kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

শীতলকুচিতে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে, বললেন মমতা

অনিতা চৌধুরী, কলকাতা প্রতিনিধি   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ২১:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শীতলকুচিতে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে, বললেন মমতা

ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে আজ রবিবার কুচবিহার শীতলখুচি যাবার পরিকল্পনা বাতিল করতে হলো। তাই আজ শিলিগুড়িতে সকালে সাংবাদিকদের ডেকে আলাপ করেন মমতা আর আক্রমণ করলেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে।

“শীতলকুচিতে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আমি আবার বলছি এটা বুলেট স্প্রে করা হয়েছে । নিহতদের গুলি লেগেছে বুকে, গলায়" বলেন মমতা।

এরপরে তিনি আবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ চান এবং নির্বাচন কমিশনের এই আচরণের তীব্র নিন্দা করেন।

"আমি ওখানে যেতে চেয়েছিলাম। আমাকে আটকাতেই ওখানে কাউকে না যেতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গুলিকাণ্ডের পরে তথ্য লুকোতে এই ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। সবাই জানে ওরা কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন" বলেন মমতা।

তিনি বলেন ,ওনার কাছে খবর আছে কেন্দ্রীয় বাহিনীই গুলি করে সাধারণ লোককে মেরেছে। এই ঘটনা নজিরবিহীন। এতগুলো লোকের রক্ত আমাকে মর্মাহত করছে।

তারপরেই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়ালি শীতলকুচি পৌঁছে গেলেন মমতা এবং ছড়িয়ে দিলেন তার স্নেহের পরশ।

রবিবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক থেকে ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে শীতলকুচির নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বললেন মমতা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত যুবকদের পরিবারের অভিযোগ শুনলেন তিনি।

সব অভিযোগ শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘যা বিচার চাওয়ার চাইব।’’ প্রথমে তিনি ভিডিও কলে নিহত মনিরুজ্জামান মিয়াঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। বাড়ির লোক মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, “মনিরুজ্জামানের ৪৫ দিনের একটি কন্য়া সন্তান আছে। স্ত্রী, বাবা-মা এবং ছোট ভাই রয়েছে। মনিরুজ্জামান রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। ভোটের জন্য কেরল থেকে বাড়ি এসেছিলেন। বুথের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। কোথা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এসে গুলি করে পালিয়ে যায়। আমরা এর বিচার চাই।”

মুখ্যমন্ত্রী তা শুনে বলেন, ‘‘পরিবারকে সব রকম সাহায্য করা হবে। এখন যেতে পারছি না। কিন্তু আমি যাব। আপনাদের সঙ্গে দেখা করব। যিনি মারা গিয়েছেন, তাঁদের তো ফেরাতে পারব না। তবে, যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের দায়িত্ব নিচ্ছি।’’

মনিরুজ্জামানের বাড়ির লোকের পাশেই ছিলেন নিহত আরও এক ব্যক্তি হামিদুল মিয়াঁর দাদা। মুখ্যমন্ত্রীকে ভিডিয়ো কলে তিনি বলেন, ‘‘হামিদুলের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। একটি তিন বছরের কন্যাও রয়েছে। হামিদুলও রাজমিস্ত্রির কাজ করত। ওর মৃত্যুতে আমরা দিশাহারা। আমরা এর বিচার চাই।”

এই কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী খানিক চুপ করে যান। কিছুক্ষণ থেমে বলেন, ‘‘আমি যে ভাবে পারি সাহায্য করব। ওখানে গিয়ে আপনাদের সঙ্গে দেখা করব। যা বিচার চাওয়ার চাইব। যিনি মারা গিয়েছেন, তাঁকে তো ফেরাতে পারব না। তবে আমরা ওঁদের পরিহারকে সাহায্য করব। আমি ১৪ তারিখ যাওয়ার চেষ্টা করছি। তখন দেখা করব।’’



সাতদিনের সেরা