kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

স্টকহোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক ১৭ই মার্চ উদযাপন

সাব্বির খান, সুইডেন থেকে   

১৭ মার্চ, ২০২১ ২৩:৪৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্টকহোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক ১৭ই মার্চ উদযাপন

১৭ মার্চ ২০২১ বুধবার বিনম্র শ্রদ্ধা-ভালোবাসার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস, স্টকহোমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২১ উদযাপিত হয়েছে। ১৭ মার্চ সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিকালে অনলাইনে জুম-প্লাটফর্মে এক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক  অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সুইডেন, নরওয়ে এবং ফিনল্যান্ডে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ অনলাইনে এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ দূতাবাস প্রাঙ্গণ থেকে যোগদান করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ শেষে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ও অনলাইনে অংশগ্রহণকারী অতিথিদের সমবেত শুদ্ধ স্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বানী পাঠ করেন দূতাবাস কর্মকর্তারা। এরপর ১৭ মার্চকে উপজীব্য করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্মিত একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। 
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন দূতাবাসের প্রথম সচিব আমরিন জাহান।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রধান বক্তা অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ‘বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চিন্তা’ বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের আগে সংগ্রামের নানা পর্যায়ে বাঙালির শিক্ষা ও সংস্কৃতির নানা বিষয় নিয়ে বঙ্গবন্ধু ভেবেছিলেন এবং গণমুখী সংস্কৃতি বিকাশের ওপরে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। সংস্কৃতির মূল কাজ, ‘মন জাগানো’ এবং বঙ্গবন্ধু মন জাগানোর কথা বলেছিলেন, মন জোগানোর নয়। তিনি বিশ্বাস করতেন সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন এবং জনগণই সব সাহিত্য ও শিল্পের উৎস। বঙ্গবন্ধু তৃণমূলের চিন্তা ভাবনাকে ধারণ করেছেন, মাটি ও মানুষ সংশ্লিষ্ট জীবনধর্মী সংস্কৃতিকে লালন করেছেন বলে যোগ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ভাষাকে বঙ্গবন্ধু সক্ষমতার কেন্দ্র মনে করতেন। কারণ যে জাতির ভাষায় শৃঙ্খলা নেই, সে জাতির কোনো কিছুতেই শৃঙ্খলা নেই। বাঙালির অহংকার আর গৌরবের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও চিন্তক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর ভাষা আন্দোলনের জন্য সংগ্রাম, চলিত ভাষায় বক্তব্য প্রদান এই সব কিছুই জীবনধর্মী এবং জনঘনিষ্ঠ ছিল। মনজুরুল ইসলাম বলেন, সংস্কৃতির শিক্ষা এবং শিক্ষার সংস্কৃতির সম্মিলন করতে পারলে শিক্ষা এবং সংস্কৃতি উভয়কে লালন করা সম্ভব।

অনলাইনে উপস্থিত সুইডেন, নরওয়ে এবং ফিনল্যান্ডে অবস্থানরত শিশু কিশোররা গান, কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন। উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বঙ্গবন্ধুর জীবনী, রাজনৈতিক দর্শন এবং বিভিন্ন অর্জন নিয়ে আলোচনা করেন। 

বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে বহু কাঙ্খিত স্বাধীনতা এনে দেন। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আমাদের কাছে অধরাই রয়ে যেত। মানুষের মুক্তির জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন তিনি। শুধু বাঙালিদের নয়, সারা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের মুক্তির কথা বলেছেন তিনি। বিশ্বের এই মহান নেতা শুধু বাংলার মানুষের বন্ধুই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বিশ্বনেতা।

বক্তারা আরো বলেন, শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর দরদ ছিল অপরিসীম। শিশুদের জন্য নিরাপদ এবং উন্নত ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করা এবং বিদেশের মাটিতে তাদের নিজ সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য লালনে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার জন্য আহবান জানান বক্তারা। 

রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যের সূচনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেই সঙ্গে তিনি  বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং বাঙালি জাতির প্রতি তাঁর অপরিসীম মমত্বের চিত্র তুলে ধরেন এবং দেশের পরিমণ্ডল ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর বিরল নেতৃত্বসুলভ উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন কালোত্তীর্ণ পুরুষ, মহাকালের সম্পদ। বাঙালি জাতি যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধুর কর্ম ও চেতনা প্রজ্বলিত হতে থাকবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা