kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ চৈত্র ১৪২৭। ১৩ এপ্রিল ২০২১। ২৯ শাবান ১৪৪২

সু চিকে মামলার বেড়াজালে ফাঁসানোর চেষ্টা

আইনজীবীদের সঙ্গে প্রথম ‘সাক্ষাৎ’ রাজপথে বিক্ষোভ অব্যাহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক    

২ মার্চ, ২০২১ ০৩:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সু চিকে মামলার বেড়াজালে ফাঁসানোর চেষ্টা

ছবি: ইন্টারনেট

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেতা অং সান সু চির বিরুদ্ধে মামলার বেড়াজাল আরো খানিকটা বাড়িয়েছে জান্তা সরকার। গতকাল সোমবার অন্তত দুটি নতুন ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এদিকে ‘রক্তাক্ত রবিবারের’ পরও গতকাল দেশটির বিভিন্ন শহরে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ।

গত ১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানে গ্রেপ্তার করা হয় প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও স্টেট কাউন্সেলর সু চিসহ ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষস্থানীয় নেতাদের। উইন মিন্ট ও সু চিকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। গ্রেপ্তারের পর জনসমক্ষেও দেখা যায়নি তাঁদের। এমনকি সু চির সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও পাননি তাঁর আইনজীবীরা।

এ অবস্থায় গতকাল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে তোলা হয় সু চিকে। শুনানির সময় নিজের আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চান তিনি। এই আবেদন মঞ্জুর হলে তাঁকে দেখার সুযোগ পান আইনজীবীরা। সু চির আইনজীবী কিন মাউং জো জানান, ভিডিও কনফারেন্সে সু চিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ মনে হয়েছে।

অবৈধভাবে ওয়াকিটকি কেনা ও জাতীয় দুর্যোগ বিষয়ক আইন অমান্য করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় সু চিকে। কিন্তু গতকাল আরো দুটি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এর মধ্যে করোনাসংক্রান্ত বিধি-নিষেধ লঙ্ঘন এবং জনমনে ভয়ভীতি ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। আগের দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা হতে পারে সু চির। কিন্তু গতকালের দুটি অভিযোগের সর্বোচ্চ শাস্তি কী, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব মামলার কার্যক্রম আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিন মাউং জো। তিনি বলেন, ‘সু চির বিরুদ্ধে আরো কত মামলা হবে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।’

অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতি দেয়, তারা এক বছর পর নতুন নির্বাচন দেবে, কিন্তু সাধারণ মানুষ এই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করছে না। তারা অবিলম্বে গণতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। আন্দোলনকারীদের দমাতে দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে জান্তা সরকার। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত ২২ বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত রবিবার এক দিনেই মৃত্যু হয় ১৮ বিক্ষোভকারীর। তবে ‘রক্তাক্ত রবিবারের’ পরও গতকাল বিভিন্ন শহরের রাজপথে জড়ো হয়েছিল হাজারো বিক্ষোভকারী।

দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীদের প্রতিহত করতে সড়কের মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড বসিয়েছিল পুলিশ, কিন্তু বিক্ষোভকারীরা এসব ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ চড়াও হলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়। তবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ তাজা গুলি নাকি রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইয়াঙ্গুনের যে চৌরাস্তায় আগের দিন নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছিল, গতকাল সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০টি গাড়ি মোতায়েন ছিল। কয়েকটি জলকামানও ছিল সেখানে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কালে শহরে বিক্ষোভকারীরা সু চির পোস্টার নিয়ে মিছিল করেছে, তবে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীকে আগের দিনের মতো মারমুখী হতে দেখা যায়নি। গতকাল বিক্ষোভ হয়েছে মান্দালয় এবং রাজধানী নেপিডোতেও। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা