ক্রিয়াকলাপকে 'গণহত্যা' হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এসসিএমপি অনুসারে, ইউরোপীয় সরকারি সংস্থা, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও থিঙ্কট্যাঙ্ককে চীন সফরে বা ব্যবসা করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রতি মাসে চীনের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জেনজও ছিলেন।

বেইজিংও জিনজিয়াংয়ের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ব্রিটেনের সঙ্গে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার বিনিময় করেছে। 'আমার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাগুলো এবং মামলা-মোকদ্দমা শুধু দেখায় যে বেইজিং বেশ মরিয়া হয়ে উঠছে', জেনজ তাদের 'হাস্যকর' বলে মন্তব্য করেছিলেন।
সূত্র : জি-নিউজ।



সাতদিনের সেরা