kalerkantho

শনিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৪ রজব ১৪৪২

ব্রিটেন থেকে ফেরত যেতে ইইউ নাগরিকদের আর্থিক প্রণোদনা

জুয়েল রাজ, লন্ডন থেকে   

২৯ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রিটেন থেকে ফেরত যেতে ইইউ নাগরিকদের আর্থিক প্রণোদনা

যুক্তরাজ্য ছেড়ে নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার বিনিময়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)-এর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের আর্থিক প্রণোদনার প্রস্তাব দিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। আগামী ৩০শে জুন ‘ইইউ সেটেলমেন্ট স্কিম (ইইউএসএস)’-এর আওতায় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ইইউ নাগরিকদের দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করার শেষ তারিখ। এর আগেই স্বেচ্ছায় যুক্তরাজ্য ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে তাদের চলতি বছরের শুরু থেকে এমন আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ইইউ নাগরিকদের ফ্লাইটের খরচসহ ২ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। ব্রিটেন থেকে ইইউ অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় চলে যেতে উৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে অসুরক্ষিত ইইউ নাগরিকদের সহায়তার জন্য কাজ করা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এই পুনর্বাসন অর্থ দানের উদ্যোগ সরকারের নিজস্ব দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেননা, সরকারের ভাষ্যমতে, ইইউ নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসতি গড়ায় উৎসাহিত করতে সবদিক থেকেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

পাবলিক ইন্টারেস্ট ল সেন্টারে ইইউ নিয়ে একটি প্রকল্পের পরিচালক বেনজামিন মরগান। তিনি বলেন, এটি স্পষ্ট যে, সবচেয়ে অসুরক্ষিত ইইউ নাগরিক এখনো তাদের বসবাসের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেননি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তহীনতা ও আবেদনের ক্ষেত্রে নানা বাঁধাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, সরকার জানিয়েছিল, ব্রেক্সিটের পর অসুরক্ষিত ইউরোপিয়ানদের অধিকার রক্ষা করা হবে। কিন্তু একদিকে স্থায়ী আবাসন ও আরেকদিকে স্বেচ্ছায় ফেরত যাওয়ার এই মিশ্র বার্তায় সরকারের দাবি বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।

এদিকে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছে, কেউ কেউ হয়তো ইউএসএস প্রকল্পের আওতায় স্থায়ী আবাসন চান না বা আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ব্রিটেনে থাকতে চান না। তাই আমরা অংশীদারদের লিখিতভাবে জানিয়েছি যে, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইএ) কোনো নাগরিক যদি যুক্তরাজ্য ছেড়ে চলে যেতে চান তাহলে তারা স্বেচ্ছায় পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সহায়তা পাবেন।

সম্প্রতি দাতব্য সংস্থা জয়েন্ট কাউন্সিল ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অব ইমিগ্রেন্টস (জেডব্লিউসিআই)-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে থাকার আইনি অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে হাজারো ইইউ শ্রমিক। এরই মধ্যে ইইউ নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরতে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবের খবর প্রকাশ হলো।

জেডব্লিউসিআই’র ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সেবা, নির্মাণ, উৎপাদন ও কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী হাজারো ইইউ শ্রমিক যুক্তরাজ্যে থাকার আইনি অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন ও তাদের ব্র্রিটেন ছাড়তে বাধ্য করা হতে পারে।

দাতব্য সংস্থাটি জানায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ অবধি যুক্তরাজ্যে বাসরত ২৯৫ জন ইইউ শ্রমিকের উপর জরিপ চালিয়েছে তারা। এতে দেখা গেছে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি সাত জনের মধ্যে একজন ইউএসএস প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করা নিয়ে দ্বিধায় ভুগছেন। প্রতি তিন জনের মধ্যে একজন এ বিষয়ে সংস্থাটির প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার আগে ইইউএসএস প্রকল্প ও এর সময়সীমা সম্পর্কে জানতেনই না।

জেডব্লিউসিআই তাদের প্রতিবেদনে, ইইউএসএস প্রকল্পের আওতায় আবেদনের সময়সীমা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বিশেষ করে কম মজুরি, অরক্ষিত চুক্তি ও দরিদ্র শিল্পগুলোয় কর্মরত শ্রমিকরা এই প্রকল্প থেকে বাদ পড়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। যারা যথাসময়ে আবেদন করতে পারবেন না, তারা বন্দি হওয়া, দেশত্যাগে বাধ্য হওয়া, এমনকি অপরাধী হিসেবে শনাক্ত হতে পারেন।

একই রকম সতর্কবার্তা দিয়েছে অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা মাইগ্রেশন অবজারভেটরি। তারা বলেছে, ৩০শে জুনের মধ্যে ইউএসএস প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত না হওয়ার ঝুঁকিতে আছে কিছু গোষ্ঠী।

তবে ব্রিটিশ অভিবাসনমন্ত্রী কেভিন ফস্টার বলেন, জেডব্লিউসিআই’র প্রতিবেদনটি ইইউএসএস প্রকল্প নিয়ে অবিশ্বাস্যরকমের বিভ্রান্তিকর ধারণা তুলে ধরেছে। কেননা, তারা এক বছর আগে ৩০০ জনেরও কম সংখ্যক মানুষের উপর চালানো জরিপের উপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন লিখেছে। তিনি বলেন, এরপর থেকে প্রকল্পটির আওতায় লাখ লাখ আবেদন জমা পড়েছে। এখন অবধি আমরা ৪৯ লাখ আবেদন পেয়েছি।

আবেদনের সময়সীমা শেষ হতে ছয় মাসেরও কম সময় বাকি আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের আইনের আওতায় নিজের অধিকার সুরক্ষিত করতে আমি এখনই সবাইকে আবেদন করতে আহ্বান জানাচ্ছি। আবেদন করার বিষয়ে প্রয়োজন হলে অনলাইন ও টেলিফোনের মাধ্যমে বিস্তৃত পরিসরে সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ যেন বাদ না যায় তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যজুড়ে আমরা ৭২টি সংস্থাকে অর্থায়ন করছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা