kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

ফের রক্তাক্ত মিয়ানমারের রাজপথ

গুলিতে নিহত ১৮ বিক্ষোভকারী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক    

১ মার্চ, ২০২১ ০২:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফের রক্তাক্ত মিয়ানমারের রাজপথ

ছবি: ইন্টারনেট

মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের সামনে আরেকবার নৃশংস রূপ দেখাল জান্তা সরকার। গতকাল রবিবার দেশটির বিভিন্ন শহরে পুলিশের গুলিতে ১৮ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ নিয়ে জান্তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে দেশটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২২ বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হলো।

নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং সু চিসহ বন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে চার সপ্তাহ ধরে রাজপথে বিক্ষোভ করছে লাখো মানুষ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রায় প্রতিদিনই রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার করছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তবে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় তারা।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, গতকাল সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল আন্দোলনকারীরা। অনলাইনের মাধ্যমে ডাকা এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন শহরের রাজপথে জড়ো হতে থাকে হাজার হাজার মানুষ। এর মধ্যে উপকূলীয় দায়েই শহরে বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় নিরাপত্তা বাহিনী। সেখানে কয়েকজন নিহত হয়। পাইয়ে জো হেইন নামে এক উদ্ধারকর্মী বলেন, ‘সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। আর ২০ জন আহত হয়েছে রাবার বুলেটের আঘাতে।’

দুই তরুণ বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে বাগো শহরে। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুন থেকে বাগো শহরের দূরত্ব ১০০ কিলোমিটারের মতো। থান লুইন উ নামের এক অ্যাম্বুল্যান্সচালক জানান, তিনি নিজে দুই তরুণের লাশ হাসপাতালে রেখে এসেছেন।

গতকাল ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় কম। কিন্তু জমায়েত হওয়ার আগেই তাদের উদ্দেশে গুলি চালায় পুলিশ। এতে ২৩ বছরের এক বিক্ষোভকারীসহ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। আরেক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে মান্দালয় শহরে। সেখানে গুরুতর অবস্থায় আরেক বিক্ষোভকারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তবে তাঁর মাথায় গুলি লেগেছে কি না, তা তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের মুখপাত্র রাবিনা শামদাসানি বলেন, ‘মিয়ানমারের অনেক শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বল প্রয়োগ করেছেন। বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, গতকাল অন্তত ১৮ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।’

গত নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপড়েন চলছিল। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। গ্রেপ্তার করা হয় স্টেট কাউন্সেলর সু চি ও প্রেসিডেন্ট উয়িন মিন্টসহ ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির’ (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের। জারি করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা। সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এক বছর পর নতুন নির্বাচন দেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষ এই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করছে না। তারা অবিলম্বে গণতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে রাজপথে নেমেছে।

গ্রেপ্তারের পর থেকে সু চিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। করোনা মহামারির বিধিনিষেধ লঙ্ঘন ও অবৈধ ওয়াকিটকি কেনার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তাঁকে। ওই মামলায় আজ সোমবার আদালতে তোলা হতে পারে সু চিকে। তবে সু চির সঙ্গে তাঁর আইনজীবী খিন মাউং জো এখনো সাক্ষাৎ করতে পারেননি। মাউং জো গতকাল বলেন, ‘আমি আদালতের ওপর আস্থা রাখতে চাই। তবে যে পরিস্থিতি চলছে, তাতে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।’

এ দিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের দূত কায়ো মোয়েকে গতকাল বরখাস্ত করেছে জান্তা সরকার। আগের দিন জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে ‘আবেগী’ বক্তব্য দিয়েছিলেন মোয়ে। তিনি অনুরোধ করেছিলেন, কোনো দেশ কিংবা সংস্থা যেন জান্তা সরকারকে সমর্থন কিংবা সহযোগিতা না করে। জাতিসংঘের একটি সূত্র জানিয়েছে, জান্তা সরকার বরখাস্ত করলেও কায়ো মোয়ে এখনো রাষ্ট্রদূত হিসেবেই গণ্য হবেন। কারণ জাতিসংঘের কাছে জান্তা সরকারের বৈধতা নেই। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা