kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রাশিয়ায় টিকা প্রয়োগ শুরু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক    

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০২:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাশিয়ায় টিকা প্রয়োগ শুরু

করোনা মহামারি মোকাবেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে করোনার টিকা প্রয়োগ শুরু করেছে রাশিয়া। আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন এমন স্বাস্থ্যকর্মীদের শরীরে প্রয়োগের মধ্য দিয়ে গতকাল এই কার্যক্রম শুরু করে পুতিন প্রশাসন। এদিকে যুক্তরাজ্যের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে পারস্য উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন। 

অন্যদিকে স্পেন ঘোষণা দিয়েছে, আগামী জুনের মধ্যে তারা এক-তৃতীয়াংশ নাগরিককে টিকা দেবে। আর ৬০ লাখ ডোজ টিকা কিনতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান মডার্নার সঙ্গে চুক্তি করেছে ইসরায়েল। তবে এসব অগ্রগতির মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, শুধু টিকা দিয়ে কভিড-১৯ নির্মূল করা সম্ভব নয়।

রাশিয়ায় আপাতত মস্কো শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের ‘স্পুিনক ভি’ টিকা দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বসানো হয়েছে ৭০টি কেন্দ্র। ২১ দিনের ব্যবধানে দুই ডোজে এই টিকা প্রয়োগ করা হবে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব স্বাস্থ্যকর্মীর বয়স ৬০ বছরের বেশি, যাঁরা দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছেন এবং যাঁরা গর্ভবতী কিংবা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন, তাঁদের এই টিকা দেওয়া হচ্ছে না। গত সপ্তাহে রাশিয়া জানায়, ‘স্পুিনক ভি’ ৯৫ শতাংশ কার্যকর। এটি দামেও সস্তা এবং তুলনামূলকভাবে সংরক্ষণ করা সহজ। তবে এই টিকা কবে জনসাধারণকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে মস্কো কিছু জানায়নি। এ ছাড়া এই টিকার পরীক্ষা এখনো সম্পন্ন হয়নি।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ঘোষণা দিয়েছেন, দেশটির মোট জনগোষ্ঠীর (চার কোটি ৭০ লাখ) এক-তৃতীয়াংশকে আগামী জুনের মধ্যে টিকা দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি শুরু হবে আগামী মাসে। তবে টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক নয় বলেও জানান তিনি। এরই মধ্যে সাড়ে ১০ কোটি ডোজ টিকা কেনার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে স্পেন সরকার।

মার্কিন প্রতিষ্ঠান মডার্নার কাছ থেকে টিকা কিনবে ইসরায়েল। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গত শুক্রবার একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২১ সালের মধ্যে ইসরায়েলকে ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেবে মডার্না। এর আগে গত নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, ২০২১ সালের মধ্যে ফাইজার-বায়োএনটেকের কাছ থেকে ৮০ লাখ ডোজ টিকা কেনা হবে।

আগামী মার্চের মধ্যে ১০ থেকে সাড়ে ১২ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মডার্না। এর সাড়ে আট থেকে ১০ কোটি ডোজ বিতরণ করা হবে যুক্তরাষ্ট্রে। বাকি টিকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হবে। আর অন্যান্য দেশে যেসব টিকা পাঠানো হবে, সেগুলোর উৎপাদন হবে সুইজারল্যান্ডে।

ডাব্লিউএইচওর জরুরি বিভাগের প্রধান মাইকেল রায়ান বলেছেন, ‘করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে টিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু টিকার মাধ্যমে সংক্রমণকে শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব নয়। কারণ আগামী বছরের শুরুতেই বিশ্বের সবার পক্ষে টিকা নেওয়া সম্ভব হবে না।’

এদিকে বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে শনাক্ত কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় কোটি ৬৩ লাখে। এর মধ্যে গত শুক্রবার শনাক্ত হয়েছে অন্তত ছয় লাখ ৮৪ হাজার মানুষ। মৃতের সংখ্যা ১৫ লাখ ২৭ হাজারের বেশি। সেরে ওঠার সংখ্যাও কম নয়, চার কোটি ৬০ লাখের বেশি। চিকিৎসাধীন এক কোটি ৮৮ লাখ মানুষ। এদের মধ্যে মৃদু উপসর্গ রয়েছে এক কোটি ৮৭ লাখ মানুষের (৯৯.৪ শতাংশ)। অন্যদের (.৬ শতাংশ) অবস্থা আশঙ্কাজনক। আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার ৩ শতাংশ। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা