kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পর্যালোচনা করবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

অনলাইন ডেস্ক   

১৬ মার্চ, ২০২১ ১৯:২৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পর্যালোচনা করবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ইউরোপের ১১টি দেশ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত টিকা প্রদান স্থগিত করার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিকা সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা আজ মঙ্গলবার টিকাটির পর্যালোচনা করতে বৈঠকে বসবেন। ইউরোপের কয়েকটি দেশে এই টিকা দেওয়ার পর ব্লাড ক্লট বা শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ায় টিকা প্রদান স্থগিত রাখা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ সময়ে এ ধরনের যত ঘটনা ঘটে এই সংখ্যা তার চেয়ে অস্বাভাবিক নয়।

ইউরোপের ওষুধ বিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সিও আজ বৈঠক করবে। বৈঠকের পর ধারণা করা হচ্ছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি সিদ্ধান্ত জানাবে সংস্থাগুলো। ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যের ১৭ মিলিয়ন মানুষকে এই টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে ৪০টির কম ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

অপ্রমাণিত এই দাবির সাথে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি এবং স্পেনসহ ইউরোপের ১১টি দেশে টিকাটি প্রদান স্থগিত করার যোগসূত্র থাকতে পারে। অস্ট্রিয়াসহ কয়েকটি দেশে সতর্কতা হিসেবে নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাচের টিকা প্রদান বন্ধ রেখেছে। কিন্তু বেলজিয়াম, পোল্যান্ড, চেক রিপাবলিক এবং ইউক্রেন জানিয়েছে তারা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রদান অব্যাহত রাখবে।

এদিকে, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চ্যান-ওচাকে টিকা প্রদানের মাধ্যমে দেশটিতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। তিনি এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শুক্রবার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কথা, কিন্তু ইউরোপে কয়েকটি দেশে টিকাদান স্থগিত করার পর থাই কর্তৃপক্ষ তাদের কর্মসূচি থামিয়ে দিয়েছে।

রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সোমবার সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেছিলেন, রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার ঘটনাগুলো টিকা দেওয়ার কারণে হয়েছে এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু কেন এমনটা ঘটছে সে সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোনো নিশ্চিত তথ্য ও প্রমাণ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনগণকে জানিয়ে দেবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

ইউরোপের ওষুধ বিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থা ইএমএও এই মুহূর্তে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার ঘটনা পর্যালোচনা করছে। সংস্থাটি বলছে, টিকা প্রদান চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে। ইএমএ আরো বলছে, টিকার উপকারিতার তুলনায় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঘটনা এখনো অনেক কম। যুক্তরাজ্যের ওষুধ বিষয়ক সংস্থা বলছে, টিকা দেওয়ার কারণে রক্ত জমাট বেঁধেছে, সে বিষয়ে প্রমাণ মেলেনি, এবং দেশটির নাগরিকদের যথাসময়ে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা বলছে, টিকা দেয়ার ফলে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এমন কোনো প্রমাণ নেই। সংস্থাটি বলছে, পুরো ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্য মিলে যারা টিকা দিয়েছেন তাদের মধ্যে ডিপ-ভেইন থ্রম্বোসিস ডিভিটি- মানে শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার মোট ১৫টি ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া পালমোনারি এম্বোলিজম মানে যেখানে জমাট বাঁধা রক্তের কণিকা ফুসফুসে চলে যাওয়ার ২২টি ঘটনা ঘটেছে।

এই মুহূর্তে ফাইজার বায়োএনটেকের টিকা পৃথিবীর ৭০টি দেশে দেওয়া হচ্ছে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া হচ্ছে ৬৫টি দেশে। মর্ডানার টিকা দেওয়া হচ্ছে ৩২টি দেশে এবং সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হচ্ছে ১৯টি দেশে। এ ছাড়া রাশিয়ার স্পুটনিক ভি ১৭টি দেশে, চীনের সিনোভ্যাক ১১টি দেশে দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের স্বাস্ব্যসচিব মো. আবদুল মান্নান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, বাংলাদেশ আমরা টিকা স্থগিতের মতো কোনো সিদ্ধান্ত পৌঁছেনি। যে পাঁচ-ছয়টি বা সাতটি দেশে তারা বন্ধ করেছে, তারা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে সেটা করেছে। এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা অন্য দেশগুলো থেকে লিখিতভাবে কোনো বারণ করেনি'।

'অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় যে উপাদানগুলো রয়েছে, রক্ত জমাট বাঁধার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন। যেহেতু সম্পর্ক নেই, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে এই কার্যক্রম বন্ধ করতে পারি না। কারণ বাংলাদেশের মতো দেশগুলো শতভাগ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল মেনে চলেছে,' স্বাস্থ্যসচিব বলেন।

তিনি আরো বলেন, 'অক্সফোর্ডের যে টিকা আমরা নিয়ে এসেছি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে বলে যে, এটা দেওয়া যাবে না, এটার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে যদি তারা আমাদের চিঠি দেয়, তাহলে তাহলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। আমরা অপেক্ষায় আছি'।সূত্র : বিবিসি বাংলা



সাতদিনের সেরা