kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

স্টকহোম দূতাবাসে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

সাব্বির খান, সুইডেন থেকে   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্টকহোম দূতাবাসে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সুইডেনে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে পালিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশটির রাজধানী স্টকহোমে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিকালে অনলাইনে জুম প্লাটফর্মে একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য নিয়ে এক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ অনুষ্ঠানে সুইডেন, নরওয়ে এবং ফিনল্যান্ডে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অনলাইনে এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ দূতাবাস প্রাঙ্গণ থেকে যোগদান করেন। রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দূতাবাসের প্রথম সচিব জাহান আমরিন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ শেষে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ও অনলাইনে অংশগ্রহণকারী অতিথিদের সমবেত শুদ্ধ স্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর এক মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এরপর রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বানী পাঠ করেন দূতাবাস কর্মকর্তারা। এরপর মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র এবং একুশের গান নিয়ে আরেকটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় ভাগে অনলাইনে উপস্থিত সুইডেন, নরওয়ে এবং ফিনল্যান্ডে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্যের ওপর আলোকপাত করে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপট, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস এবং বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা অর্জনে অমর একুশের সুদূরপ্রসারী প্রভাবের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, সার্বজনীন ও বহুল প্রচলিত বাংলা ভাষা প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিশ্ব দরবারে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলা ভাষাকে হৃদয়ে ধারণ করে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একুশের চেতনাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে সকলকে একযোগে কাজ করার জন্য বক্তারা আহবান জানান।

একই সঙ্গে আলোচনায় বিদেশে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তারা জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করা, আদালতের রায় প্রকাশে বাংলা ভাষার ব্যবহার সুনিশ্চিত করা এবং সুইডেন ও ফিনল্যান্ডে স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করেন।  

রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ভাষাশহীদদের অবদান, ভাষা আন্দোলন ও তৎপরবর্তী সব আন্দোলনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। 

এছাড়াও বাংলা ভাষার জন্য এবং পরবর্তীতে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য যে সকল ব্যক্তিত্ব অবদান রেখেছেন তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান। রাষ্ট্রদূত জানান, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডে স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের ব্যাপারে দেশগুলোর প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য উৎসাহিত করতে তিনি অভিভাবকদের ভূমিকা রাখার ব্যপারে গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ইউনেস্কো কর্তৃক একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভ করায় আমাদের দায়িত্ব সুপ্রসারিত হয়েছে। মাতৃভাষা বাংলাকে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি পৃথিবীর অন্য সকল মাতৃভাষাকেও সংরক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন পূর্ণতা লাভ করবে।



সাতদিনের সেরা