kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

এখানে-সেখানে ভাসছে দেহাবশেষ জামাকাপড়

► জাকার্তায় সাগরে বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্স শনাক্ত
► ফের প্রশ্নের মুখে দেশটির বিমান ব্যবস্থাপনা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ জানুয়ারি, ২০২১ ০৩:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এখানে-সেখানে ভাসছে দেহাবশেষ জামাকাপড়

ইন্দোনেশিয়ায় সাগরে বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্সের অবস্থান শনাক্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ব্ল্যাক বক্সের ওই এলাকায়ই বিমানটির সন্ধান পাওয়া যাবে। তবে বিমানের সন্ধান না মিললেও সাগরের এখানে-সেখানে ভেসে উঠছে দেহাবশেষ, জামাকাপড় ও লাইফ জ্যাকেটসহ নানা জিনিসপত্র। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানের কোনো আরোহীর জীবিত থাকার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার বিমান পরিবহন ব্যবস্থা আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। পুরনো বিমান ব্যবহার ও দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে।

গত শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে জাকার্তা থেকে ৬২ আরোহী নিয়ে পশ্চিম কালিমান্তান প্রদেশের উদ্দেশে রওনা হয় বোয়িং ৭৩৭-৫০০ বিমানটি। কিন্তু উড্ডয়নের চার মিনিট পরেই সাগরে বিধ্বস্ত হয় শ্রীবিজয়া এয়ারলাইনসের বিমানটি। গতকাল রবিবার দেশটির পরিবহনমন্ত্রী বুদি কারিয়া জানিয়েছেন, বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে লাকি দ্বীপের কাছাকাছি কোনো এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

এদিকে লাকি দ্বীপের আশপাশের এলাকা থেকে দুটি সংকেত পাওয়া গেছে। একটি সংকেত বিধ্বস্ত বিমান থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ওই এলাকায় এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনের দেহবাশেষ পাওয়া গেছে। উদ্ধারকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গতকাল বিকেল পর্যন্ত তারা পাঁচটি ব্যাগ গ্রহণ করেছে, যেগুলোতে দেহাবশেষ ছিল। সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, শিশুদের গোলাপি রঙের একটি জামা, বিমানের ভাঙা চাকা ও টায়ার এবং লাইফ জ্যাকেটও পাওয়া গেছে। বিমানের ৬২ আরোহীর সবাই ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। তাদের মধ্যে ১০ শিশুও ছিল।

ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াহিউদ্দিন আরিফ জানান, বিমানের সম্ভাব্য একটি টুকরা পাওয়া গেছে। সেটি দৈর্ঘ্যে এক মিটারের মতো।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন সুরক্ষাবিষয়ক কমিটির প্রধান সোয়েরজান্তো তিজাহজোনো বলেন, ‘আমরা বিমানের দুটি ব্ল্যাক বক্সের সন্ধান পেয়েছি। আশা করছি, ডুবুরিরা অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হবেন।’

মেরিন পুলিশের পরিচালক মুহাম্মদ ইয়াসিন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, লাকি ও লানচাং দ্বীপের বাইরের দিকের একটা নির্দিষ্ট এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ওই এলাকায় সাগরের গভীরতা ২০ থেকে ২৩ মিটার।

গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ জানা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশির ভাগ বিমান দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ থাকে। আর সেগুলো শনাক্ত করতে ন্যূনতম সময় প্রয়োজন। তবে বিমানের ব্ল্যাক বক্স হাতে পেলে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর মিলবে।

বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি ২৭ বছরের পুরনো। এর আগে ২০১৮ সালের অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান বিধ্বস্ত হলে ১৮৯ আরোহীর সবাই নিহত হয়। ওই ঘটনায় আড়াই কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেয় বোয়িং। তবে ইন্দোনেশিয়ার বিমান চলাচল ব্যবস্থাও অনেক দুর্বল। আর দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে ইন্দোনেশিয়ার এয়ারলাইনসকে একবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের আকাশসীমায় নিষিদ্ধ করা হয়। ২০১৪ সালে এয়ারএশিয়ার একটি বিমান সুরাবায়া থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার পথে বিধ্বস্ত হয়। তাতে মৃত্যু হয় ১৬২ জনের। পরে তদন্তে উঠে আসে, পুরনো রাডার ব্যবস্থাপনা ও দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা