kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

মীনাক্ষী মুখার্জিকে অশীতিপর শিক্ষিকার চিঠি

অনলাইন ডেস্ক   

৪ এপ্রিল, ২০২১ ১৯:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মীনাক্ষী মুখার্জিকে অশীতিপর শিক্ষিকার চিঠি

পশ্চিমবঙ্গের সংযুক্ত মোর্চার সিপিআইএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখার্জির প্রথম সংসদীয় রাজনৈতিক লড়াই হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভোট লড়াই শেষে পরবর্তী প্রচারে নেমেছেন বাম নেত্রী মীনাক্ষী।

মীনাক্ষী মুখার্জি কে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চলছে বিস্তর আলোচনা। তারই মাঝে একটি চিঠি প্রকাশ করেছে মীনাক্ষী মুখার্জির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ। এই চিঠি লিখেছেন আলিপুরদুয়ার জেলার অবসরপ্রাপ্ত অশিতীপর শিক্ষিকা শিক্ষা চৌধুরী।


মীনাক্ষি,
তোমরা একঝাঁক উজ্জ্বল মুখ, আমি অগণিত মানুষের একজন- ৮৪ বছরের বৃদ্ধা। এই দীর্ঘ জীবনের ঘাটে ঘাটে চলতে চলতে বেশ কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আবছা স্মৃতি, মন্বন্তর, মহামারী, স্বাধীনতার অব্যবহিত পূর্বের আত্মক্ষয়ী দাঙ্গা, দেশভাগ, খণ্ডিত দেশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী বামপন্থীদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার, নির্মম নিপীড়ন প্রত্যক্ষ করেছি। সারকথা যেটা – দুর্বলের ওপর প্রবলের অত্যাচার একইভাবে ঘটে চলেছে। শুধুই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার উদগ্র বাসনা, নিজেদের আখের গোছানোর জন্য মানুষে মানুষে, সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে বিভেদ সৃষ্টি করা আর মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মূল সমস্যাগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা। সত্যি বলছি ভয়ানক কষ্ট হয়, নিজের অক্ষমতায় নিজেকেই ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করে। মানুষের জন্যে আমারও তো মানুষ হিসেবে কিছু করার ছিল। নিজের সামান্যতম ক্ষমতা নিয়ে কোনদিকে দৃকপাত না করে যদি তোমাদের মতো ঝাঁপিয়ে পড়তে পারতাম। যাক সে কথা।

বড় আশা করে তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছি। তোমরা জান মানুষই শেষ কথা বলে, ‘মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ’। তাই তো দেখি তোমরা যখন পথে নেমেছ পথের দু’ধার থেকে তোমাদের ওপর শুভেচ্ছা, ভালোবাসা, আশীর্বাদের ঢল নেমেছে। দু’টো প্রবল শক্তি যখন পেশিবল আর অসদুপায়ে অর্জিত অগাধ ধন নিয়ে আস্ফালন করছে, স্বভাব ধর্মে যখন দু’টো শক্তির মধ্যে এতটুকুও পার্থক্য নেই, তখন তোমরা যা করছ তার জবাব নেই। মানুষের জীবনের যে মূল সমস্যাগুলো নিজেদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা দিয়ে তোমরা তার মধ্যে ঢুকে যাচ্ছ- সম্মিলিত শুভ ইচ্ছায়, দৃঢ় সংকল্পে, যতদূর সম্ভব সমাধানের প্রয়াসে একটা গঠনমূলক ছবি, একটা স্বপ্ন তোমরা তুলে ধরতে পারছ, এটাই তো মস্তবড় কথা।

ইতিহাসের তো পুনরাবৃত্তি ঘটে। রক্ত অনেক ঝরবে, অনেক অত্যাচারের খড়্গ নেমে আসবে, সহজে কাঙ্খিত ফল হয়তো মিলবে না। কিন্তু শুভ শক্তির জয় হবেই। প্রবীণরা অভিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ, বহুদর্শী এবং দূরদর্শী তাঁদের দেখানো পথে তোমাদের নিজস্ব চিন্তাধারা, যুগোপযোগী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মানুষের প্রতিদিনের জীবনের সুখ দুঃখ, ব্যাথা বেদনার সাথী হয়ে যথাসম্ভব বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার নিয়ে পথ চল। তোমরা বোধে বুদ্ধিতে দীপ্ত, শানিত ছুরির ফলার মতো। তোমরা স্থিতধী, সংবেদনশীল। জয় তোমাদের হবেই। প্রবীণরা আমার প্রায় পরবর্তী প্রজন্ম, তোমরা নবীনরা তারও পরবর্তী। তোমাদের সম্মিলিত শক্তিই পারবে মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে কায়েম করতে। আমার মনে হয় আমার মতো অন্তিমকালের প্রহর গোনা অনেকেরই তোমাদের কাছে এটাই প্রত্যাশা।

তোমাদের জয় হোক । জয় হোক গণতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন মানুষের।

শিপ্রা চৌধুরী
(প্রাক্তন শিক্ষিকা, আলিপুরদুয়ার গার্লস হাই স্কুল)
প্রধাননগর, শিলিগুড়ি।
৩১.০৩.২০২১

লেখা এবং ছবি প্রাপ্তিস্বীকারঃ শ্রীমতী মঞ্জিমা ভট্টাচার্য (চিঠি সংগ্রহ করা হয়েছে মিনাক্ষী মুখার্জির ফেসবুক পেজ থেকে)

সূত্র: কলকাতা ২৪।



সাতদিনের সেরা