kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

নিঃসঙ্গ নতজানু ট্রাম্প

► দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ
► নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ
► ট্রাম্পের পারমাণবিক কোড নিষ্ক্রিয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ জানুয়ারি, ২০২১ ০২:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিঃসঙ্গ নতজানু ট্রাম্প

ক্ষমতার লোভে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ সময়ে এসে একেবারে একা হয়ে পড়েছেন। কংগ্রেস ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের নজিরবিহীন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন তাঁর হাতেই গঠিত মন্ত্রিসভার দুই সদস্য। শুধু একা হয়ে পড়াই নয়, আগামী ১২ দিন ক্ষমতায় থাকাও ট্রাম্পের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা অনেকেই চান, তাঁকে ২০ জানুয়ারির আগেই ক্ষমতা থেকে সরানো হোক। অভিশংসনের আলাপও তুলেছেন কেউ কেউ। আর ট্রাম্পকে আগেভাগে সরানোর পক্ষে আছেন তাঁর একসময়ের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাও।

এদিকে ক্যাপিটল হিলের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ মৃত্যু হয় এক পুলিশ কর্মকর্তার, যিনি ট্রাম্প সমর্থকদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর নাম ব্রায়ান ডি সিকনিক।

নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের বিজয়কে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে গত বুধবার মার্কিন কংগ্রেসে যৌথ অধিবেশন বসে। ওই সময় ‘ট্রাম্পের আহ্বানে’ সেখানে হামলা চালায় তাঁর কয়েক হাজার সমর্থক। তারা নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় এবং কংগ্রেস ভবনে ঢুকে পড়ে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও পিপার স্প্রে ব্যবহার করে পুলিশ। কিন্তু ট্রাম্প সমর্থকরা এর মধ্যেই চার ঘণ্টা ধরে জ্বালাও-পোড়াও ও ভাঙচুর চালাতে থাকে।

কংগ্রেস ভবনে নজিরবিহীন ও ন্যক্কারজনক ওই হামলার পর ‘নিয়মতান্ত্রিকভাবে’ বাইডেনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার রাতে সেই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তবে উত্তরসূরি হিসেবে বাইডেনের নাম উচ্চারণ করেননি ধনকুবের থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া ট্রাম্প। টুইটারে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা মাত্রই একটা অস্থির নির্বাচন পার করলাম। সবাই অনেক আবেগী ছিল। কিন্তু এখন শান্ত হওয়ার সময় এসেছে। আগামী ২০ জানুয়ারি নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় আসবে। আমার প্রধান মনোযোগ এখন শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।’

আগের দিন হামলাকারীদের প্রশংসা করলেও ভিডিও বার্তায় কংগ্রেসে হামলার নিন্দা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, হামলাকারীরা গণতন্ত্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। পরে এক টুইট বার্তায় তিনি রীতি ভঙ্গ করার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘আমি নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেব না।’  

এদিকে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নিজেকে ক্ষমা করতে পারেন কি না সে বিষয়ে ট্রাম্প নিজের আইনজীবী ও উপদেষ্টাদের কাছে জানতে চেয়েছেন।

২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে থাকতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি থেকে শুরু করে ট্রাম্পের একসময়কার চিফ অব স্টাফ জন কেলি—অনেকেই চান যে ট্রাম্পকে আগেভাগেই ক্ষমতা থেকে সরানো হোক। ট্রাম্পকে সরাতে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করতে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে আহ্বান জানিয়েছেন ন্যান্সি পেলোসি। একই আহ্বান জানিয়েছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার। ২৫তম সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভা যদি মনে করে যে প্রেসিডেন্ট মানসিক কিংবা শারীরিকভাবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য, তাহলে তাঁকে সরিয়ে দিতে পারবে। ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করা না গেলে বিকল্প হিসেবে ট্রাম্পকে অভিশংসনের কথাও বলেছেন হাউস স্পিকার।

তবে ২৫তম সংশোধনী কিংবা অভিশংসন—এর কোনোটি প্রয়োগ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, এই দুটি ক্ষেত্রে পার্লামেন্টে ট্রাম্পের বিপক্ষে যত ভোট দরকার তা নেই।

ট্রাম্পের একসময়কার চিফ অব স্টাফ জন কেলি বলেছেন, ‘আমি যদি মন্ত্রিসভার সদস্য হতাম, তাহলে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের পক্ষেই অবস্থান নিতাম।’

এদিকে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্রের বোতাম চাপার ক্ষমতা থেকে ভারসাম্যহীন ট্রাম্পকে নিষ্ক্রিয় করতে তিনি জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলের সঙ্গে কথা বলেছেন।

ক্ষমতা-সায়াহ্নে এসে ক্রমে একা হয়ে পড়ছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের চার কর্মকর্তা সরে দাঁড়ানোর পর মন্ত্রিসভার দুই সদস্যও পদত্যাগ করেছেন। তাঁরা হলেন শিক্ষামন্ত্রী বেটসি ডেভোস ও পরিবহনমন্ত্রী ইলাইন শাও। ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় এই দুজনই নারী সদস্য ছিলেন। পৃথক বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, কংগ্রেসে হামলার পর তাঁদের পক্ষে আর দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক একাধিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয়েছে ট্রাম্পের। এমনকি ট্রাম্প নাকি অনেকের সামনেই পেন্সের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, “পেন্সের বিশ্বাসঘাতকতায় প্রেসিডেন্ট সবচেয়ে বেশি মর্মাহত হয়েছেন এবং কোনোমতেই তিনি তা মেনে নিতে পারছেন না। ট্রাম্প বারবার বলছেন যে ‘আমি তাকে ক্ষমতায় বসালাম, আর সে কি না আমার পিঠেই ছুরি চালাচ্ছে।” সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা