kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

একটি শেষকৃত্য ও অসাম্প্রদায়িকতার দারুণ নজির

অনলাইন ডেস্ক   

৪ মার্চ, ২০২১ ২০:৩৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



একটি শেষকৃত্য ও অসাম্প্রদায়িকতার দারুণ নজির

ভারতের কাঁথি নামক অঞ্চলে এক হিন্দু বৃদ্ধের সৎকার কাজে এগিয়ে গিয়ে নজির গড়েছেন অঞ্চলটির মুসলিম যুবকরা। ধর্মের বেড়াজাল পেরিয়ে অসহায় বৃদ্ধের সৎকার করলেন কাঁথির তহেরান হোসেন, আশরাফ আলি, শেখ রবিউল, শেখ আজিজুল ও মানিক মাইতিরা।

ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দিঘা মোহনা কোস্টাল থানা এলাকার এক অসহায় বৃদ্ধ প্রশান্ত সামন্ত গত বেশ কয়েকদিন ধরে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত বুধবার দুপুরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং কিছুক্ষণ পরেই তার মৃত্যু হয়। প্রশান্তর পরিবারের লোকজন বলতে তেমন কেউই নেই। তার একমাত্র পুত্র সন্তানেরও বেশ কয়েক বছর আগে মৃত্যু হয়েছে। স্ত্রী সৌমিলি সামন্ত থাকলেও তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ। তার ওপর স্বামীর মৃত্যুর কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন প্রশান্তর স্ত্রী। অর্থের অভাবও রয়েছে। ফলে স্বামীর মৃতদেহ আগলে হাসপাতাল চত্বরেই বসে ছিলেন সৌমিলি।

এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় এলাকায়। ঘটনাচক্রে এই খবর কানে পৌঁছায় স্থানীয় মুসলিম যুবক তেহরান হোসেনের। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান হাসপাতাল চত্বরে। ডেকে নেন বন্ধু আশরাফ আলি, শেখ রবিউল, শেখ আজিজুল ও মানিক মাইতিদের। মানিক একমাত্র হিন্দু ধর্মালম্বী হলেও বাকি সকলে মুসলিম ধর্মাবলম্বী। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে কেউই পিছপা হননি। ব্যবস্থা করেন বৃদ্ধের সৎকারের। সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিন ভ্যান ভাড়ায় করে খড়্গচন্ডী শ্মশানে দেহ নিয়ে পৌঁছান তারা। সন্ধ্যার মধ্যেই সৎকার সম্পন্ন হয়।

প্রশান্তর স্ত্রী সৌমিলি জানান, ‘এই ধরনের উপকারের কথা সারা জীবন মনে থাকবে।’ তেহরান, আশরাফ, রবিউল, আজিজুল, মানিকরা বলেন, ধর্ম-ধর্ম এই খেলা আমরা খেলি না। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোয় আমাদের কর্তব্য বলে আমরা মনে করি।

সূত্র: কলকাত ২৪*৭।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা