kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

নন্দীগ্রামে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা প্রভাবিত করতে পারে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

অনিতা চৌধুরী, কলকাতা প্রতিনিধি   

১ এপ্রিল, ২০২১ ২১:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নন্দীগ্রামে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা প্রভাবিত করতে পারে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রামে হাইভোল্টেজ নির্বাচন শেষ হলো আজ। পশ্চিমবঙ্গে এর পরেও আরও আট দফা নির্বাচন বাকি, যার মাধ্যমে ২৩৪ টি কেন্দ্রের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।

নন্দীগ্রামের যুদ্ধে মমতা ব্যানার্জি না শুভেন্দু অধিকারী- কে জেতেন, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২ মে পর্যন্ত।

ফলাফল যাই হোক না কেন এবারের পশ্চিমবঙ্গের ভোট, বিশেষত নন্দীগ্রামে যে ভোট হয়েছে এবং প্রচারণার সময় যা যা হয়েছে তার প্রভাব থাকবে সুদুরপ্রসারী। শুধু পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেই নয়- ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও।
পশ্চিমবঙ্গের একটি নির্বাচন কেন্দ্রের প্রভাব দুই দেশের সম্পর্কের ওপরে পড়বে, এই কথা শুনে অনেকেই অবাক হতে পারেন। কিন্তু যদি একটু মন দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রচারণা লক্ষ্য করা যায় তাহলেই পানির মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে কেন এমন মনে হচ্ছে।

নন্দীগ্রাম পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একটি গ্রাম। এই অঞ্চলে মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে মৎস্য চাষ এবং ছোটখাটো ব্যবসার উপরে। হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ বছরের পর বছর সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নন্দীগ্রামে বসবাস করছেন। প্রায় ১৪ বছর আগে, হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে এখানে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন- যা সারা দুনিয়ার কাছে নন্দীগ্রামকে পরিচিত করে।

তবে হঠাৎ করে গত তিন মাসে অনেক কিছু পাল্টে গেছে নন্দীগ্রামে। এবং সেই পরিবর্তনের সূত্রপাত শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের সময় থেকে।

গেরুয়া শিবিরে যাবার পর বদলে গেছেন শুভেন্দু এবং হঠাৎ করে নন্দীগ্রামের হিন্দু-মুসলমান সৌহার্দ্য যেন হয়ে উঠেছে তাঁর চক্ষুশূল। তার প্রচারণাতে এমন সব কথা বলেছেন এই নব্য বিজেপি নেতা- যা শুনলে আঁতকে উঠবেন বাংলাদেশের মানুষ।

মমতার বিরুদ্ধে নির্বাচনী যুদ্ধে নেমে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন তা পশ্চিমবঙ্গবাসী কখনো শোনেনি। একটু দেখে নেওয়া যাক তিনি কী বলেছেন-

“তিনি মমতা ব্যানার্জি না- মমতা বেগম। তিনি রোহিঙ্গাদের খালা... তাঁর হৃদয়ে বাংলাদেশ আর পাকিস্তান।”
“ভারতের অন্য কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিজাব পরে ঈদের অনুষ্ঠানে নামাজ পড়েন না।”
“তিনি ভোটে জিতলে বাড়িতে লক্ষ্মীর পাঁচালী পড়া যাবে না, কপালে তিলক লাগানো যাবে না। মিনি পাকিস্তান, মিনি বাংলাদেশ, হয়ে যাবে এই রাজ্য।”

-এই ধরনের কথা একের পর এক মিটিংয়ে বলে গেছেন শুভেন্দু। ধর্মীয় আবেগকে উসকে দিয়ে নন্দীগ্রামের ৭৪ শতাংশ হিন্দু ভোটারদের নিজের কাছে টানতে।

এই প্রচারণার ফল কী হবে, তা হয়তো নির্বাচনের ফলাফল বেরোলেই জানা যাবে। কিন্তু বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িকতার এই বিষ যে বপন করলেন নন্দীগ্রামে, তা ছড়িয়ে যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গের অন্য প্রান্তে।

পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ মানুষ ধর্মনিরপেক্ষ এবং অন্য ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সহনশীল। সেই পরিস্থিতি কিন্তু বদলে যেতে পারে, কারণ বিজেপির অন্য প্রার্থীরা হিন্দু ভোট পাওয়ার লক্ষ্যে, একই ধরনের প্রচারণা করতে পারেন।

ভোটে জেতার জন্য শুভেন্দুর বক্তব্যের প্রভাব কী হতে পারে, তা হয়তো তিনি ভাবেননি। কিন্তু পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের মানুষরা কোনোভাবেই তাদের অপমান বরদাস্ত করবেন না, যার ফলে প্রভাব পড়তে পারে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা