kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭। ৪ মার্চ ২০২১। ১৯ রজব ১৪৪২

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

৭ কোটি ভোট পাওয়া ট্রাম্প কি রাজনীতি থেকে বিদায় নেবেন?

অনলাইন ডেস্ক   

১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৯:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৭ কোটি ভোট পাওয়া ট্রাম্প কি রাজনীতি থেকে বিদায় নেবেন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

অবশেষে ইলেকটোরাল কলেজের ভোটেও জো বাইডেনের পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়া নিশ্চিত হয়ে গেছে। তিনি ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২টি। এখন মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউস ছাড়তে হবে। কিন্তু তার সঙ্গেই কি মার্কিন রাজনীতির রঙ্গমঞ্চ থেকে ট্রাম্পের প্রস্থান ঘটবে? কিছু বিশ্লেষক বলছেন, হয়তো না।

মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টে পিটার বেকার ও ম্যাগি হেবারম্যান লিখেছেন, হয়তো দেখা যেতে পারে যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার ক্ষমতা - যা ভাবা হয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি। হয়তো তিনি মার্কিন রাজনীতিতে একটি জোরালো শক্তি হিসেবে রয়ে যেতে পারেন - যার মোকাবেলা করা কঠিন হতে পারে।

এমন ধারণার কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় সাত কোটির কাছাকাছি ভোটারের ভোট পেয়েছেন - যা ২০১৬ সালে তিনি যে ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন তার চেয়ে অনেক বেশি।

পপুলার ভোটের প্রায় ৪৮ শতাংশ পেয়েছেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর অর্থ হলো চার বছর ধরে তাকে নিয়ে নানা রকম কেলেংকারি, রাজনৈতিক বিপর্যয়, অভিশংসন, করোনাভাইরাস - এই সব কিছু সত্ত্বেও তার পক্ষে আছে আমেরিকান জনগণের প্রায় অর্ধেকের সমর্থন।

নিকট অতীতে এক মেয়াদ পরই ভোটে হেরেছিলেন এমন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ডেমোক্র্যাট জিমি কার্টার এবং রিপাবলিক জর্জ এইচ বুশ সিনিয়র। তাদের কারোরই ভোটের সংখ্যার বিচারে ট্রাম্পের মতো ক্ষমতার ভিত্তি ছিল না।

ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে নিজের একটি টিভি নেটওয়ার্ক চালু করার কথা বলেছেন, যার লক্ষ্য হচ্ছে ফক্স নিউজের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া। তা ছাড়া ২০২৪ সালে আবার প্রার্থী হওয়ার আভাসও দিয়েছেন তিনি- যদিও তখন তাঁর বয়স হবে ৭৮। আর নির্বাচনে তিনি যদি আবার প্রার্থী না-ও হন, তাহলেও টুইটারে তাঁর ৮৮ মিলিয়ন ফলোয়ার তো আছেন।

ফলে এমন হতে পারে যে আমেরিকার দক্ষিণপন্থীদের মধ্যে তিনি হয়ে উঠতে পারেন এক অত্যন্ত প্রভাবশালী কণ্ঠ। হয়তো এ কারণেই রিপাবলিকান মহলে পরবর্তী তারকা নেতা কে বা কারা হবেন - তা নির্ধারণে ট্রাম্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

হযতো এটা মাথায় রেখেই ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পরপর সাবেক অ্যারিজোনা সিনেটর জেফ ফ্লেক বলেছিলেন, "নির্বাচনের ফল থেকে এটা পরিষ্কার যে ট্রাম্পের বিপুল জনসমর্থন আছে এবং তাঁর এখনই মঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।"

অবশ্য আমেরিকার রাজনীতিতে ট্রাম্পের ভূমিকা জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও থাকবে - এমন ধারণার সঙ্গে সবাই একমত নন। সাবেক কংগ্রেস সদস্য ফ্লোরিডার কার্লোস কারবেলো বলছেন, 'আমরা আর কখনোই আরেকটি ডোনাল্ড ট্রাম্প দেখতে পাব না। তার নকল কেউ বেরোলেও তারা ব্যর্থ হবে, এবং ট্রাম্প নিজেও ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাবেন। তবে আমেরিকার ইতিহাসে তাঁর শাসনকাল যে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, তাঁর ক্ষতচিহ্ন হয়তো কোনো দিনই মুছবে না।'

এটা সত্যি যে জেরাল্ড ফোর্ড, জিমি কার্টার বা জর্জ এইচ বুশ - যাঁরা এক মেয়াদ পরেই হোয়াইট হাউস থেকে উৎখাত হয়েছেন - তাঁরা কেউ কেউ চেষ্টা করলেও রাজনীতির মঞ্চে আর ফিরে আসতে পারেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা