kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

নিউ ইয়র্কে আলোকচিত্র প্রদর্শনী

'বঙ্গবন্ধুকে যেন কাছ থেকে দেখলাম'

শামীম আল আমিন, নিউ ইয়র্ক    

৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



'বঙ্গবন্ধুকে যেন কাছ থেকে দেখলাম'

নিউ ইয়র্কের বাঙালি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের আইএসপি ভবনের দ্বিতীয় তলায় তখন অন্য এক আবহ। যুক্তরাষ্ট্রে এমন আয়োজন হয়নি এর আগে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০০টি দুর্লভ আলোকচিত্রের প্রদর্শনীর আয়োজনকে ঘিরে তাই সবার আগ্রহটা একটু বেশি। মহান স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে, ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণেরও সূবর্ণ জয়ন্তী। এমন দিনেই মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অসাধারণ এই আয়োজনটি করা হয়। আর উপলক্ষ্যটা হচ্ছে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষ উদযাপন।

বিভিন্ন জায়গা থেকে দীর্ঘদিন ধরে এই আলোকচিত্র সংগ্রহ করেছেন মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিৎ সাহা। খ্যাতিমান আলোকচিত্রীদের তোলা এসর ছবি নিয়ে এসেছেন যত্ন করে। বাধাই করে প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম যেন বুঝতে পারে সেজন্যে ইংরেজি ও বাংলায় ক্যাপশন দিয়েছেন। এরপর প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছেন। করোনা মহামারির মধ্যে নানান সতর্কতা। সেইসব ব্যবস্থা মেনেই নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিউ ইয়র্কের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আয়োজনটি করা হয়েছে। বিশ্বজিৎ সাহা দৈনিক কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এখানে এমন সব ছবি রয়েছে যা হয়তো অনেকে আগে দেখেছেন। তবে বেশ কিছু ছবি আছে, যা হয়তো অনেকের দেখা হয়নি। তাদের কাছে সত্যিই এসব ছবি দুর্লভ'। তিনি বলেন, 'ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশ, আমাদের মহান নেতার জীবন ও কর্মকে তুলে ধরাই এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য'। 

জ্যাকসন হাইটসের প্রদর্শনীস্থলটি সুন্দর। তার ওপর আয়োজনে রয়েছে ভিন্নতা। জন্ম, শৈশব, বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া-এভাবে ইতিহাসের পরম্পরায় সাজানো হয়েছে প্রদর্শনীস্থল। একদিক থেকে দেখা শুরু করলে শেষে মনে হবে পূর্ণাঙ্গ একটি জীবন দেখছেন কেউ। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পী তাজুল ইমাম যেমনটি বলছিলেন, 'বঙ্গবন্ধুর ডাকে ১৭ বছর বয়সে ঘর পালিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। কোনোদিন মহান নেতাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়নি। এখানে এসে মনে হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকে যেন কাছ থেকে দেখলাম'।

রবিবার বিকালে প্রদর্শনীর ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। তিনি এমন অসাধারণ একটি উদ্যোগ নেওয়ার জন্যে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। প্রদর্শনীর অনত্যম সমন্বয়ক মুক্তিযোদ্ধা ডা. জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, এমন একটি উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির মহান নেতা প্রবাসে বেড়ে ওঠা পরবর্তী প্রজন্মের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেবে। একারণেই আয়োজনটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। 

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত গান শোনান স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়। তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠকে বলেন, এটি একটি বিরাট সুযোগ। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মকে এভাবে দেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্যে মুক্তধারাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ। বাবা মায়েদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, সন্তানদের নিয়ে প্রদর্শনীটি দেখতে আসুন'।

সাংস্কৃতিক সংগঠক সেমন্তী ওয়াহিদের সঞ্চালনায় বঙ্গবন্ধু স্মরণে অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন এফআরএম রাশেদুল হাসান ও স্বাধীন মজুমদার। আরো বক্তব্য রাখেন প্রদর্শনীর কিউরেটর ওবায়দুল্লাহ মামুন, সমন্বয়ক শুভ রায় এবং গোপাল সান্যাল।

গোপাল সান্যাল বলেন, 'করোনায় বিপর্যস্ত জীবনে আনন্দের একটি উপলক্ষ্য এই প্রদর্শনী। এই বছরটি আমাদের ইতিহাসের অন্যতম একটি সন্ধিক্ষণ। গৌরবের এমন সময়ে নানান সীমাবদ্ধতার পরও, এই আয়োজনটি করতে পারাটা মুক্তধারার জন্যে বিরাট কৃতিত্বের। এর মধ্য দিয়ে জাতির পিতার প্রতি প্রবাসীরা শ্রদ্ধা নিবেদনের দারুণ একটি সুযোগ পেলেন'।

শুভ রায় জানিয়েছেন, করোনা মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রদর্শনী দেখতে আসছেন অনেকে। আগ্রহীদের মধ্য থেকে ১০ জন করে দল গঠন করে প্রদর্শনী দেখার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ওপর বিভিন্ন বইয়ের প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাখা হয়েছে একটি স্মারক খাতা। সেখানে প্রদর্শনী দেখতে আসা মানুষেরা নিজেদের অনুভূতি লিখছেন। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলবে। সোম থেকে শুক্রবার, দুপুর ৩টা থেকে রাত ৮টা এবং প্রতি শনি ও রবিবার সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা