kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

চীন সরকারের সমলোচনা করে গ্রেপ্তার, কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন তারা?

অনলাইন ডেস্ক   

২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ১৯:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীন সরকারের সমলোচনা করে গ্রেপ্তার, কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন তারা?

জু জিয়ং (বাঁয়ে) ও ডিং জিয়াসি (ডানে)।

পূর্ব চীনের শানডং প্রদেশের কাউন্টি লিন্সুর ডিটেনশন সেন্টারে ডিং জিয়াসি এবং জু জিয়ংকে আটকে রাখা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ডিং জিয়াসির স্ত্রী লুও শেংচুন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, আটক দুজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি এবং জু জিয়ংয়ের পরিবার তিনজন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন। শানডং প্রদেশের লিনিয়ায় প্রসিকিউটরদের সঙ্গে দেখা করেছেন আইনজীবীরা। সেই সঙ্গে তারা আটক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করার জন্য অনুমতিও চান।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, লিয়াং জিয়াজুন, ঝাং লেই এবং পেং জিয়ান নামের ওই তিন আইনজীবী বলেছেন, তাদেরকে সাক্ষাৎকার নেওয়া বা মামলা নিয়ে আলোচনা না করার কথা বলা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তারা।

তাদের মামলাগুলো নিয়ে কাজ করছে এমন সূত্রের বারত দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, ৫৩ বছয় বয়সী ডিং জিয়াসি ও ৪৭ বছয় বয়সী জু জিয়ংয়ের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা উৎখাত’-্এর অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অভিযোগের বিচার করা হবে। সূত্রটি জানিয়েছে, আইনজীবীদের কাছে বলা হয়েছিল যে মামলার সঙ্গে ৪০টি ফাইল যোগ করা হয়েছে। তার সবগুলোকে শ্রেণিবদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক উ ইয়াংয়েই বলেন, প্রসিকিউটররা এই দুজনকে আরো বেশিদিনের সাজা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মামলার ফাইল শ্রেণিবদ্ধ ঘোষণার অর্থ হলো অভিযুক্তদের পক্ষে যিনি কথা বলতে চান তার মুখ বন্ধ করা। তিনি আরো বলেন, মামলাগুলো শ্রেণিবদ্ধ তথ্য হিসেবে ঘোষণা করার ঘটনা বিরল। এই পদক্ষেপটি তাদের প্রভাব হ্রাস করার লক্ষ্যে করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তাদের নিয়ে কোনো আলোচনা বা অ্যাক্টিভিজম থাকতে পারবে না।

আটক দুজন ‘নিউ সিটিজেনস মুভমেন্ট’ নামের নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীর সদস্য। এ গোষ্ঠীটি সংবিধান সংস্কার, শিশুদের শিক্ষার অধিকার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচারণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করেছিল। ২০১২ সালে ওই বিষয়গুলো নিয়ে প্রচারণা শুরু হয়। 

ডিং জিয়াসি ছিলেন একজন আইনজীবী। ২০১৪ সালের দিকে তার আইনজীবীর লাইসেন্স বাতিল করা হয়। সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আয়োজনের পরেই তিনি আইনজীবীর লাইসেন্স হারান। জু জিয়ং ছিলেন দেশটির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রভাষক। গ্রামীণ বাচ্চাদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে প্রচারণা চালানোর কারণে তাকে আটক করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন। গত বছরের গোড়ার দিকে তিনি উহানের করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা নিয়ে খোলামেলা সমালোচনা করেছিলেন।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জিমিয়ান শহরে নাগরিক অধিকার আইনজীবী ও কর্মীদের বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরে ডিং জিয়াসি ও জু জিয়ংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই বৈঠকে ‘চীনে গণতন্ত্রের উদ্ধার’ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে আরো একজন অংশগ্রহণকারী ছিলেন। তিনি হলেন মানবাধিকার আইনজীবী চ্যাং ওয়েইপিং। তাকেও শানসি প্রদেশে আটক করা হচ্ছে। 

লুওয়ের মতে, গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে পরিবারের সবাইকে ডিং জিয়াসির অবস্থা সম্পর্কে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। ডিং জিয়াসির স্ত্রী লুও শেংচুন জানান, তিনি তার স্বামীর কাছে ২১টি চিঠি লিখেছিলেন এবং তাকে প্রত্যেকটিতেই উত্তর দেওয়া কথা বলা হতো। তিনি বলেন, আমি একটি চিঠিরও উত্তর পাইনি।

সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা